সম্ভাব্য উদ্বোধনের সময় হিসেবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের সময়কে বিবেচনা করা হচ্ছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সুবিধাটি ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের নিয়মিত সাবস্ক্রিপশন ফির বাইরে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ ডলার দিতে হতে পারে। তবে উদ্বোধনের সময় ও অতিরিক্ত ফির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে স্পটিফাইয়ের গ্রাহকেরা শুধু গান শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং নিজেদের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে পছন্দের গানের বিকল্প সংস্করণ তৈরি করতে পারবেন। কোনো প্রচলিত লোকগানকে নাচের উপযোগী আধুনিক সংগীতে রূপান্তর করা, গানের সুর ও সংগীতায়োজন পরিবর্তন কিংবা ভিন্ন ঘরানায় উপস্থাপনের সুযোগ থাকতে পারে।
এমনকি একজন শিল্পীর কণ্ঠে অন্য শিল্পীর গান গাওয়ার মতো সংস্করণও তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ, একটি গানের মূল কাঠামো ধরে রেখে এআইয়ের সাহায্যে সেটির পরিবেশনা ও সংগীতের ধরন পরিবর্তন করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। তবে এটি সম্পূর্ণ নতুন গান তৈরির সেবা নয়; মূলত বিদ্যমান গানের রিমিক্স ও কাভার সংস্করণ তৈরির জন্য প্রযুক্তিটি তৈরি করা হচ্ছে।
নতুন উদ্যোগে মূল শিল্পীদের স্বত্ব ও আর্থিক অধিকার রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভক্তদের তৈরি রিমিক্স থেকে অর্জিত রয়্যালটি মূল গানগুলোর শিল্পীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে স্পটিফাইয়ের। পাশাপাশি এসব রিমিক্সের স্ট্রিমিংয়ের হিসাব মূল গানগুলোর চার্টে যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এর ফলে কোনো গান নতুনভাবে রিমিক্স হয়ে জনপ্রিয়তা পেলে তার সুফল মূল শিল্পীরাও পেতে পারেন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভক্তদের তৈরি রিমিক্স ছড়িয়ে পড়লেও অনেক ক্ষেত্রে মূল শিল্পী ও গীতিকাররা এ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পান না। স্পটিফাইয়ের নতুন উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো এ ধরনের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা।
এ সেবা চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্পটিফাই ইতিমধ্যে সংগীতশিল্পের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লাইসেন্সিং চুক্তি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংগীত প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপ, স্বাধীন রেকর্ড লেবেলগুলোর সংগঠন মার্লিন এবং ফরাসি সংগীত প্রতিষ্ঠান বিলিভ। তবে সনি মিউজিক ও ওয়ার্নার মিউজিকের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলমান বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শিল্পীদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। স্পটিফাই ও বিলিভের চুক্তি অনুযায়ী, কোনো শিল্পীকে তাঁর গান এআইয়ের মাধ্যমে ব্যবহারের জন্য বাধ্য করা হবে না। অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সম্মতি দেওয়ার প্রক্রিয়া রাখা হচ্ছে। প্রথমে শিল্পী এআই-সংক্রান্ত কার্যক্রমে বিবেচিত হতে সম্মতি দেবেন। এরপর স্পটিফাইয়ের নির্দিষ্ট উদ্যোগে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এতে নিজেদের গান কীভাবে ব্যবহৃত হবে, সে বিষয়ে শিল্পীদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কথা বলেছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে সংগীতশিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও কপিরাইট, শিল্পীদের কণ্ঠস্বরের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার এবং রয়্যালটি বণ্টন নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে। বিশেষ করে কোনো শিল্পীর কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে অন্যের গান পরিবেশনের মতো সংস্করণ তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট শিল্পীর সম্মতি নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়ে। স্পটিফাইয়ের পরিকল্পিত লাইসেন্সিং ব্যবস্থা এসব প্রশ্নের একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্পটিফাইয়ের কাছে মন্তব্য জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, নতুন এই সুবিধা চালু হলে সংগীত শোনার প্রচলিত অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন আসতে পারে। শ্রোতারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পরিচিত গানকে নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ পাবেন, আর অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা তাঁদের সৃষ্টিকর্মের রিমিক্স থেকেও রয়্যালটি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে সেবাটির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে প্রযুক্তির কার্যকারিতা, শিল্পীদের সম্মতি, সংগীতের স্বত্ব সুরক্ষা এবং ব্যবহারকারীদের আগ্রহের ওপর।














