বলিউডের এভারগ্রিন ডিভা রেখা এবং আশির দশকের পাকিস্তানের সেনসেশনাল পপ গায়ক হাসান জাহাঙ্গীর—এই দুই তারকাকে ঘিরে বিনোদন জগতে একটি গুঞ্জন বহু বছরের পুরোনো। গুঞ্জনটি হলো, একসময় নাকি হাসান জাহাঙ্গীরের প্রেমে মজেছিলেন রেখা এবং তাকে একটি প্রেমপত্রও পাঠিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে সেই অধ্যায়। তবে এবারও রহস্যের জট পুরোপুরি খুললেন না ‘হাওয়া হাওয়া’ খ্যাত এই গায়ক।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন হাসান জাহাঙ্গীর। সঞ্চালক যখন তাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন—রেখা কি সত্যিই তাকে প্রেমপত্র লিখেছিলেন? জবাবে এই পপ তারকা রহস্যময় হাসি দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
তিনি অত্যন্ত মার্জিতভাবে বলেন:
“কিছু বিষয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। সবকিছু সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায় না।”
তার এই রহস্যময় মন্তব্যে পুরোনো সেই গুঞ্জন যেন নতুন করে ডালপালা মেলার সুযোগ পেল। কারণ, তিনি রেখার প্রেমপত্র দেওয়ার বিষয়টি যেমন নিশ্চিত করেননি, ঠিক তেমনি পরিষ্কারভাবে অস্বীকারও করেননি।
Table of Contents
বলিউডের তারকাদের সঙ্গে অম্লমধুর স্মৃতি
আলাপচারিতায় হাসান জাহাঙ্গীর বলিউডের সোনালী যুগের একঝাঁক মহাতারকার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের হৃদ্যতার কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান—অমিতাভ বচ্চন, মিঠুন চক্রবর্তী, গোবিন্দ, মাধুরী দীক্ষিত, মন্দাকিনী, আশা ভোঁসলে এবং বর্তমান যুগের দুই ‘খান’ সালমান ও শাহরুখের সঙ্গে তার অত্যন্ত চমৎকার ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
সঞ্চালক যখন রসিকতা করে জানতে চান, এই তারকাদের মধ্যে আর কে কে তাকে প্রেমপত্র লিখেছেন? তখন গায়ক হেসে জবাব দেন, “সবাই লিখেছে, সবাই লেখে। আমিও লিখেছি।”
ডাকাতদলের কবলে পপ তারকা: এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা
পডকাস্টে নিজের জীবনের একটি রোমাঞ্চকর ও অদ্ভুত অভিজ্ঞতার গল্পও শোনান হাসান জাহাঙ্গীর। তিনি জানান, একবার একদল ডাকাত তাকে ঘিরে ধরে এবং তার মোবাইল ফোন ও গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেয়। চরম সংকটের মুহূর্তে তিনি ডাকাতদের কাছে নিজের আসল পরিচয় তুলে ধরেন।
হাসান জাহাঙ্গীরের নাম শোনামাত্রই ডাকাতদের রূপ বদলে যায়। প্রিয় গায়ককে সামনে দেখে তারা অত্যন্ত অনুতপ্ত হয় এবং ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ও চাবি সসম্মানে ফেরত দিয়ে ক্ষমা চেয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ও ধর্মেন্দ্রর অমূল্য উপদেশ
দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়েও নিজের উদার ও পরিপক্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন এই শিল্পী। তিনি বলেন, দেশপ্রেম কখনোই অন্য দেশের প্রতি ঘৃণা বা সংঘাতের কারণ হওয়া উচিত নয়। নিজের দেশকে ভালোবাসার পাশাপাশি প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই আসল সার্থকতা। যুদ্ধ কখনো কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
কথাপ্রসঙ্গে তিনি বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর কাছ থেকে পাওয়া একটি অমূল্য উপদেশের কথা স্মরণ করেন। ধর্মেন্দ্র তাকে বলেছিলেন:
“উঁচু চিন্তা করো, কিন্তু চোখ নিচু রাখো।”
এই একটি বাক্য হাসান জাহাঙ্গীরের জীবনদর্শন বদলে দিয়েছিল। তিনি জানান, এই কথার মাধ্যমে তিনি জীবনে বড় স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি সবসময় বিনয়ী ও মাটির কাছাকাছি থাকার দীক্ষা পেয়েছেন।
‘হাওয়া হাওয়া’ এবং হাসান জাহাঙ্গীর
আশির দশকে পপ সংগীতের জগতে এক রাজকীয় উত্থান ঘটেছিল হাসান জাহাঙ্গীরের। ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগে তার গাওয়া ‘হাওয়া হাওয়া’ গানটি দক্ষিণ এশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে। অ্যালবামটি সে সময় কোটি কোটি কপি বিক্রি হয়েছিল। আজও ভারত ও পাকিস্তানের সংগীতপ্রেমীদের কাছে তিনি এক নস্টালজিয়ার নাম। সমকালীন পপ সংগীতে তার অবদান তাকে উপমহাদেশের পপ সংস্কৃতির অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে।













![তত্ত্ব তোমারি পরশে জীবন আমার তোমারি পরশে জীবন আমার ওগো ধন্য হল [ Tomari Porshe Jibone Amar Ogo Dhonnno ]](https://bn.musicgoln.com/wp-content/uploads/2024/01/তোমারি-পরশে-জীবন-আমার-1024x576.webp)

