সাজুর ব্যাথায় আজও কাঁদে [ Sajur bathai aj o kade ]

“সাজুর ব্যাথায় আজও কাঁদে” গানটি লিখেছেন এবং সুরকরেছেন বিজয় সরকারবিজয় সরকার একজন বাউল কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার এবং সুরকার।

সাজুর ব্যাথায় আজও কাঁদে [ Sajur bathai aj o kade ]

গীতিকারঃ বিজয় সরকার

সুরকারঃ বিজয় সরকার

সাজুর ব্যাথায় আজও কাঁদে [ Sajur bathai aj o kade ]

নকসি কাঁথার মাঠেরে সাজুর ব্যথায় আজো কাঁদে
রূপাই মিয়ার বাঁশের বাঁশি ।
তাঁদের আশার বাসা ভেঙে গেছে
রে তবু যায় নি ভালোবাসাবাসি ।।

কতো আশা বুকে নিয়ে বেঁধেছিলো ঘর
কতো সুখে মিশেছিলো মিলনমঞ্চপর
হঠাৎ আসিয়া এক বৈশাখী ঝড় রে
সে ঘর কোথা গেলো ভাসি ।।

সাজুর কবরের এক পাশে নকসি কাঁথা গায়

রূপাই মিয়া শুয়ে আছে মরণের শয্যায় ;
তারা আছে চির নীরবতায় রে
তাদের দুইটি হিয়া পাশাপাশি ।।
অকরুণ দারুণ বিধি বিচার তোর কেমন
তোর বুঝি ভালোবাসার কেউ নাহি রে এমন ;
তাই তে বুঝিস না তুই বিরহীর মন রে
হারে কেমন তাদের কান্নাহাসি ।।
পল্লীকবি জসীমউদ্দীন বেদনার ছায়ায়
নকসিকাঁথা লিখেছে তার মনেরি মায়ায় ;
ভাবুক কবিগণ আনে কল্পনায় রে
যতো সত্য লোকের তত্ত্বরাশি ।।

নকসি কাথাঁর মাঠে লোকে আজো শুনতে পায়
সাজুর ব্যথার রূপাইমিয়া বাঁশরি বাজায় ;
পাগল বিজয় বলে , পরানে চায় রে
আমি একবার গিয়ে শুনে আসি ।।

বিজয় সরকারঃ

সাজুর ব্যাথায় আজও কাঁদে গানের গীতিকার অ সুরকার বিজয় সরকার  বাংলাদেশের  নড়াইলের ডুমদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম বিজয় কৃষ্ণ অধিকারী। কবি তার ভক্ত ও স্থানীয়দের কাছে ‘পাগল বিজয়’ হিসেবে সমধিক পরিচিত। তার পিতার নাম নবকৃষ্ণ বৈরাগী ও মাতার নাম হিমালয়া কুমারী। পিতামহের নাম গোপালচন্দ্র বৈররাগী । তিনি স্থানীয় টাবরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে নেপাল বিশ্বাস নামক একজন শিক্ষকের কাছে যাত্রাগানের উপযোগী নাচ, গান ও অভিনয় শেখেন।

১৯২৯ সালে বিজয় সরকার নিজের একটি গানের দল করেন এবং কবিয়াল হিসেবে পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তিনি গানের কথা এবং সুর করতেন। ভাটিয়ালী সুরের উপর ভিত্তি করে তার ধুয়া গানের জন্য তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা পান। তিনি রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীন, আব্বাসউদ্দীন আহমদ প্রমুখের সান্নিধ্যে আসেন।বিজয় সরকার প্রায় ৪০০ সখি সংবাদ এবং ধুয়া গান রচনা করেন।

তিনি ১৯৮৫ সালে ভারতের বেলুড়ে মৃতুবরণ করেন । 

Leave a Comment