জারি গান গীত ধারা নিয়ে আজকের আলোচনা। ফারসি ভাষায় ‘জারি’ শব্দের অর্থ শোক প্রকাশ করা বা ক্রন্দন করা। বাংলাদেশের লোকসংগীতগুলোর মধ্যে জারি গান একটি বিশেষ ধারা অবলম্বন করে উদ্ভূত হয়েছে। বীর ও করুণ রসাত্মক সুরের শোকসংগীত জারি গান ময়মনসিংহ অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ইসলামের কাণ্ডারি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হাসান (রা.) ও হজরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর আদর্শের সংগ্রাম এবং তাঁদের আত্মত্যাগ ইসলামের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে সমগ্র বিশ্বে। মহানুভবতায় ভরা তাঁদের জীবনকাহিনী ও ফোরাত নদীর তীরে কারবালা ময়দানে সংঘটিত হৃদয়বিদারক ঘটনা নিয়ে রচিত হয় জারি গান।
একজন মূল গায়কের নেতৃত্বে বিশ থেকে তিরিশ জন গায়ক পায়ে নূপুর বেঁধে এবং হাতে একটি গামছা নিয়ে বৃত্তাকারে পা ফেলে ফেলে অগ্রসর হতে থাকেন চলার তালে তালে নূপুর বাজতে থাকে এবং সম্মিলিত গায়কেরা হাতের গামছাটি আঁচলের মতো করে দোলাতে থাকেন। মূল গায়ক গানের মধ্য দিয়ে কাহিনীর বিবরণ দিতে থাকেন এবং তাঁর সঙ্গে সহ-শিল্পীবৃন্দ মাঝে মাঝে ধুয়া ধরেন। করুণ রসাত্মক কাহিনীর মধ্যে বীর রসাত্মক ধুয়াগুলো অপূর্ব রস-বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে। তাই জারি গান একদিকে যেমন করুণ এবং হৃদয়বিদারক অন্যদিকে তেমনি গৌরবময় ও বীরত্বপূর্ণ।
লোক-জনপদে অসম্ভব জনপ্রিয় এই গান গ্রামবাসী কখনো চোখের পানিতে সয়লাব হয়ে, কখনোবা বীরত্ব ব্যঞ্জনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কয়েক রাত ধরে শুনে থাকেন। পল্লী-গানের অভ্যন্তরে প্রচলিত জারি গানের সঙ্গে বেহালা, সারিন্দা, ঢাক, মন্দিরা, দোতরা, খঞ্জনি, মারাক্কাস, জিপসি ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র সংগত করা হয়।