সুর আর জনস্রোতে মাতল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার মানিক মিঞা অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’ এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। শনিবার বিকেল থেকেই দেশবরেণ্য হেভি মেটাল ও রক ব্যান্ডগুলোর পরিবেশনা দেখতে রাজধানী এবং এর আশপাশের এলাকা থেকে ছুটে আসেন হাজার হাজার সংগীতপ্রেমী তরুণ-তরউনী। উন্মাদনা আর সংগীতের মূর্ছনায় মেতে ওঠা দর্শক-শ্রোতাদের উপচে পড়া ভিড় মানিক মিঞা অ্যাভিনিউ ছাড়িয়ে একদিকে খামারবাড়ি মোড় এবং অন্যদিকে ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

বিকেল সাড়ে তিনটায় দেশীয় জনপ্রিয় হেভি মেটাল ব্যান্ড ‘মেকানিক্স’-এর পরিবেশনা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কনসার্টটির যাত্রা শুরু হয়। ৪০ মিনিটের জমজমাট আয়োজনে তারা মোট পাঁচটি গান পরিবেশন করে দর্শকদের মাতায়। তাদের পরিবেশনার সূচনা হয় ‘অপরাজেয়’ গানটি দিয়ে। এরপর ব্যান্ডটির প্রয়াত ও সাবেক সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মরণ জানিয়ে তারা গায় ‘নিয়তি’। পরবর্তীতে ‘ছিন্ন পৃষ্ঠা’, ‘শুভ্র শহর’ এবং তাঁদের প্রথম অ্যালবামের জনপ্রিয় গান ‘বিস্ময়’ পরিবেশন করে ব্যান্ডটি।

মেকানিক্সের পর মঞ্চে ওঠে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘শিরোনামহীন’। শুরুতেই তারা পরিবেশন করে তাদের বিখ্যাত গান ‘পাখি’। এরপর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী রচনা ‘দুর্গম গিরি কান্তার-মরু’ পরিবেশন করে দর্শকদের মাঝে এক ভিন্ন আবহ তৈরি করে। পরবর্তীতে ‘মা’, ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’, ‘আবার হাসি’ এবং বহুল জনপ্রিয় ‘এই অবেলায়’ গানটি গায় তারা। ‘এই অবেলায়’ গানটির সুরে মানিক মিঞা অ্যাভিনিউজুড়ে সমবেত হাজার হাজার দর্শক সুর মিলিয়ে এক অনন্য উন্মাদনা সৃষ্টি করেন।

একে একে মঞ্চে এসে গান পরিবেশন করে দেশের বিখ্যাত সব ব্যান্ড—আর্টসেল, ফিডব্যাক, ওয়ারফেজ ও মাইলস। ওয়ারফেজ তাদের পরিবেশনা শুরু করে ‘হারিয়ে তোমাকে’ গান দিয়ে। এরপর তারা একে একে গায় ‘অসামাজিক’, ‘তোমাকে’, ‘জাত গেল’, ‘মহারাজ’, ‘পূর্ণতা’ ও ‘বসে আছি একা’। অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী ব্যান্ড মাইলস মঞ্চে উঠে ‘জ্বালা জ্বালা’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করে এবং নিজেদের সিগনেচার গান ‘ফিরিয়ে দাও’ গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে।

রাত ১০টায় মঞ্চে নামেন এই সংগীতোৎসবের মূল আকর্ষণ—নগরবাউল জেমস। মঞ্চে উঠেই তিনি সমবেত সংগীতপ্রেমীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শুভরাত্রি ঢাকা, আই লাভ ইউ’। এরপর তাঁর দরদি গলায় ভেসে আসে ‘কবিতা তুমি স্বপ্নচারিণী হয়ে’। একে একে তিনি পরিবেশন করেন ‘দিওয়ানা’, ‘গুরু’, ‘মা’, ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘বাংলাদেশ’, ‘মীরা বাঈ’, ‘তারায় তারায়’ ও ‘পাগলা হাওয়া’। জেমসের পরিবেশনার সময় দর্শকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। গানের ফাঁকে ফাঁকে দর্শকদের প্রতি ভালোবাসা ব্যক্ত করে তিনি বারবার বলেন, ‘তোমরা আমার জান, তোমরা আমার প্রাণ’। অবশেষে তাঁর জনপ্রিয় গান ‘ভিগি ভিগি’ দিয়ে মধ্যরাতে শেষ হয় এই বর্ণাঢ্য আয়োজন।

কনসার্টের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের সদস্যসচিব জুবায়ের আহমেদ বাবু। এরপর বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের মাঝে বিনোদন ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মূল চেতনা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই এই বিশেষ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দেশের ভঙ্গুর পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য। বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করেই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

Tags :

জনপ্রিয় খবর

জনপ্রিয় বিভাগ

সম্পাদক ও প্রকাশক : সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর।

আমাদের সম্পর্কে

সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN হলো সংগীতপ্রেমীদের জন্য একটি অনলাইন জ্ঞান ও তথ্যভান্ডার। এখানে থাকছে গানের কথা ও বাণী, শিল্পী ও সংগীত ব্যক্তিত্বের তথ্য, গানের ধরন, সংগীত শিক্ষা, ইতিহাস, রিভিউ এবং সংগীতজগতের সাম্প্রতিক নানা বিষয়। সংগীতকে জানা, শেখা ও ভালোবাসার একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

ইমেইল করুন:

Press Release: pr@bn.musicgoln.com

Complaint: complaint@bn.musicgoln.com

Contact: +8801775895618

© ২০২৬ সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।