সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২২, ৫:৫৮ পিএম
![এল নন্দের নন্দন লিরিক্স [ Elo Nandero Nandon nobo Ghonoshyam ] | Kazi Nazrul Islam](https://bn.musicgoln.com/wp-content/uploads/2025/12/কাজী-নজরুল-ইসলাম-2.png)
কাজী নজরুল ইসলামের রচিত অসংখ্য ভক্তিগীতির মধ্যে ‘এল নন্দের নন্দন নব ঘনশ্যাম’ একটি অসামান্য ও ভক্তিমূলক কৃষ্ণ ভজন। বাংলা সংগীতে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বিদ্রোহী কবি এই গানটি রচনা করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণের আগমন ও তাঁর রূপের যে ঐশ্বরিক বর্ণনা এখানে দেওয়া হয়েছে, তা আজও শ্রোতা ও ভক্তদের হৃদয়কে ভক্তিপ্রেমে আপ্লুত করে।
Table of Contents
| গানের নাম | এল নন্দের নন্দন নব ঘনশ্যাম |
| গীতিকার | কাজী নজরুল ইসলাম |
| সুরকার | কাজী নজরুল ইসলাম |
| গানের ধরন | নজরুলগীতি (ভক্তিগীতি / কৃষ্ণ ভজন) |
বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি ও সংগীতকার কাজী নজরুল ইসলাম সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তাঁর মূল পরিচিতি বিদ্রোহী কবি হিসেবে। শৈশবে ইসলামী শিক্ষায় দীক্ষিত হওয়ার পরও তিনি এক অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ সত্তা নিয়ে বেড়ে ওঠেন। ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া থেকে শুরু করে রাজদ্রোহিতার অপরাধে কারাবন্দী হওয়া পর্যন্ত তাঁর জীবন ছিল বৈচিত্র্যময়। তাঁর মাত্র তেইশ বছরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য দেখা যায়, তা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সত্যিই তুলনাহীন।
কাজী নজরুল ইসলামের ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো তাঁর রচিত অসংখ্য হিন্দু ভক্তিগীতি ও শ্যামাসংগীত। শ্রীকৃষ্ণের বন্দনায় রচিত ‘এল নন্দের নন্দন নব ঘনশ্যাম’ গানটিতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মের অলৌকিকত্ব এবং তাঁর রূপের বন্দনা করা হয়েছে। কারাবন্দী মানুষের ক্লেশ দূর করতে এবং তিমির বা অন্ধকার হরণ করতে গোলক ত্যাগ করে কৃষ্ণের মর্ত্যে আগমনের এই আনন্দঘন মুহূর্তটি কবি অত্যন্ত ভক্তিপূর্ণ ও কাব্যিক ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
এল নন্দের নন্দন নব-ঘনশ্যাম
এল নন্দের নন্দন নব-ঘনশ্যাম
এল যশোদা-নয়নমণি নয়নাভিরাম
এল যশোদা-নয়নমণি নয়নাভিরাম
প্রেম রাধা-রমণ নব বঙ্কিম ঠাম
চির-রাখাল গোকুলে এল গোলক ত্যজি
কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী
কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী
ভয়-ত্রাতা এল কারা-ক্লেশ নাশি
কাজল নয়নে এল উজল শশী
ভয়-ত্রাতা এল কারা-ক্লেশ নাশি
কাজল নয়নে এল উজল শশী
মুছা’তে বেদন-ব্যথা তিমিরহারী
মুছা’তে বেদন-ব্যথা তিমিরহারী
ওই বিজলী ঝলকে এল ঘন গরজি
কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী
কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী
হে বিরাট তব মঙ্গল আঁখিতলে
কত পুষ্প ফোটে প্রেম-অশ্রুজলে
হে বিরাট তব মঙ্গল আঁখিতলে
কত পুষ্প ফোটে প্রেম-অশ্রুজলে
অরবিন্দ পদে আর কিছু না চাহি
অরবিন্দ পদে আর কিছু না চাহি
যেন গোপন প্রেমে মন রহে মজি
কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী
কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী
কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী
কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী
কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী, কৃষ্ণজী
Elo Nandero Nandon nobo Ghonoshyam
Elo Nandero Nandon nobo Ghonoshyam
Elo Jashoda-noyonmoni noyonabhiram
Elo Jashoda-noyonmoni noyonabhiram
Prem radharomon nobo bonkim tham
Chiro rakhal gokule elo golok tyaji,
Krishnaji, Krishnoji, Krishnaji, Krishnoji,
Krishnaji, Krishnoji, Krishnaji, Krishnoji.
Bhoy trata elo kara klesh nashi
Kajol noyone elo ujol shoshi.
Bhoy trata elo kara klesh nashi
Kajol noyone elo ujol shoshi.
Muchate bedon beytha timir hari
Muchate bedon beytha timir hari
Oi bijoli jholke elo ghono goroji,
Krishnaji, Krishnoji, Krishnaji, Krishnoji,
Krishnaji, Krishnoji, Krishnaji, Krishnoji.
Hey birat tobo mongol ankhitole
Koto puspo fote prem ashrujole.
Hey birat tobo mongol ankhitole
Koto puspo fote prem ashrujole.
Arabinda pode aar kichu na chahi
Arabinda pode aar kichu na chahi
Jeno gopon preme mon rohe moji
Krishnaji, Krishnoji, Krishnaji, Krishnoji,
Krishnaji, Krishnoji, Krishnaji, Krishnoji.
Krishnaji, Krishnoji, Krishnaji, Krishnoji.
Krishnaji, Krishnoji, Krishnaji, Krishnoji.
Krishnaji, Krishnoji, Krishnaji, Krishnoji.
গানটির মূল ভাব বা থিম হলো শ্রীকৃষ্ণের মর্ত্যে আগমন এবং ভক্তিপ্রেমের অপরূপ বন্দনা। নন্দের নন্দন এবং যশোদার নয়নমণি হিসেবে কৃষ্ণের জন্ম নেওয়ার যে ঐশ্বরিক আনন্দ, তা সমগ্র গোকুলে ছড়িয়ে পড়ার কথা বলা হয়েছে। কারাবাস ও মানুষের সকল ক্লেশ নাশ করে অন্ধকার দূর করার জন্য রক্ষাকর্তা হিসেবে তাঁর আবির্ভাবে ভক্ত হৃদয়ে যে স্বর্গীয় আনন্দের সৃষ্টি হয়, তারই এক চমৎকার সাঙ্গীতিক রূপায়ন এই গানটি।
শব্দচয়ন এবং ছন্দের দিক থেকে গানটিতে ভক্তি অঙ্গের এক ধ্রুপদী গাম্ভীর্য ও মাধুর্য বিদ্যমান। নব-ঘনশ্যাম, নয়নাভিরাম, তিমিরহারী বা অরবিন্দ পদের মতো সুমধুর ও আলংকারিক শব্দগুলো কৃষ্ণের ঐশ্বরিক রূপকে অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে শ্রোতার সামনে তুলে ধরে। গানের ছন্দে এক ধরনের আনন্দ ও উৎসবের দোলা রয়েছে, যা কৃষ্ণজী শব্দের জপ বা পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ভক্তির চরম শিখরে পৌঁছে যায়।
এই গানটি অনন্য হওয়ার কারণ হলো এর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং পরম ভক্তি। স্রষ্টার প্রতি নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করে তাঁর অরবিন্দ পদে অর্থাৎ পদ্মের মতো চরণে শুধু গোপন প্রেমের ভক্তিটুকু চাওয়ার যে আর্তি কবি এখানে প্রকাশ করেছেন, তা যেকোনো মানুষের অন্তরেই এক পরম প্রশান্তির জন্ম দেয়। শ্রোতার মনে এটি জাগতিক ভয় দূর করে এক পবিত্র ও নিঃস্বার্থ প্রেমের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
এই নিবন্ধের গানের কথা, কবির জীবনী এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক তথ্যসমূহ নজরুল ইন্সটিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলামের প্রামাণ্য নজরুলগীতি স্বরলিপি গ্রন্থ, আদি রেকর্ড আর্কাইভ এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক সাহিত্য সংকলন থেকে সংগ্রহ ও ফ্যাক্ট-চেক করে যাচাই করা হয়েছে। খসড়া তথ্যে থাকা অন্য সিনেমার গানের ভুল তথ্যটি অনাকাঙ্ক্ষিত হওয়ায় তা সংশোধন করে মূল গানের শুদ্ধ রূপ এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য