সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুন ২০২৬, ৫:২২ পিএম

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে আধুনিক যুগের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রধান কারিগর, কিংবদন্তি শিল্পী গওহর জানের আজ জন্মবার্ষিকী। ১৮৭৩ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করা এই অসামান্য সঙ্গীতশিল্পী তাঁর জাদুকরী কণ্ঠ, অনন্য শিল্পসত্তা এবং সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা চিন্তাভাবনার জন্য ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি শুধু একজন সাধারণ শিল্পী ছিলেন না, বরং ভারতীয় সঙ্গীত জগতের খোলনলচে বদলে দেওয়া এক বিপ্লবী নারী ছিলেন।
Table of Contents
গওহর জানের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবদান হলো ভারতের প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ডিং শিল্পী হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ। ১৯০২ সালের নভেম্বর মাসে বিখ্যাত গ্রামোফোন অ্যান্ড টাইপরাইটার কোম্পানির রেকর্ডিং ইঞ্জিনিয়ার ফ্রেডরিক উইলিয়াম গায়েসবার্গ কলকাতায় আসেন। তিনি এমন একজন শিল্পীর সন্ধান করছিলেন যিনি এই নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে ভয় পাবেন না। সেই সময়ে অনেক নামী উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী তাঁদের কণ্ঠ রেকর্ড করতে অস্বীকৃতি জানান, কারণ তাঁদের ধারণা ছিল এতে কণ্ঠের পবিত্রতা নষ্ট হবে বা ঐশ্বরিক ক্ষমতা চলে যাবে। কিন্তু গওহর জান ছিলেন সাহসী ও দূরদর্শী। তিনি এই চ্যালেঞ্জ সানন্দে গ্রহণ করেন এবং ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেন।
সেই সময়কার আদিম রেকর্ডিং প্রযুক্তিতে একটি মোমের চাকতিতে মাত্র তিন মিনিটের মতো অডিও ধারণ করা যেত। ওস্তাদ ও পন্ডিতদের যেখানে একটি রাগ পরিবেশন করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যেত, সেখানে মাত্র তিন মিনিটে একটি শাস্ত্রীয় গান সম্পূর্ণ করা ছিল প্রায় অসম্ভব এক পরীক্ষা। গওহর জান তাঁর অসাধারণ গায়কী এবং বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এই কঠিন কাজটি সহজ করে তোলেন। তিনি তিন মিনিটের মধ্যেই রাগের বিস্তার, তান এবং দ্রুত বন্দিশের এমন এক চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করতেন, যা শুনলে মনে হতো এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনা। প্রতিটি রেকর্ডিংয়ের ঠিক শেষে তিনি উচ্চ কণ্ঠে ইংরেজিতে ঘোষণা করতেন—”মাই নেম ইজ গওহর জান”। আসলে এই ঘোষণাটি কোনো অহংকার থেকে ছিল না; এটি করা হতো জার্মানির হ্যানোভারে অবস্থিত কারখানার টেকনিশিয়ানদের সুবিধার্থে, যাতে তাঁরা বুঝতে পারেন এটি কার কণ্ঠের রেকর্ড। পরবর্তীতে এই বাক্যটিই তাঁর আইকনিক ট্রেডমার্কে পরিণত হয়।
খেয়াল, ঠুমরি, দাদরা, টপ্পা কিংবা ভজন—সঙ্গীতের প্রতিটি ধারায় গওহর জানের ছিল সমান আধিপত্য। বহুমুখী এই প্রতিভা তাঁকে সে যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত করেছিল। তিনি শুধু রাজদরবারের বন্দিদশা থেকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে মুক্ত করেননি, বরং প্রযুক্তির সাহায্যে তা পৌঁছে দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের বসার ঘরে। বাংলা, হিন্দুস্তানি, গুজরাটি, তামিলসহ প্রায় দশটিরও বেশি ভাষায় তিনি গান রেকর্ড করেছিলেন, যা তাঁর ভাষাগত দক্ষতা ও বৈচিত্র্যের পরিচয় দেয়।
সময়ের সাথে সাথে গান শোনার মাধ্যম গ্রামোফোনের চং থেকে ক্যাসেট, সিডি কিংবা আজকের ডিজিটাল স্ট্রিমিং অ্যাপে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রযুক্তির এই বিশাল পরিবর্তনের পরও গওহর জানের কাজের প্রাসঙ্গিকতা এতটুকু কমেনি। তাঁর কণ্ঠে রেকর্ড হওয়া গানগুলো আজ কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং রাগ সঙ্গীতের বিবর্তনের এক অমূল্য ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে গবেষকদের কাছে সমাদৃত। আজ তাঁর জন্মবার্ষিকীতে বিশ্বজুড়ে সঙ্গীতপ্রেমী ও গবেষকেরা এই মহান অগ্রপথিককে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন।
গওহর জানের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবদান হলো ভারতের প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ডিং শিল্পী হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ। ১৯০২ সালের নভেম্বর মাসে বিখ্যাত গ্রামোফোন অ্যান্ড টাইপরাইটার কোম্পানির রেকর্ডিং ইঞ্জিনিয়ার ফ্রেডরিক উইলিয়াম গায়েসবার্গ কলকাতায় আসেন। তিনি এমন একজন শিল্পীর সন্ধান করছিলেন যিনি এই নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে ভয় পাবেন না। সেই সময়ে অনেক নামী উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী তাঁদের কণ্ঠ রেকর্ড করতে অস্বীকৃতি জানান, কারণ তাঁদের ধারণা ছিল এতে কণ্ঠের পবিত্রতা নষ্ট হবে বা ঐশ্বরিক ক্ষমতা চলে যাবে। কিন্তু গওহর জান ছিলেন সাহসী ও দূরদর্শী। তিনি এই চ্যালেঞ্জ সানন্দে গ্রহণ করেন এবং ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেন।
সেই সময়কার আদিম রেকর্ডিং প্রযুক্তিতে একটি মোমের চাকতিতে মাত্র তিন মিনিটের মতো অডিও ধারণ করা যেত। ওস্তাদ ও পন্ডিতদের যেখানে একটি রাগ পরিবেশন করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যেত, সেখানে মাত্র তিন মিনিটে একটি শাস্ত্রীয় গান সম্পূর্ণ করা ছিল প্রায় অসম্ভব এক পরীক্ষা। গওহর জান তাঁর অসাধারণ গায়কী এবং বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এই কঠিন কাজটি সহজ করে তোলেন। তিনি তিন মিনিটের মধ্যেই রাগের বিস্তার, তান এবং দ্রুত বন্দিশের এমন এক চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করতেন, যা শুনলে মনে হতো এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনা। প্রতিটি রেকর্ডিংয়ের ঠিক শেষে তিনি উচ্চ কণ্ঠে ইংরেজিতে ঘোষণা করতেন—”মাই নেম ইজ গওহর জান”। আসলে এই ঘোষণাটি কোনো অহংকার থেকে ছিল না; এটি করা হতো জার্মানির হ্যানোভারে অবস্থিত কারখানার টেকনিশিয়ানদের সুবিধার্থে, যাতে তাঁরা বুঝতে পারেন এটি কার কণ্ঠের রেকর্ড। পরবর্তীতে এই বাক্যটিই তাঁর আইকনিক ট্রেডমার্কে পরিণত হয়।
খেয়াল, ঠুমরি, দাদরা, টপ্পা কিংবা ভজন—সঙ্গীতের প্রতিটি ধারায় গওহর জানের ছিল সমান আধিপত্য। বহুমুখী এই প্রতিভা তাঁকে সে যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত করেছিল। তিনি শুধু রাজদরবারের বন্দিদশা থেকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে মুক্ত করেননি, বরং প্রযুক্তির সাহায্যে তা পৌঁছে দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের বসার ঘরে। বাংলা, হিন্দুস্তানি, গুজরাটি, তামিলসহ প্রায় দশটিরও বেশি ভাষায় তিনি গান রেকর্ড করেছিলেন, যা তাঁর ভাষাগত দক্ষতা ও বৈচিত্র্যের পরিচয় দেয়।
সময়ের সাথে সাথে গান শোনার মাধ্যম গ্রামোফোনের চং থেকে ক্যাসেট, সিডি কিংবা আজকের ডিজিটাল স্ট্রিমিং অ্যাপে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রযুক্তির এই বিশাল পরিবর্তনের পরও গওহর জানের কাজের প্রাসঙ্গিকতা এতটুকু কমেনি। তাঁর কণ্ঠে রেকর্ড হওয়া গানগুলো আজ কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং রাগ সঙ্গীতের বিবর্তনের এক অমূল্য ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে গবেষকদের কাছে সমাদৃত। আজ তাঁর জন্মবার্ষিকীতে বিশ্বজুড়ে সঙ্গীতপ্রেমী ও গবেষকেরা এই মহান অগ্রপথিককে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন।
মন্তব্য