রুনা লায়লার আন্তর্জাতিক সম্মাননা ঘোষণা

বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের জীবন্ত কিংবদন্তি রুনা লায়লা আবারও আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশেষ সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন। উপমহাদেশের সংগীত ইতিহাসে তাঁর অবদান দীর্ঘ সময় ধরে অনন্য মর্যাদায় স্বীকৃত হয়ে আসছে। বাংলা, হিন্দি, উর্দু এবং বিভিন্ন ভাষায় তাঁর অসাধারণ কণ্ঠশৈলী তাঁকে বিশ্বজুড়ে শ্রোতাদের কাছে এক অনন্য আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বহু দশকের সংগীতজীবনে তাঁর গাওয়া গান আজও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ মে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজন শুরু হবে, যা চলবে ৮ মে পর্যন্ত। এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় শিল্পকলা কেন্দ্র এবং আম্বেদকর আন্তর্জাতিক কেন্দ্র—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক স্থানে। আয়োজনের শেষ দিন, অর্থাৎ ৮ মে, আনুষ্ঠানিকভাবে রুনা লায়লার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।

আয়োজক কমিটি চিঠির মাধ্যমে আগেই তাঁকে এই সম্মাননার বিষয়টি জানায়। এই স্বীকৃতি শুধু একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দক্ষিণ এশীয় সংগীত ঐতিহ্যের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রুনা লায়লা জানিয়েছেন, এই অর্জন তাঁর জীবনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের সংগীতজগতের জন্য গর্বের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সংগীতজীবনের এই পর্যায়ে এসে এমন সম্মান পাওয়া তাঁকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করছে। ভবিষ্যতে আরও সৃষ্টিশীল কাজ করার ইচ্ছা তাঁর রয়েছে এবং তিনি যতদিন সম্ভব শ্রোতাদের জন্য গান করে যেতে চান।

এছাড়া তিনি তাঁর আসন্ন নতুন গান নিয়েও কথা বলেন। প্রথমে গানটি একক কণ্ঠে রেকর্ড করার পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে এটি যুগল সংগীতে রূপ নেয় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে। শুরুতে বাপ্পা মজুমদার কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও রুনা লায়লার উৎসাহে তিনি এই সৃজনশীল সহযোগিতায় যুক্ত হন। গানটিতে গজলধর্মী আবহের সঙ্গে আধুনিক সুরের মিশ্রণ রয়েছে, যা তাঁর জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গানের কথা লিখেছেন গালিব হাসান এবং সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন বাপ্পা মজুমদার।

সম্প্রতি সিলেটে অনুষ্ঠিত একটি মঞ্চে প্রায় দেড় ঘণ্টা এককভাবে সংগীত পরিবেশন করেন রুনা লায়লা। এই পরিবেশনা সম্পর্কে তিনি জানান, এটি ছিল তাঁর জন্য অত্যন্ত আনন্দময় এবং পরিপূর্ণ একটি অভিজ্ঞতা। মঞ্চে শ্রোতাদের ভালোবাসা পাওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিচে আয়োজন ও সম্মাননার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
আয়োজনের সময়৪ মে থেকে ৮ মে
আয়োজনের স্থানদিল্লি (ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় শিল্পকলা কেন্দ্র ও আম্বেদকর আন্তর্জাতিক কেন্দ্র)
সম্মাননা প্রদানসমাপনী দিন, ৮ মে
সম্মানপ্রাপ্ত শিল্পীরুনা লায়লা
সংগীত সহযোগিতাবাপ্পা মজুমদার
গানের ধরণগজলধর্মী আধুনিক সুর

রুনা লায়লার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘ সংগীতযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের সংগীত ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধিতেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশ্লেষকদের মত।

Tags :

জনপ্রিয় খবর

জনপ্রিয় বিভাগ

সম্পাদক ও প্রকাশক : সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর।

আমাদের সম্পর্কে

সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN হলো সংগীতপ্রেমীদের জন্য একটি অনলাইন জ্ঞান ও তথ্যভান্ডার। এখানে থাকছে গানের কথা ও বাণী, শিল্পী ও সংগীত ব্যক্তিত্বের তথ্য, গানের ধরন, সংগীত শিক্ষা, ইতিহাস, রিভিউ এবং সংগীতজগতের সাম্প্রতিক নানা বিষয়। সংগীতকে জানা, শেখা ও ভালোবাসার একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

ইমেইল করুন:

Press Release: pr@bn.musicgoln.com

Complaint: complaint@bn.musicgoln.com

Contact: +8801775895618

© ২০২৬ সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।