দুই বাংলার শিল্পীদের যৌথ প্রয়াসে ‘মনের পাড়ায়’

ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশি সংগীতশিল্পী ও সুরকার ইকন বাবুর কথা ও সুরে নতুন একটি একক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ভারতের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘মনের পাড়ায়’ শিরোনামের এই বিশেষ গানটিতে শুভমিতার সাথে সহশিল্পী হিসেবে দ্বৈত কণ্ঠ দিয়েছেন খোদ ইকন বাবু। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের অভিজ্ঞ কলাকুশলীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গানটি আন্তর্জাতিক স্তরে নির্মিত ও প্রকাশিত হয়েছে। ‘ইকন বাবু অফিশিয়াল’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে মিউজিক ভিডিওসহ গানটি অবমুক্ত করা হয়।

সংগীতের আন্তর্জাতিক আয়োজন ও কারিগরি দল

এই গানটির মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত ও ফ্রান্সের সংগীতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। গানটির মূল ভিত্তি তথা কথা ও সুর তৈরি করেছেন প্যারিসপ্রবাসী শিল্পী ইকন বাবু এবং এর সংগীতায়োজন করেছেন ভারতের আসামের সংগীত পরিচালক পলাশ। গানটির ভিডিওর দৃশ্য ধারণের কাজটি বেশ বড় পরিসরে করা হয়েছে।

  • চিত্রায়ণের স্থান: গানের ভিডিওটিতে বৈচিত্র্য আনতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কলকাতা এবং প্যারিস—এই চারটি আন্তর্জাতিক শহরের বিভিন্ন লোকেশনে দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে।

  • ভিডিওর মডেল: মিউজিক ভিডিওটিতে প্রধান চরিত্র ও মডেল হিসেবে অভিনয় করেছেন সাজ্জাত, সেতু এবং মিতুল।

  • কারিগরি দল: পুরো মিউজিক ভিডিওর কোরিওগ্রাফি করেছেন সারোয়ার সাকিল। ক্যামেরায় মূল চিত্রগ্রাহক হিসেবে ছিলেন সেউল বাবু এবং কলকাতার অংশের দৃশ্য ধারণের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করেছেন উপল।

পিজিতের প্রথম ভিডিও নির্দেশনা ও কাজের অভিজ্ঞতা

‘মনের পাড়ায়’ গানটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর চাক্ষুষ বা ভিডিও নির্দেশনা। বাংলাদেশের গায়ক ও সুরকার পিজিত এই গানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনে প্রথমবারের মতো মিউজিক ভিডিও নির্দেশক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। প্রথমবার ভিডিও পরিচালনায় আসা এবং শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রথিতযশা শিল্পীর গানে কাজ করা প্রসঙ্গে পিজিত তার অভিজ্ঞতা ভাগ করেছেন।

পিজিতের ভাষ্যমতে, শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অত্যন্ত পছন্দের একজন সংগীতশিল্পী। ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী নচিকেতার সঙ্গে কাজ করার সুবাদে আগে থেকেই শুভমিতার সঙ্গে তাঁর চমৎকার পরিচয় হয়েছিল। শুভমিতার সংগীত সাধনা তাঁকে বরাবরই মুগ্ধ করে। তাই যখন ইকন বাবুর পক্ষ থেকে এই গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণের প্রস্তাব আসে, তখন তিনি সানন্দে ও সাগ্রহে এই দায়িত্বটি গ্রহণ করেন।

নেপথ্য গল্প, শিল্পীদের প্রতিক্রিয়া ও উৎসর্গ

গানটি সফলভাবে মুক্তি পাওয়ার পর এর সাথে সংশ্লিষ্ট মূল দুই শিল্পী তাঁদের সন্তুষ্টি ও ভালো লাগার কথা প্রকাশ করেছেন। নিচে তাঁদের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হলো:

শিল্পীপ্রতিক্রিয়া ও অনুভূতি
ইকন বাবু“এই গানটি আমার একটা স্বপ্ন ছিল। ভয়েস রেকর্ডিংয়ের পর অনেক দিন ধরে গানটি আটকে ছিল, কারণ কাকে দিয়ে ভিডিওটি বানাব তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না। পরবর্তীতে শুভমিতাদির সঙ্গে যোগাযোগ করে এই ভিডিও নির্মাণের সমস্ত দায়িত্ব নেন পিজিতদা। সব মিলিয়ে দারুণ একটি কাজ হয়েছে।”
শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়“গানটি দুই বাংলার শিল্পীদের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে। সবার অনেক দিনের চেষ্টায় শেষ অবধি একটি ভালো গান শ্রোতাদের উপহার দেওয়া গেছে বলে আমি বিশ্বাস করি। এই গানের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এটি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের উৎসর্গ করা হয়েছে, যা আমার খুব ভালো লেগেছে। আশা রাখছি আমার বাকি সব গানের মতোই এই গানও সবার পছন্দ হবে।”

দুই বাংলার একঝাঁক তরুণ ও অভিজ্ঞ প্রথিতযশা শিল্পীদের দীর্ঘদিনের যৌথ পরিশ্রমের এই ফসল সংগীতানুরাগী শ্রোতাদের মাঝে সমাদৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।