সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই জানুয়ারি ২০২৩, ২:৩০ এএম
‘ঘুম যদি না আসে’ সমসাময়িক একটি জনপ্রিয় ইসলামিক হামদ বা আধ্যাত্মিক সংগীত। গানটি মূলত মহান সৃষ্টিকর্তার বন্দনা ও প্রশংসায় মুখরিত। বর্তমান সময়ে বেশ কয়েকজন তরুণ কণ্ঠশিল্পী গানটি কভার করে শ্রোতাপ্রিয়তা বাড়ালেও, সাম্প্রতিক সময়ে রাজিয়া রিশা (Rajiya Risha)-এর দরদভরা কণ্ঠে পরিবেশিত এই ইসলামি সংগীতটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউবে দারুণ সাড়া ফেলেছে। গানটির মূল প্রেক্ষাপট আবর্তিত হয়েছে গভীর রাতের নিস্তব্ধতায় জাগতিক ব্যস্ততা ভুলে পরম করুণাময় প্রভুর ইবাদতে মশগুল হওয়ার আহ্বানকে কেন্দ্র করে। সৃষ্টির প্রতিটি উপাদান কীভাবে প্রভুর গুণগানে মগ্ন থাকে, তারই এক চমৎকার আধ্যাত্মিক আবহ এই সংগীতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
Table of Contents
ঘুম যদি না আসে গভীর রাতে
প্রভুর প্রেমে জাগো তাসবিহ হাতে।
পশু-পাখি, গাছগাছালি
প্রভুর প্রেমে জেগে করে মিতালী।
মানুষ হয়ে তোমরা কেন
গভীর ঘুমে আছো মেতে!
আকাশ-বাতাস, গ্রহ-তারা
পাহাড়-নদী, ঝর্ণা ধারা
পাখিদের কলতানে মিষ্টি সুরে
তোমারি প্রেমে গেয়ে উঠে মেতে।
সুন্দর সুশীতল মিষ্টি হাওয়ায়
ঢেউয়ে ঢেউয়ে বয় নদী তোমারি দয়ায়
সাগর নদী জোয়ার ভাটা
তোমার প্রেমে উঠে মেতে।
Ghum jodi na ase govir rate
Provur preme jago tasbih hate.
Poshu-pakhi, gach-gachali
Provur preme jege kore mitali.
Manus hoye tomra keno
Govir ghume acho mete!
Akash-batash, groho-tara
Pahar-nodi, jhorna dhara
Pakhider kolotane mishti sure
Tomari preme geye uthe mete.
Sundor sushitol mishti haway
Dheuye dheuye boy nodi tomari doyay
Sagor nodi joar bhata
Tomar preme uthe mete.
সুরের দিক থেকে এই সংগীতটি একটি ধ্রুপদী ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ এবং মেলোডিয়াস ঘরানার ইসলামি গান (হামদ)। এর মূল সংগীতায়োজনে সরল অ্যাকোস্টিক আবহ এবং সাবলীল সুরের ব্যবহার করা হয়েছে, যা শ্রোতার মনে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক ভাব জাগিয়ে তোলে। রাজিয়া রিশার গায়কী এখানে অত্যন্ত নিখুঁত, ধীর এবং আবেগপূর্ণ, যা কোনো বাহ্যিক চটকদার বাদ্যযন্ত্রের কোলাহল ছাড়াই কেবল বাণীর গভীরতায় শ্রোতার অন্তর স্পর্শ করে।
এই সংগীতের মূল ভাবার্থ আবর্তিত হয়েছে নিখিল বিশ্ব এবং মানবজীবনের আধ্যাত্মিক জাগরণকে কেন্দ্র করে। গানের বাণীতে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে প্রকৃতির প্রতিটি সৃষ্টি—পশু-পাখি, গাছপালা, নদী-সাগর, আকাশ-বাতাস ও গ্রহ-তারা—সবই প্রতি মুহূর্তে সৃষ্টিকর্তার প্রেমে মগ্ন এবং তাঁর মহিমা কীর্তন করছে। এমতাবস্থায় সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হয়ে গভীর মোহাচ্ছন্ন ঘুমে মগ্ন থাকা যে অনুচিত, সেই তাগিদ এখানে দেওয়া হয়েছে। রাতের নির্জনতায় ঘুম না আসার মুহূর্তটিকে অযথা পার না করে, তাসবিহ হাতে প্রভুর স্মরণে কাটানোর মাধ্যমে আত্মিক শান্তি খোঁজার এক সুন্দর মেসেজ এই গানে প্রকাশ পেয়েছে।
মন্তব্য