‘হরি দিন তো গেল, সন্ধ্যা হলো, পার করো আমারে’—কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের কালজয়ী এই গানে মিশে আছে জীবনের শেষবেলার আকুতি, সময়ের অবিরাম প্রবাহ এবং পরপারে পাড়ি দেওয়ার এক গভীর মিনতি। বাংলার লোকসংগীতের এই হৃদয়স্পর্শী গানটি যাঁর কণ্ঠে নতুন করে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছেছিল, সেই গুণী অভিনেতা ও কণ্ঠশিল্পী অনিল কুমার দাস আজ অনেকটাই বিস্মৃত। অথচ যাত্রাপালা, মঞ্চনাটক ও লোকসংগীতে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকার দাবি রাখে।
কয়েক দশকের শিল্পীজীবনে তিনি অভিনয় করেছেন দুই শতাধিক যাত্রাপালা ও তিন শতাধিক নাটকে। লোকসংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ, মঞ্চের প্রতি ভালোবাসা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিরলস অংশগ্রহণ তাঁকে কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখে পরিণত করেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নাম ও কাজ অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।
Table of Contents
একটি যাত্রাপালা বদলে দিয়েছিল জীবনের গতিপথ
১৯৬১ সাল। কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মোহিনী মিলস অডিটোরিয়ামে মঞ্চস্থ হচ্ছিল যাত্রাপালা ‘পলাশীর পরে’। দর্শকসারিতে বসে পালাটি উপভোগ করছিলেন মোহিনী মিলসের পরিচালক দেবী প্রসাদ চক্রবর্তী, যিনি কানু বাবু নামে পরিচিত ছিলেন।
যাত্রাপালাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছিলেন কুমারখালির সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ অনিল কুমার দাস। তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে কানু বাবু তাঁকে মোহিনী মিলে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। এই সুযোগ অনিল দাসের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়।
১৯৬১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মোহিনী মিলে চাকরি করার পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। জীবিকার প্রয়োজনে নিয়মিত চাকরি করলেও অভিনয় ও সংগীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কখনো ম্লান হয়নি। যাত্রাপালা ও মঞ্চনাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন।
বিশেষ করে লোকসাধক কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তিনি শ্রোতাদের প্রশংসা অর্জন করেন। তাঁর শিল্পীজীবনের এই দিকটি তাঁকে শুধু একজন অভিনেতা নয়, লোকসংগীতের এক নিবেদিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও পরিচিত করে তোলে।
কাঙাল হরিনাথের গান পৌঁছে দিয়েছিলেন টেলিভিশনের পর্দায়
অনিল দাসের শিল্পীজীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়গুলোর একটি ছিল কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের গান পরিবেশন। বাংলার লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত এই গীতিকারের গানকে বৃহত্তর শ্রোতৃসমাজের কাছে তুলে ধরতে অনিল দাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০০৮ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘আদি অকৃত্রিম’ অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো তিনি কাঙাল হরিনাথের লেখা ‘শূন্য ঘরে একটি কমল আছে কি সুন্দর’ গানটি পরিবেশন করেন। তাঁর কণ্ঠে গানটি টেলিভিশনের দর্শকদের সামনে নতুনভাবে উপস্থাপিত হয়।
এরপর ২০১০ সালের ২০ জুলাই কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অনিল দাস পরিবেশন করেন কালজয়ী গান ‘হরি দিন তো গেল, সন্ধ্যা হলো, পার করো আমারে’।
জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব, সময়ের অবিরাম গতি এবং পরপারের প্রতি মানুষের আকুলতা এই গানের মূল সুর। সহজ অথচ গভীর আবেগময় কথার কারণে গানটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। অনিল দাসের কণ্ঠে গানটির পরিবেশনা সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে শ্রোতাদের সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করে।
লোকসংগীতের অনেক গানই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষের মুখে মুখে টিকে থাকে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এসব গানের পরিচিতি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এমন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ শিল্পীদের পরিবেশনা, বিশেষ করে গণমাধ্যমে প্রচার, পুরোনো গানকে নতুন শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনিল দাসের সংগীতচর্চার গুরুত্বও এখানেই।
যাত্রাপালা ও নাটকে অসাধারণ কর্মযজ্ঞ
সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও অনিল দাসের দক্ষতা ছিল উল্লেখযোগ্য। কুষ্টিয়ার পরিমল থিয়েটার এবং কুমারখালির রূপালী সাংস্কৃতিক সংঘের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
কর্মজীবনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মঞ্চস্থ দুই শতাধিক যাত্রাপালা ও তিন শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এত বিপুলসংখ্যক প্রযোজনায় অংশগ্রহণ তাঁর অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা এবং অভিনয়ের প্রতি গভীর অনুরাগের পরিচয় বহন করে।
বাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; গ্রামীণ সমাজে ইতিহাস, ধর্মীয় আখ্যান, সামাজিক বক্তব্য ও নৈতিক শিক্ষার প্রচারেও এর ভূমিকা রয়েছে। সংলাপ, সংগীত, অভিনয় ও নাটকীয় উপস্থাপনার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই শিল্পধারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনের অংশ।
যাত্রাপালার শিল্পীদের একাধিক দক্ষতার প্রয়োজন হয়। চরিত্রের আবেগ ফুটিয়ে তোলা, সংলাপ উপস্থাপন এবং অনেক ক্ষেত্রে গানের মাধ্যমে কাহিনিকে এগিয়ে নেওয়া—সবকিছুতেই তাঁদের পারদর্শিতা অর্জন করতে হয়। অনিল দাসের অভিনয় ও সংগীতের অভিজ্ঞতা তাঁকে এই ধারার একজন বহুমুখী শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
স্থানীয় নাট্যদল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই বহু শিল্পী তাঁদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পেয়েছেন। অনিল দাসের দীর্ঘ কর্মজীবনও সেই সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল।
১৯৬৯ সালে তিনি এক বছর প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক সুবল দাসের সহকারী হিসেবেও কাজ করেন। অভিনয় ও সংগীত—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর বিচরণ প্রমাণ করে, তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী।
শৈশবের প্রতিকূলতা পেরিয়ে শিল্পীজীবনের সূচনা
১৯৩৬ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালি পৌর এলাকার কাজীপাড়া আদিবাসী পল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন অনিল কুমার দাস। শৈশবেই বাবাকে হারাতে হয় তাঁকে। পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনও দীর্ঘ হয়নি। কুমারখালি জেএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে তাঁকে শিক্ষাজীবনের ইতি টানতে হয়।
তবে শিক্ষার সীমাবদ্ধতা তাঁর প্রতিভার বিকাশ থামিয়ে রাখতে পারেনি। কৈশোরে ‘শ্রীকৃষ্ণ যমুনা’ যাত্রাপালায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর শিল্পীজীবনের সূচনা হয়। সেই শুরু থেকে ধীরে ধীরে মঞ্চের সঙ্গে গড়ে ওঠে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক।
প্রথাগত শিক্ষার বাইরে থেকেও অনেক শিল্পী তাঁদের অভিজ্ঞতা, অনুশীলন এবং দীর্ঘদিনের কাজের মধ্য দিয়ে নিজস্ব দক্ষতা গড়ে তোলেন। অনিল দাসের জীবনও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন। স্থানীয় মঞ্চে অভিনয় করতে করতে তিনি অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং একসময় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন পরিচিত কর্মী হিসেবে।
তাঁর জীবনের এই অধ্যায় মনে করিয়ে দেয়, প্রতিভা বিকাশের জন্য আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন সুযোগ, অধ্যবসায় এবং শিল্পচর্চার পরিবেশ। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
চাকরি ও শিল্পচর্চার মধ্যে ভারসাম্য
মোহিনী মিলে চাকরির পর ১৯৭৮ সালে অনিল দাস কুমারখালি পৌরসভায় কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি চাকরি করেন। দীর্ঘ সময় নিয়মিত চাকরির দায়িত্ব পালন করলেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হয়নি।
জীবিকার প্রয়োজনে চাকরি এবং শিল্পের প্রতি ভালোবাসা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন তিনি। তাঁর জীবন দেখায়, অনেক আঞ্চলিক শিল্পীর কাছে সাংস্কৃতিক চর্চা পূর্ণকালীন পেশা হয়ে ওঠে না; বরং নিয়মিত কর্মজীবনের পাশাপাশি তাঁরা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।
দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে কুমারখালি থিয়েটার তাঁকে পদক প্রদান করে। এই সম্মান তাঁর শিল্পীজীবনের স্বীকৃতি হলেও জীবনের শেষ পর্যায়ে আর্থিক অনটন থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাননি তিনি।
জানা যায়, সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় থেকে তিনি নিয়মিত ভাতা পেতেন। তারপরও শেষ জীবনে তাঁকে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে।
অনিল দাসের জীবন আঞ্চলিক শিল্পীদের বাস্তবতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে। দীর্ঘদিন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদান রাখলেও অনেক শিল্পীর জীবনে আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক স্বীকৃতি সীমিত থেকে যায়। বিশেষ করে যাঁরা স্থানীয় নাট্যদল, যাত্রাপালা ও লোকসংগীতের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের অবদান সংরক্ষণ এবং জীবনযাপনে সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
পরিবার ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল
ব্যক্তিজীবনে স্ত্রী জ্যোৎস্না দাস ও ছেলে শ্যামল দাসকে নিয়ে কুমারখালির আদিবাসী পল্লিতে নিজের বাড়িতে বসবাস করতেন অনিল দাস। তাঁর তিন মেয়ে—তৃষ্ণা দাস, কৃষ্ণা দাস ও শান্তনা দাস। তাঁরা সবাই বিবাহিত।
ছোট মেয়ের স্বামী প্রবীর কুমার দাস বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত তবলা বাদক এবং ছায়ানটের তবলা শিক্ষক। সংগীতের সঙ্গে তাঁর এই সম্পর্ক অনিল দাসের পরিবারকে ঘিরে থাকা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের একটি দিক তুলে ধরে।
অনিল দাসের নিজের শিল্পীজীবন গড়ে উঠেছিল মূলত স্থানীয় মঞ্চ, যাত্রাপালা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে কেন্দ্র করে। পরে বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান পরিবেশনের সুযোগ তাঁর কাজকে বৃহত্তর দর্শক-শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেয়।
স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পীদের সঙ্গে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরের এই সংযোগ লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এসব শিল্পীর অভিজ্ঞতা ও পরিবেশনার মধ্য দিয়েই বহু পুরোনো গান, নাট্যরীতি এবং অভিনয়শৈলী নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পায়।
প্রয়াণের পরও প্রাসঙ্গিক তাঁর অবদান
২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর কুমারখালির আদিবাসী পল্লিতে নিজের বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন অনিল কুমার দাস। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয় দীর্ঘ এক শিল্পীজীবন, যার বড় অংশজুড়ে ছিল অভিনয়, সংগীত এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড।
তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে শত শত নাটক ও যাত্রাপালায় অভিনয়, স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা এবং কাঙাল হরিনাথের গান টেলিভিশনের মাধ্যমে বৃহত্তর শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
কিন্তু তাঁর মতো শিল্পীদের অবদান সময়ের সঙ্গে বিস্মৃত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সাংস্কৃতিক ইতিহাসে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত ব্যক্তিত্বদের নাম সহজেই জায়গা করে নিলেও স্থানীয় মঞ্চের বহু নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীর জীবন ও কর্ম যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয় না।
অনিল দাসের মতো শিল্পীদের স্মরণ করার অর্থ শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে ফিরে দেখা নয়; বরং তাঁদের মাধ্যমে টিকে থাকা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও মূল্যায়ন করা। তাঁদের অভিনয়, গান ও অভিজ্ঞতা বাংলার লোকজ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাঁর অবদান সংরক্ষণে পুরোনো পরিবেশনার রেকর্ড সংগ্রহ, সহশিল্পীদের স্মৃতিচারণ সংরক্ষণ, পরিবারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং নতুন প্রজন্মের সামনে তাঁর জীবন ও কর্ম তুলে ধরা কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। এতে একজন শিল্পীর স্মৃতি রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় সাংস্কৃতিক ইতিহাসও সমৃদ্ধ হবে।
বিস্মৃতির আড়াল থেকে ফিরে আসুক তাঁর শিল্পীসত্তা
‘হরি দিন তো গেল, সন্ধ্যা হলো, পার করো আমারে’—এই গানের কথায় সময়ের প্রবাহ ও জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছানোর আকুতি ফুটে ওঠে। অনিল দাসের কণ্ঠে গানটি হয়ে উঠেছিল বাংলার লোকসংগীতের এক আবেগময় প্রকাশ।
আজ তিনি আর নেই। কিন্তু তাঁর অভিনীত চরিত্র, মঞ্চের স্মৃতি এবং কণ্ঠে ধারণ করা কাঙাল হরিনাথের গান তাঁর শিল্পীজীবনের সাক্ষ্য বহন করে।
অনিল দাসের জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একজন শিল্পীর মূল্য শুধু তাঁর জনপ্রিয়তা কিংবা আর্থিক সাফল্য দিয়ে নির্ধারিত হয় না। মানুষের মনে অনুভূতি জাগানো, একটি ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সাংস্কৃতিক সম্পদ রেখে যাওয়ার মধ্যেও শিল্পীর সার্থকতা নিহিত।
প্রয়াণের স্মৃতিদিবসে এই নিভৃতচারী শিল্পীর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর মতো শিল্পীদের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হোক, সংরক্ষিত হোক বাংলার লোকসংগীত ও মঞ্চনাটকের ইতিহাসে তাঁদের অবদান।
শ্রদ্ধাঞ্জলি, শিল্পী অনিল কুমার দাস।
জীবনের মঞ্চে তাঁর অভিনয় শেষ হয়েছে, কিন্তু বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান যেন বিস্মৃতির অন্ধকারে হারিয়ে না যায়। তাঁর কণ্ঠের গান বেঁচে থাকুক মানুষের হৃদয়ে, আর তাঁর শিল্পীসত্তা ফিরে আসুক নতুন প্রজন্মের স্মরণে।














