সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই জুলাই ২০২৬, ৫:১৯ পিএম

বিশ্বসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী বিয়ন্সে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা অপ্রকাশিত গান ‘মর্নিং ডিউ (ডঙ্ক)’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছেন। বহু বছর ধরে ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই গান প্রকাশের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তাঁর বহুল প্রশংসিত দ্বিতীয় স্টুডিও অ্যালবাম ‘বি’ডে’-এর ২০তম বর্ষপূর্তি উদ্যাপনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি। নতুন এই প্রকাশনা শুধু একটি গান উন্মোচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিয়ন্সের সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়কে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
শনিবার বিভিন্ন সংগীত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে গানটি প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে ৬০ দিনের বিশেষ কাউন্টডাউন। এর সমাপ্তিতে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হবে ‘বি’ডে’-এর ২০তম বর্ষপূর্তি সংস্করণ। দিনটি বিয়ন্সের জন্মদিনও হওয়ায় এবারের আয়োজন তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের এক বিশেষ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে নতুন সংস্করণ ঘিরে সংগীতপ্রেমীদের আগ্রহও ক্রমেই বাড়ছে।
বিয়ন্সের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পার্কউড এন্টারটেইনমেন্ট জানিয়েছে, গানটির সঙ্গে একটি লিরিক ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন ক্লিফ ওয়াটস। এতে অতীতের সংরক্ষিত ভিডিও ফুটেজ নতুনভাবে সম্পাদনা ও উপস্থাপন করা হয়েছে, যা গানটির আবেগ ও স্মৃতিময় পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। ভক্তদের জন্য এটি যেন অতীত ও বর্তমানের এক আবেগঘন সংযোগ।
‘মর্নিং ডিউ (ডঙ্ক)’ গানটি লিখেছেন বিয়ন্সে, ফ্যারেল উইলিয়ামস, দ্য-ড্রিম এবং ড্যারিয়াস ডিক্সন। প্রযোজনার দায়িত্বও পালন করেছেন বিয়ন্সে ও ফ্যারেল উইলিয়ামস। যদিও গানটি বহু বছর আগে সম্পন্ন হয়েছিল, বিভিন্ন কারণে তা এতদিন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এ সময়ের মধ্যে এটি বিয়ন্সের সবচেয়ে আলোচিত অপ্রকাশিত গানগুলোর একটি হিসেবে পরিচিতি পায়।
জানা যায়, গানটি ২০১৩ সালে রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০২১ সালে এর একটি সংক্ষিপ্ত অংশ প্রথমবারের মতো অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দুই বছর পর সম্পূর্ণ গানটি অননুমোদিতভাবে ফাঁস হয়ে যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই ভক্তরা গানটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গানটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করলেন বিয়ন্সে।
পার্কউড এন্টারটেইনমেন্ট জানিয়েছে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য কেবল একটি পুরোনো গান প্রকাশ করা নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে বিয়ন্সের সংগীতযাত্রার সঙ্গে থাকা অনুরাগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশও এর অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে ‘বিহাইভ’ নামে পরিচিত তাঁর বিশ্বব্যাপী নিবেদিতপ্রাণ ভক্তদের জন্য এটি একটি বিশেষ উপহার হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
২০০৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘বি’ডে’ অ্যালবামটি বিয়ন্সের ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল ও প্রভাবশালী সংগীত প্রকল্প। প্রকাশের প্রথম সপ্তাহেই এটি বিলবোর্ড ২০০ অ্যালবাম তালিকার শীর্ষে উঠে আসে এবং পাঁচ লাখ ৪১ হাজারেরও বেশি ইউনিট বিক্রি হয়। অ্যালবামটির ‘ডেজা ভু’, ‘রিং দ্য অ্যালার্ম’ এবং ‘ইররিপ্লেসেবল’ গানগুলো বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এসব গান শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যই পায়নি, বরং সমকালীন পপ ও আরঅ্যান্ডবি সংগীতে বিয়ন্সের অবস্থান আরও দৃঢ় করে।
এর ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয় অ্যালবামটির ডিলাক্স সংস্করণ। সেখানে পাঁচটি নতুন গান সংযোজনের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত করা হয় ‘বি’ডে অ্যান্থোলজি ভিডিও অ্যালবাম’, যাতে মোট ১৩টি মিউজিক ভিডিও ছিল। এই সংস্করণও ভক্তদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পায় এবং অ্যালবামটির জনপ্রিয়তাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করে।
বিয়ন্সের সর্বশেষ স্টুডিও অ্যালবাম ‘কাউবয় কার্টার’ ২০২৪ সালে প্রকাশিত হয়। অ্যালবামটি সমালোচকদের প্রশংসা অর্জনের পাশাপাশি গ্র্যামি পুরস্কারও জিতে নেয়। একই সময়ে তাঁর ‘রেনেসাঁ’ ত্রয়ীর শেষ অধ্যায় নিয়ে সংগীত অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। অনুরাগীদের একটি বড় অংশের ধারণা, নতুন প্রকল্পে তিনি রক ঘরানার সংগীতে নতুন ধরনের সৃজনশীল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে বিয়ন্সে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।
‘মর্নিং ডিউ (ডঙ্ক)’-এর আনুষ্ঠানিক প্রকাশ তাই শুধু বহুদিনের অপেক্ষার সমাপ্তিই নয়, বরং ‘বি’ডে’ অ্যালবামের দুই দশকের যাত্রাকে নতুনভাবে উদ্যাপনের সূচনাও। আগামী সেপ্টেম্বরে প্রকাশিতব্য বিশেষ সংস্করণ ঘিরে এখন ভক্তদের প্রত্যাশা আরও তুঙ্গে, আর নতুন এই আয়োজন বিয়ন্সের দীর্ঘ সংগীতজীবনের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য