সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৩, ২:৫০ পিএম

বাঁশি থেকে ফুসফুস করে আওয়াজ বের হওয়া তো আমরা বন্ধ করলাম, এবার সময় এসেছে সুরের আসল সাতটি রঙ বা ‘সারগাম’ (সা-রে-গা-মা-পা-ধা-নি) চিনে নেওয়ার! বাঁশিতে নিজের পছন্দের যেকোনো গান তুলতে চাইলে এই সারগাম ঠিকঠাক বাজাতে পারাটাই কিন্তু আপনার আসল ভিত্তি।
অনেকেই বুঝতে পারেন না কোন আঙুল দিয়ে কোন ফুটো বা ছিদ্র বন্ধ করলে কোন স্বরটি বাজবে। আপনার এই কনফিউশন দূর করতে গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্কের এই পর্বে হাজির হয়েছেন বাঁশিবাদক মুস্তাকীম আবীর। আজ আমরা জানব “পর্ব ০৪: কীভাবে বাঁশিতে সারগাম বাজাতে হয়” ক্লাসের মূল জাদুটি:
Table of Contents
বাঁশিতে সারগাম বাজানো মানে কেবল ফুঁ দেওয়া নয়, এটি হলো আপনার আঙুলের সঠিক অবস্থান আর বাতাসের পরিমাপের এক দারুণ খেলা। আবীর ভাই এই ভিডিওতে খুব সহজে আঙুল বসানোর নিয়মগুলো দেখিয়েছেন:
সাধারণত বাঁশির প্রধান ৬টি ছিদ্রের ওপর আমাদের দুই হাতের তিনটি করে মোট ৬টি আঙুল বসে।
ওপরের তিনটি ছিদ্র: এগুলো বন্ধ করা হয় বাম হাতের তর্জনী, মধ্যমা এবং অনামিকা আঙুল দিয়ে।
নিচের তিনটি ছিদ্র: এগুলো বন্ধ করা হয় ডান হাতের তর্জনী, মধ্যমা এবং অনামিকা দিয়ে।
আঙুলগুলো যেন একদম রিল্যাক্স বা আলতো করে ছিদ্রের ওপর বসে। খুব জোরে চেপে ধরার দরকার নেই, শুধু খেয়াল রাখবেন বাতাস যাতে একটুও লিকেজ না হতে পারে।
আবীর ভাই ভিডিওতে ধাপে ধাপে স্বরগুলো বাজিয়ে দেখিয়েছেন:
সা (Sa): ওপরের তিনটি ছিদ্র সম্পূর্ণ বন্ধ করে স্বাভাবিক ফুঁ দিলে বাজবে ‘সা’।
রে (Re): এবার নিচ থেকে একটা আঙুল তুলুন (অর্থাৎ ওপরের মাত্র দুটি ছিদ্র বন্ধ থাকবে)।
গা (Ga): আরও একটা আঙুল তুললে বাজবে ‘গা’ (অর্থাৎ শুধু প্রথম ছিদ্রটি বন্ধ থাকবে)।
মা (Ma): ওপরের সব কটি ছিদ্র যখন খোলা থাকবে, তখন বাজবে ‘মা’।
পা (Pa): সব কটি ছিদ্র আবার সম্পূর্ণ বন্ধ করে যখন একটু হালকা তীক্ষ্ণ বা সামান্য জোরে ফুঁ দেওয়া হয়, তখন ‘সা’-এর পজিশনেই ‘পা’ স্বরটি ফুটে ওঠে।
(এভাবে প্রতিটি স্বরের জন্য আঙুলগুলো একটা একটা করে উঠিয়ে এবং নামিয়ে পুরো সারগামটি (সা-রে-গা-মা-পা-ধা-নি-সা) সম্পূর্ণ করা হয়।)
শুরুতে সব কটি ছিদ্র একসাথে নিখুঁতভাবে বন্ধ করতে গিয়ে আঙুল শক্ত হয়ে যেতে পারে বা ফাঁক থেকে বাতাস বের হয়ে সুর কেটে যেতে পারে। ঘাবড়ানোর কিচ্ছু নেই, এটা শুরুতে সবার হয়! সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি হলো—আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্র্যাকটিস করা। এতে আপনি নিজেই দেখতে পাবেন আপনার আঙুলের নরম অংশটা ঠিক ছিদ্রের মাঝ বরাবর বসছে কি না। তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি স্বরকে লম্বা সময় ধরে ফুঁ দিয়ে ধরে রাখার অভ্যাস করুন।
সারগাম হলো বাঁশি শেখার মেরুদণ্ড। প্রতিদিন বাজাতে বসার আগে মাত্র ১৫ মিনিট এই সারগামটি ওপর-নিচ (আরোহন ও অবরোহন) করে সাধনা করুন। দেখবেন, কয়েকদিনের মধ্যেই আপনার আঙুলগুলো নিজে থেকেই বাঁশির ওপর নাচতে শুরু করেছে।
সহজ পদ্ধতিতে বাঁশি শিক্ষার এমন চমৎকার সব নিয়মিত টিউটোরিয়াল পেতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখতে একদম ভুলবেন না!
মন্তব্য