নিউজার্সিতে দুর্গাপূজার একটি অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন ইমন ও তাঁর দল। পথে ডালাস বিমানবন্দরে তাঁদের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান শিল্পী। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে এসে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিমান সংস্থার কর্মীদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন গায়িকা।
ইমনের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তাঁরা সময়মতো ডালাস বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। বিমানে ওঠার জন্য তাঁদের কাছে বৈধ বোর্ডিং পাসও ছিল। তা সত্ত্বেও বিমান সংস্থার কর্মীরা তাঁদের বাধা দেন। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চাইলে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইমন জানান, বাধার কারণ জানতে চাওয়া এবং প্রতিবাদ করার পর কর্মীরা তাঁদের সঙ্গে অভদ্র আচরণ করেন। একপর্যায়ে শারীরিকভাবে ধাক্কা দিয়ে বোর্ডিং গেট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাঁর। বিদেশের মাটিতে এমন অভিজ্ঞতায় তিনি ও তাঁর দলের সদস্যরা অপমানিত বোধ করেছেন বলে জানান।
তবে ঠিক কী কারণে তাঁদের বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে ইমনের বক্তব্যে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিমান সংস্থার পক্ষ থেকেও ঘটনার কারণ বা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আচরণ সম্পর্কে কোনো বক্তব্যের উল্লেখ নেই। ফলে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে দুই পক্ষের বক্তব্যই গুরুত্বপূর্ণ।
বাদ্যযন্ত্রের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ
ইমন চক্রবর্তীর অভিযোগ, তাঁর দলের সঙ্গে থাকা পেশাদার বাদ্যযন্ত্রগুলোর প্রতি বিমান সংস্থার কর্মীরা যথাযথ গুরুত্ব দেননি। যন্ত্রগুলো পরিবহনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমান সংস্থা দায় নেবে না বলেও জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
পেশাদার সংগীতশিল্পীদের জন্য বাদ্যযন্ত্র কেবল ব্যক্তিগত সরঞ্জাম নয়; পরিবেশনার মান ও প্রস্তুতির সঙ্গে এগুলোর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। অনেক বাদ্যযন্ত্র সংবেদনশীল হওয়ায় বিমানযাত্রায় সেগুলোর নিরাপদ পরিবহন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিদেশে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা পরিবহনে সমস্যা তৈরি হলে শিল্পীদের প্রস্তুতি ব্যাহত হতে পারে।
ইমন ও তাঁর দলের ক্ষেত্রে এ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, কারণ তাঁদের সামনে নির্ধারিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল। বিমানে উঠতে বাধা পাওয়ার ফলে তাঁরা নির্ধারিত ফ্লাইটটি ধরতে পারেননি। পরে বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার কথা জানানো হলেও সেই যাত্রা নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল বলে অভিযোগ করেন গায়িকা।
সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ, নিরাপদে ফিলাডেলফিয়ায় দল
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমনের ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। অনেকেই বিমান সংস্থার কর্মীদের আচরণের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিদেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাওয়া শিল্পীদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
পরে ইমন জানান, তিনি ও তাঁর দলের সদস্যরা নিরাপদে ফিলাডেলফিয়ায় পৌঁছেছেন এবং অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অর্থাৎ ডালাস বিমানবন্দরের ঘটনার কারণে যাত্রায় বিঘ্ন ঘটলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।
ইমন চক্রবর্তী ভারতের পরিচিত সংগীতশিল্পীদের একজন। বাংলা সংগীতের পাশাপাশি চলচ্চিত্রে তাঁর কাজের জন্যও তিনি পরিচিত। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই শিল্পীর অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে বাড়তি মনোযোগ পেয়েছে।
তবে ঘটনাটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অভিযোগের পাশাপাশি বিমান সংস্থার বক্তব্য, যাত্রার নথি এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। বৈধ বোর্ডিং পাস থাকা সত্ত্বেও কোনো যাত্রীকে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া হলে তার কারণ স্পষ্ট করা জরুরি। একইভাবে, কর্মীদের বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠলে সেটিও যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় আমেরিকান এয়ারলাইনসের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে অভিযোগের প্রেক্ষাপট আরও পরিষ্কার হবে।














