সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ৫:৩০ পিএম

দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দেওয়া কণ্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবী আবারও মৌলিক গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের সামনে ফিরছেন। নতুন দুটি গান প্রকাশের প্রস্তুতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কনসার্ট সফর নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। নিজের শিল্পীসত্তা, সংগীতচর্চার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের শ্রোতাদের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই নতুন এই আয়োজন বলে জানিয়েছেন বরেণ্য এই শিল্পী।
ফাহমিদা নবীর নতুন দুটি গানের নাম ‘অভিমান শেষে’ এবং ‘জানালার কাছ’। শিল্পীর ভাষ্য, অনেক দিন পর এমন দুটি গান হাতে এসেছে, যেগুলোর অনুভূতি, আবেগ ও ভাবনার সঙ্গে তিনি নিজেকে গভীরভাবে খুঁজে পেয়েছেন। তাই গান দুটি কেবল নতুন প্রকাশনা নয়, বরং তার দীর্ঘ সংগীতযাত্রার অভিজ্ঞতা, শিল্পভাবনা এবং শ্রোতাদের সঙ্গে গড়ে ওঠা আত্মিক সম্পর্কেরও বহিঃপ্রকাশ।
‘অভিমান শেষে’ গানটির কথা লিখেছেন রাজু আহমেদ। সুর করেছেন এহসান রাহী এবং সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ। গানটি প্রকাশ পাবে ‘শব্দ কারিগর’ লেবেল থেকে। অন্যদিকে ‘জানালার কাছ’ গানটির গীতিকার ইমন আহমেদ। এর সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন কামরুজ্জামান সুজন। গানটির রেকর্ডিংয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।
নতুন গান নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ফাহমিদা নবী বলেন, একজন শিল্পীর কাছে প্রতিটি গান সমান গুরুত্বপূর্ণ হলেও কিছু গান ব্যক্তিগত অনুভূতির খুব কাছাকাছি চলে আসে। তার মতে, এই দুটি গান সেই বিশেষ জায়গাটিই তৈরি করেছে। কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি আত্মতৃপ্তি অনুভব করছেন এবং বিশ্বাস করেন, ভালো গান কখনোই সময়ের কাছে হারিয়ে যায় না। তা ধীরে হলেও একসময় শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেয়।
সমসাময়িক সংগীতাঙ্গনের পরিবর্তিত প্রবণতা নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এই শিল্পী। তার মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই গান তৈরির চেয়ে দ্রুত জনপ্রিয় হওয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। অল্প সময়ের ভাইরাল সাফল্যকে অনেকেই এখন অর্জনের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি মনে করেন, একটি গানের প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় তার কথা, সুর, পরিবেশনা, শিল্পমান এবং দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মনে বেঁচে থাকার সক্ষমতার মাধ্যমে।
ফাহমিদা নবীর বিশ্বাস, সংগীতের আসল শক্তি ক্ষণিকের আলোচনায় নয়, বরং সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকার মধ্যেই নিহিত। তাই তিনি সবসময় এমন গান নির্বাচন করেন, যেখানে কথার গভীরতা, সুরের সৌন্দর্য এবং আবেগের আন্তরিকতা সমানভাবে উপস্থিত থাকে। তার মতে, একটি গান প্রকাশের পরপরই ব্যাপক আলোচনায় না এলেও, যদি সেটি মানুষের অনুভূতিকে স্পর্শ করতে পারে, তবে সেটিই শিল্পীর সবচেয়ে বড় অর্জন।
গান গাওয়ার পাশাপাশি নিজের মৌলিক সৃষ্টিকর্ম নিয়েও ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে নিজের লেখা ও সুর করা কয়েকটি নতুন গানের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব গানের সংগীতায়োজন সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে সেগুলো তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে সরাসরি পৌঁছাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও দেখছেন।
এর আগে তার সর্বশেষ একক গান ‘খেয়ালি সুর’ প্রকাশিত হয়। গানটির কথা লিখেছিলেন আমিরুল ইসলাম অরুণ এবং সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছিলেন ফুয়াদ নাসের। সেই গানের পর নতুন দুটি মৌলিক সৃষ্টি তার সাম্প্রতিক সংগীতযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই প্রত্যাশা করছেন সংগীতসংশ্লিষ্টরা।
নতুন গান প্রকাশের ব্যস্ততার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সক্রিয় থাকছেন ফাহমিদা নবী। আগামী ৮ আগস্ট তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন। এই সফরে দুটি লাইভ কনসার্টে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬ আগস্ট ভার্জিনিয়ায় এবং ২৯ আগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসে তার পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের জন্য এই আয়োজন বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা।
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে ফাহমিদা নবী দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রেখেছেন। আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের গান, দেশাত্মবোধক সংগীত এবং বিভিন্ন বিশেষ আয়োজন—সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজের কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্য, আবেগময় পরিবেশনা ও সংগীতের প্রতি নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েও তিনি নিজের শিল্পীসত্তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখেছেন।
সংগীতপ্রেমীদের দৃষ্টিতে নতুন দুটি গান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কনসার্ট সফর ফাহমিদা নবীর চলমান সংগীতযাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এখন অপেক্ষা কেবল গান দুটি প্রকাশের, আর শ্রোতাদের ভালোবাসায় সেগুলো কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে, সেটিই সময় বলে দেবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য