বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কিছু মানুষ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, আবার কেউ কেউ সুর, সংগীত ও কণ্ঠের শক্তিতে জাগিয়ে তুলেছেন মুক্তিকামী মানুষের সাহস, দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। সুজেয় শ্যাম ছিলেন সেই বিরল মানুষদের একজন। তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক, প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক। তাঁর সৃষ্ট সুরে মিশে আছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস, বাঙালির আত্মপরিচয় এবং স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের অমলিন স্মৃতি।
জন্ম: ১৪ মার্চ ১৯৪৬, সিলেট।
শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল তাঁর। পরবর্তী সময়ে অধ্যবসায়, সৃজনশীলতা ও অসাধারণ সংগীতপ্রতিভার স্বাক্ষর রেখে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বাংলাদেশের সংগীতজগতের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে। চলচ্চিত্রের গান, দেশাত্মবোধক সংগীত কিংবা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত গান—বিভিন্ন ধারার সংগীতে তিনি রেখে গেছেন নিজস্বতার স্বাক্ষর।
তাঁর কাছে সংগীত কেবল বিনোদনের মাধ্যম ছিল না; সংগীত ছিল মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানোর ভাষা, দেশপ্রেম জাগানোর শক্তি এবং ইতিহাসকে সুরের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য শিল্পমাধ্যম।
মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে সুরের লড়াই
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সুজেয় শ্যামের জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি সংগীতের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। স্বাধীনতার পক্ষে জনমত সৃষ্টি, মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধি এবং অবরুদ্ধ মানুষের মনে সাহস ও আশার সঞ্চার করতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল, সুজেয় শ্যাম ছিলেন সেই সাংস্কৃতিক সংগ্রামের একজন নিবেদিত কর্মী।
সেদিন শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছিল রণাঙ্গনে, আর বেতারের তরঙ্গ ধরে ছড়িয়ে পড়ছিল প্রতিরোধের গান। সেই গান কখনো হয়ে উঠেছিল সাহসের মন্ত্র, কখনো প্রতিবাদের ভাষা, কখনো-বা বিজয়ের স্বপ্ন দেখার প্রেরণা। সুজেয় শ্যামের মতো সংগীতসাধকেরা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুধু অস্ত্রের যুদ্ধ নয়; এটি ছিল সংস্কৃতি, আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতার অধিকার প্রতিষ্ঠারও সংগ্রাম।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম স্মরণীয় গান ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’-এর সুরসৃষ্টির সঙ্গে তাঁর নাম গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। গানটি স্বাধীনতার প্রত্যাশা, বিজয়ের আকাঙ্ক্ষা ও মুক্তিকামী মানুষের অদম্য মনোবলকে সংগীতের ভাষায় প্রকাশ করেছে। আজও মুক্তিযুদ্ধের গান উচ্চারিত হলে এই গান বাঙালির হৃদয়ে বিশেষ আবেগ ও গৌরবের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
একজন শিল্পীর জীবনে অসংখ্য সাফল্য থাকতে পারে, কিন্তু জাতির স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে নিজের সৃজনশীলতাকে নিয়োজিত করার গৌরব নিঃসন্দেহে অনন্য। সুজেয় শ্যামের জীবনের এই পরিচয় তাঁকে কেবল একজন সংগীত পরিচালক নয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে রেখেছে।
‘রাজা-শ্যাম’ জুটির চলচ্চিত্রযাত্রা
১৯৬৯ সাল থেকে সংগীত পরিচালক রাজা হোসেনের সঙ্গে যৌথভাবে ‘রাজা-শ্যাম’ নামে চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা শুরু করেন সুজেয় শ্যাম। চলচ্চিত্রের সংগীতে তাঁদের এই জুটি সে সময় বিশেষ পরিচিতি অর্জন করে। সত্তর ও আশির দশকে তাঁরা একত্রে ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘সূর্য সংগ্রাম’, ‘ভুল যখন ভাঙল’সহ প্রায় ২৫টি চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেন।
তাঁদের যৌথ কাজের মধ্য দিয়ে সুজেয় শ্যামের সংগীতবোধ, সুরের বৈচিত্র্য ও চলচ্চিত্রের আবহ নির্মাণের দক্ষতা আরও বিকশিত হয়। ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনার জন্য তাঁরা বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
যৌথভাবে সংগীত পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁর পরবর্তী একক কর্মজীবনের ভিত্তি তৈরি করে। চলচ্চিত্রের কাহিনি, চরিত্রের অনুভূতি ও দৃশ্যের আবহের সঙ্গে সংগীতের সার্থক সমন্বয় ঘটানোর মধ্য দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেন।
একক সংগীত পরিচালনায় স্বতন্ত্র পরিচয়
১৯৮৬ সালে আবদুল লতিফ বাচ্চু পরিচালিত ‘বলবান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সুজেয় শ্যাম এককভাবে সংগীত পরিচালনা শুরু করেন। এরপর চলচ্চিত্রের সংগীতে তিনি নিজের প্রতিভা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়ে যান।
তাঁর সংগীত পরিচালনায় কখনো প্রকাশ পেয়েছে প্রেম-বিরহের কোমল অনুভূতি, কখনো জীবনের টানাপোড়েন, আবার কখনো দেশ ও মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ। বিষয় ও আবহ অনুযায়ী সুরের উপযুক্ত বিন্যাস তৈরি করাই ছিল তাঁর শিল্পীসত্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
চলচ্চিত্রের সংগীতে তাঁর অবদান কেবল জনপ্রিয় গান সৃষ্টির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি চলচ্চিত্রের গল্প ও আবেগকে সংগীতের মাধ্যমে আরও গভীরভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
‘হাছন রাজা’ এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
বাংলার মরমি সাধক ও লোকসংগীতের কিংবদন্তি হাছন রাজাকে নিয়ে নির্মিত ‘হাছন রাজা’ চলচ্চিত্র সুজেয় শ্যামের সংগীতজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। এই চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনার জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলামের বিশেষ অনুরোধে চলচ্চিত্রটির একটি গানেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি।
হাছন রাজার জীবন, দর্শন ও মরমি সংগীতের আবহকে চলচ্চিত্রে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সুজেয় শ্যামের সংগীত পরিচালনা ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলার লোকজ ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির সঙ্গে চলচ্চিত্রের ভাষার যে মেলবন্ধন তিনি ঘটিয়েছিলেন, তা তাঁর সৃজনশীলতার পরিচয় বহন করে।
এ ছাড়া ‘জয়যাত্রা’, ‘অবুঝ বউ’ ও ‘যৈবতী কন্যার মন’ চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনার জন্যও তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে সম্মানিত হন। সব মিলিয়ে চলচ্চিত্রের সংগীতে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন তাঁর দীর্ঘ সাধনা, সৃজনশীলতা ও শিল্পীসত্তার এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রে অবদান
২০১৪ সালে ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ ও ‘একাত্তরের মা জননী’—এই দুটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করে সুজেয় শ্যাম বিশেষ প্রশংসা অর্জন করেন।
মুক্তিযুদ্ধ তাঁর কাছে কেবল অতীতের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল না; এটি ছিল বাঙালির আত্মপরিচয়, ত্যাগ, সাহস ও স্বাধীনতার চিরন্তন প্রেরণা। তাই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রে তাঁর সংগীত পরিচালনার মধ্যেও ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আন্তরিকতা প্রতিফলিত হয়েছে।
সুরের মাধ্যমে ইতিহাসকে অনুভব করানো, পর্দার ঘটনার সঙ্গে দর্শকের আবেগকে যুক্ত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে জীবন্ত করে তোলা—এসব ক্ষেত্রেই তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছিল মূল্যবান।
স্বাধীন বাংলা বেতারের গান সংরক্ষণে উদ্যোগ
২০০৬ সালে সুজেয় শ্যাম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত ৪৬টি গান নিয়ে ‘স্বাধীন বাংলা বেতারের গান’ শিরোনামে একটি অ্যালবামের সংগীত পরিচালনা করেন। এই উদ্যোগ ছিল মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য প্রয়াস।
মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রচারিত গানগুলো শুধু সংগীতের সম্পদ নয়; এগুলো একাত্তরের দিনগুলোর আবেগ, প্রতিরোধ, সাহস ও বিজয়ের প্রত্যাশার দলিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই গানগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ঐতিহাসিক সংগীত-সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুজেয় শ্যামের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের গানগুলোকে আবারও শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়। একজন সুরকার হিসেবে নিজের সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় সংগীত-ঐতিহ্য সংরক্ষণেও তাঁর আগ্রহ ও দায়িত্ববোধের পরিচয় পাওয়া যায়।
পুরস্কার ও সম্মাননা
সুজেয় শ্যামের সংগীতজীবনের সাফল্য ও অবদানের স্বীকৃতি এসেছে বিভিন্ন জাতীয় পুরস্কার ও সম্মাননার মধ্য দিয়ে।
চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনায় চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। এ ছাড়া বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৫ সালে শিল্পকলা পদক এবং ২০১৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
একুশে পদক বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। এই সম্মাননা তাঁর সংগীতসাধনা ও সাংস্কৃতিক অবদানের মর্যাদাকে বিশেষভাবে তুলে ধরে। শিল্পকলা পদকও তাঁর সৃজনশীল কর্মজীবনের প্রতি স্বীকৃতির নিদর্শন।
তবে একজন শিল্পীর প্রকৃত অর্জন শুধু পুরস্কারের সংখ্যায় পরিমাপ করা যায় না। তাঁর সৃষ্ট সুর কত মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে, কত প্রজন্মকে ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করেছে, কত মানুষের মনে দেশপ্রেমের অনুভূতি জাগিয়েছে—সেই ভালোবাসা ও স্মৃতিই শিল্পীর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান প্রাপ্তি।
সুজেয় শ্যামের ক্ষেত্রে এই সত্য বিশেষভাবে প্রযোজ্য। তাঁর সংগীত একদিকে চলচ্চিত্রের শিল্পভুবনকে সমৃদ্ধ করেছে, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে করেছে আরও সমৃদ্ধ ও স্মরণীয়।
প্রয়াণে থেমেছে জীবন, থামেনি সুরের যাত্রা
২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর প্রভাতে মৃত্যুবরণ করেন সুজেয় শ্যাম। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গন হারায় একজন গুণী সুরকার ও সংগীত পরিচালককে; দেশ হারায় মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন নিবেদিত শব্দসৈনিককে।
একজন শিল্পীর শারীরিক প্রস্থান ঘটে, কিন্তু তাঁর সৃষ্টির মৃত্যু হয় না। সময়ের স্রোত বয়ে যায়, প্রজন্ম বদলে যায়, তবু কিছু গান মানুষের স্মৃতিতে অমলিন থেকে যায়। কোনো গান ফিরিয়ে আনে মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোর কথা, কোনো সুর মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের ইতিহাস, আবার কোনো সংগীত মানুষের হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে স্বদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা।
সুজেয় শ্যামের জীবন ও কর্ম সেই অমরত্বেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি তাঁর সংগীত দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেছেন এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর সুরের উত্তরাধিকার রয়ে গেছে বাংলা গানের ভুবনে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে এবং সংগীতপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে। নতুন প্রজন্ম যখন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান শুনবে, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের সংগীতে ফিরে যাবে একাত্তরের ইতিহাসে, তখন সুজেয় শ্যামের মতো শিল্পীদের অবদান নতুন করে অনুভব করবে।
ইতিহাসের পাতায় তাঁর পরিচয় তাই বহুমাত্রিক—তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন শব্দসৈনিক, একজন সুরস্রষ্টা এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একজন নিবেদিত সাধক।
সুজেয় শ্যাম, আপনার সুরে বেঁচে থাকবে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব, আপনার সৃষ্টিতে বেঁচে থাকবে বাংলার সংগীতের ঐশ্বর্য। আপনার কর্ম আমাদের মনে করিয়ে দেবে—দেশকে ভালোবাসার পথ শুধু রণাঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নয়; শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার মধ্য দিয়েও একটি জাতির স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয়কে সমুন্নত রাখা যায়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক, প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যামের স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।
আপনি থাকবেন না, কিন্তু আপনার সুর বেঁচে থাকবে—বাংলার আকাশে, বাংলার বাতাসে, বাঙালির হৃদয়ে।














