সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুলাই ২০২৬, ৬:১৩ পিএম

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী দিলশাদ নাহার কণা নতুন প্রেমের গানচিত্র ‘মন দাও’ নিয়ে আবারও সংগীতপ্রেমীদের সামনে হাজির হয়েছেন। ভালোবাসার আবেগ, মিষ্টি অনুভূতি এবং আধুনিক সংগীতায়োজনের সমন্বয়ে তৈরি এই গান ইতোমধ্যে শ্রোতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার রঙ্গন মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়েছে গানটির ভিডিওচিত্র।
নতুন গান ‘মন দাও’ কণার দীর্ঘ সংগীতজীবনে ভিন্ন আবহের একটি সংযোজন। গানটির কথায় ফুটে উঠেছে ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা, প্রিয় মানুষের প্রতি টান এবং আবেগঘন অনুভূতি। সুরের কোমলতা ও সংগীতায়োজনের আধুনিক ছোঁয়া গানটিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। শ্রোতাদের জন্য এটি শুধু একটি গান নয়, বরং প্রেমের অনুভূতিকে সুরের মাধ্যমে প্রকাশের একটি নান্দনিক প্রয়াস।
গানটির কথা লিখেছেন গীতিকার এমডি জামাল হোসেন। সুর সৃষ্টি ও সংগীত পরিচালনা করেছেন শিল্পী সজীব দাস। একই সঙ্গে কণার সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে গানটিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। কণার পরিণত ও আবেগময় কণ্ঠের সঙ্গে সজীবের কণ্ঠের সমন্বয় গানটিতে তৈরি করেছে একটি ভিন্ন ধরনের শ্রুতিমধুর পরিবেশ।
‘মন দাও’ গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছেন নির্মাতা সৈকত রেজা। ভিডিওচিত্রে মডেল হিসেবে অভিনয় করেছেন অলংকর চৌধুরী। নির্মাণসংশ্লিষ্টদের মতে, গানের মূল ভাবনার সঙ্গে মিল রেখে ভিডিওতে ভালোবাসা, আবেগ এবং নান্দনিক দৃশ্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গল্পের উপস্থাপন, দৃশ্যের বিন্যাস এবং চরিত্রগুলোর উপস্থিতির মাধ্যমে দর্শকের কাছে একটি অনুভূতিপূর্ণ অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
নতুন গানটি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে দিলশাদ নাহার কণা বলেন, ‘মন দাও’ একটি মিষ্টি অনুভূতির গান। বর্তমানে বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যেও শ্রোতারা গানটি শুনছেন এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। সজীব দাসের সুর ও সংগীত পরিচালনায় এর আগেও কাজ করেছেন তিনি। এবারও তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো হয়েছে বলে জানান কণা। পাশাপাশি এমডি জামাল হোসেনের লেখা গানের কথার প্রশংসাও করেন তিনি।
কণার মতে, একটি গান শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হলে শুধু কণ্ঠশিল্পীর ভূমিকা যথেষ্ট নয়। একটি সফল গানের জন্য প্রয়োজন সুন্দর কথা, মানানসই সুর, যত্নশীল সংগীতায়োজন এবং আকর্ষণীয় উপস্থাপন। ‘মন দাও’ তৈরির সময় প্রতিটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে দিলশাদ নাহার কণা দীর্ঘদিন ধরে নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের গান, একক সংগীত এবং বিভিন্ন বিশেষ আয়োজন—সব ক্ষেত্রেই তার কণ্ঠ শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। গায়কির বৈচিত্র্য, কণ্ঠের শক্তি এবং মঞ্চ পরিবেশনার দক্ষতার কারণে তিনি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
কণার ক্যারিয়ারে রোমান্টিক গান বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে তিনি কখনো নিজেকে একটি নির্দিষ্ট সংগীতধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। চলচ্চিত্রের আবেগঘন গান থেকে শুরু করে আধুনিক ধারার একক গান—বিভিন্ন ধরনের সংগীতে তিনি নিজের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। নতুন গান ‘মন দাও’ সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি উদাহরণ।
বর্তমানে বড় ক্রীড়া আয়োজনের কারণে বিনোদন অঙ্গনে শ্রোতাদের মনোযোগ নানা দিকে থাকলেও নতুন গানটি নিয়ে আশাবাদী শিল্পী ও নির্মাতারা। তাদের বিশ্বাস, সহজ-সরল কথামালা, আকর্ষণীয় সুর এবং সুন্দর ভিডিওচিত্রের কারণে গানটি শ্রোতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
সংগীতপ্রেমীদের জন্য নিয়মিত নতুন কাজ নিয়ে হাজির হচ্ছেন কণা। তার প্রত্যাশা, ‘মন দাও’ প্রকাশের সময়ের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দীর্ঘদিন শ্রোতাদের ভালো লাগার তালিকায় জায়গা করে নেবে। প্রেম ও অনুভূতির আবহে তৈরি এই গান নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন শিল্পী ও সংশ্লিষ্টরা।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য