ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক ভিডিওতে নিজের গান ব্যবহার নিয়ে ক্ষুব্ধ কেটি পেরি

ইরানের ওপর সামরিক অভিযানের এক প্রচারমূলক ভিডিওচিত্রে অনুমতি ছাড়া নিজের বিশ্ববিখ্যাত গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’ ব্যবহার করায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি। সরকারি কোনো কাজে বা প্রচারণায় নিজের সংগীতকর্ম এমন সহিংস উদ্দেশ্যে ব্যবহার করায় আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি আবেগঘন পোস্টে কেটি পেরি লেখেন, “আমি এই ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ, মর্মাহত ও মর্মাহত… আমি কখনোই এমন ব্যবহারের অনুমতি দিইনি। বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে কোনো অনুমতিও চাওয়া হয়নি এবং আমি কোনোভাবেই এই পদক্ষেপ সমর্থন করি না।”

নিজের জনপ্রিয় এই গানের পেছনের দর্শন উল্লেখ করে মার্কিন এই পপ তারকা আরও লেখেন, “আত্মমর্যাদা, ইতিবাচক শক্তি ও মানুষকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার বারাতাবাহী একটি সুরকে এভাবে ধ্বংস ও সামরিক সহিংসতার হাতিয়ার বানানো আমার গানের মূল চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”

মূলত হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি সংক্ষেপিত সামরিক হামলার ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয়। সেই ভিডিওটির পটভূমিতে নেপথ্য সংগীত হিসেবে বাজানো হচ্ছিল কেটি পেরির বিলবোর্ড চার্ট কাঁপানো গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল স্পষ্ট হুমকি মূলক বাক্য—‘ইরানকে সতর্ক করা হলো’। উল্লেখ্য, কেটি পেরির ক্যারিয়ারে যেসব গান বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষস্থান দখল করেছিল, তার মধ্যে এই গানটি অন্যতম জনপ্রিয়।

বিতর্কের অন্য পাশে রয়েছে গানটির সত্ত্ব অধিকারের বিষয়টিও। ২০২৩ সালে কার্লাইল গ্রুপ সমর্থিত লিটমাস মিউজিকের কাছে নিজের প্রথম সারির পাঁচটি সুরভিত্তিক অ্যালবামের মাস্টার রেকর্ডিং ও প্রকাশনাস্বত্ব বিক্রি করে দেন পেরি। যার মধ্য ‘টিনেজ ড্রিম’ অ্যালবামটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এই অ্যালবামের অন্যতম সফল ট্র্যাক ছিল ‘ফায়ারওয়ার্ক’। বিলবোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল চুক্তির অর্থমূল্য ছিল প্রায় ২২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সবসময়ই মার্কিন রাজনীতিতে সোচ্চার থেকেছেন এই গায়িকা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্রেটিক পার্টির অনুরাগী সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন, ২০২০ সালে জো বাইডেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে কমলা হ্যারিসের পক্ষে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন পেরি। বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত জীবনে কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে প্রণয়ে আবদ্ধ রয়েছেন বলেও গণমাধ্যমের সংবাদের গুঞ্জন রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বা বিভিন্ন সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে শিল্পীদের অনুমতি ব্যতিরেকে শিল্পকর্ম বা গান ব্যবহারের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে অলিভিয়া রদ্রিগো, সাবরিনা কারপেন্টার এবং জনপ্রিয় শিশুতোষ ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ফ্র্যাঙ্কলিন দ্য টার্টল’-এর প্রকাশক কিডস ক্যান প্রেস তাদের সৃষ্টির রাজনৈতিক অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এর বাইরেও ট্রাম্পের বিভিন্ন নির্বাচনী সমাবেশ ও প্রচারণায় গান বাজানো নিয়ে ব্রুস স্প্রিংস্টিন, নিল ইয়াং, অ্যাডেল এবং রিহানার মতো বিশ্বনন্দিত শিল্পীরা আইনি ও প্রকাশ্য প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

Tags :

জনপ্রিয় খবর

জনপ্রিয় বিভাগ

আমাদের সম্পর্কে

সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN হলো সংগীতপ্রেমীদের জন্য একটি অনলাইন জ্ঞান ও তথ্যভান্ডার। এখানে থাকছে গানের কথা ও বাণী, শিল্পী ও সংগীত ব্যক্তিত্বের তথ্য, গানের ধরন, সংগীত শিক্ষা, ইতিহাস, রিভিউ এবং সংগীতজগতের সাম্প্রতিক নানা বিষয়। সংগীতকে জানা, শেখা ও ভালোবাসার একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

ইমেইল করুন:

Press Release: pr@bn.musicgoln.com

Complaint: complaint@bn.musicgoln.com

Contact: +8801775895618

© ২০২৬ সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।