সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই অক্টোবর ২০০৭, ১১:৩২ এএম

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে কিছু নাম যুগান্তকারী অধ্যায় রচনা করেছে—তন্মধ্যে অন্যতম পণ্ডিত বিষ্ণুদিগম্বর পালুস্কর (Vishnu Digambar Paluskar)। তিনি শুধু একজন কিংবদন্তী গায়কই নন; তিনি ছিলেন সংগীতসংস্কারক, প্রতিষ্ঠান–প্রবর্তক, সঙ্গীতশিক্ষার আধুনিক ধারার জনক এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদের সাংস্কৃতিক মুখপাত্র।
তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৬২ সালের ২১ আগস্ট, মহারাষ্ট্রের কুরঙ্গবাড়/কুরুদণ্ড অঞ্চলের বেলগাঁও এলাকায়। তাঁর পরিবার ছিল গভীরভাবে ভক্তিমূলক সঙ্গীতে আসক্ত; তাই তাঁর শৈশব থেকেই সঙ্গীতচর্চার পরিবেশ তৈরি হয়।
Table of Contents

পালুস্করের পিতা পণ্ডিত দিগম্বর গোপাল ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ কীর্তনিয়া। তাঁর ভক্তিমূলক পরিবেশনা তখনকার সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু শৈশবেই এক দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনায় বিষ্ণুদিগম্বর দৃষ্টিশক্তি হারান।
এই অন্ধত্বই তাঁকে অধিকতর সংবেদনশীল, সংগীতে অধিক অনুরাগী এবং আত্মশক্তিতে দৃঢ় করে তোলে।

দৃষ্টিহীনতার কারণে সাধারণ শিক্ষার পথ বন্ধ হলেও তাঁর সঙ্গীতযাত্রা শুরু হয় মিরাজে। সেখানে তিনি শিক্ষালাভ করেন বিখ্যাত গন্ধর্বগায়ক পণ্ডিত বালকৃষ্ণ বুয়ার কাছে।
এখানেই তিনি –
তিনি বুঝতে পারেন যে সে সময় ভারতীয় সমাজে সঙ্গীতজ্ঞদের মর্যাদা ছিল অত্যন্ত সামান্য। তাঁর অন্তরে তখনই জন্ম নেয় সংগীতকে সম্মানজনক পেশায় পরিণত করার মহত্ সংকল্প।

বিষ্ণুদিগম্বরের অন্যতম ঐতিহাসিক অবদান ছিল ১৯০১ সালে বোম্বাইয়ে “গান্ধর্ব মহাবিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠা। এটি ভারতীয় সঙ্গীতশিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান, যেখানে –
পরবর্তীতে তিনি লাহোরেও একটি শাখা প্রতিষ্ঠা করেন, যা উত্তর ভারতে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিকাশে অসামান্য ভূমিকা রাখে।
গান্ধর্ব মহাবিদ্যালয়ের কারণেই—সঙ্গীত প্রথমবারের মতো কাস্ট–ভিত্তিক, বংশানুক্রমিক গণ্ডি ভেঙে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়।
বিষ্ণুদিগম্বর পালুস্কর ছিলেন স্বরলিপি–সংস্কারের পথিকৃৎ। তিনি –
তাঁর এই স্বরলিপি হিন্দুস্তানি সঙ্গীতশিক্ষায় আজও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
বিষ্ণুদিগম্বর ছিলেন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাংস্কৃতিক মুখ।
তাঁর রচিত দেশাত্মবোধক এবং ভক্তিমূলক গান –
তিনি সন্ন্যাসীর বেশে ভারতবর্ষের নানা প্রান্তে ভ্রমণ করে সঙ্গীতের প্রচার করেন।
পালুস্কর বহু গুরুত্বপূর্ণ বই, পুস্তিকা, স্বরলিপি এবং ভজনসংগ্রহ রচনা করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
তাঁর সঙ্গীতদর্শন ছিল—
বিষ্ণুদিগম্বর পালুস্করের শিষ্যরা পরবর্তীতে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে অসীম দীপ্তি ছড়ান। উল্লেখযোগ্য—
তাঁর সুযোগ্য পুত্র দত্তাত্রেয় পালুস্কর ছিলেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী।
পালুস্করদের নিজস্ব ধারা ভক্তিমূলক পরিবেশনার পর খেয়াল বা ঠুমরি পরিবেশন—আজও বিশেষ স্বীকৃত।
বিষ্ণুদিগম্বর পালুস্কর ১৯৩১ সালের ২১ আগস্ট পরলোকগমন করেন। কিন্তু তিনি রেখে গেছেন—
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে তাঁকে আধুনিক পুনর্জাগরণের জনক বলা হয়।
মন্তব্য