সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জানুয়ারি ২০২৩, ২:২৫ পিএম

হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে কিছু রাগ আছে যা অত্যন্ত কম সংখ্যক স্বর ব্যবহার করে এক অলৌকিক ও মায়াবী পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তেমনই এক অনন্য, সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত প্রভাবশালী রাগের নাম ‘রাগ মালশ্রী’। সাধারণত কল্যাণ ঠাটের রাগগুলো অনেক স্বর নিয়ে খেললেও, এই রাগটি তার ব্যতিক্রমী ও মিতব্যয়ী স্বর বিন্যাসের কারণে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের পণ্ডিতদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের ব্যাকরণে সুরের বৈচিত্র্য তৈরি করতে সাধারণত অনেক স্বরের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ‘রাগ মালশ্রী’ প্রমাণ করে যে, মাত্র ৩টি মূল স্বরের ওপর ভিত্তি করেও কতটা চমৎকার একটি রাগ গড়ে তোলা সম্ভব। উত্তর ভারতীয় সঙ্গীত পদ্ধতিতে এটি কল্যাণ ঠাটের অন্তর্গত একটি বিশেষ রাগ।
এই রাগের মূল কাঠামোটি দাঁড়িয়ে আছে মূলত ষড়্জ (স), গান্ধার (গ) এবং পঞ্চম (প)—এই তিনটি স্বরের ওপর ভিত্তি করে। রাগের চলনে তীব্র মধ্যম (হ্ম) এবং নিষাদ (ন) স্বর দুটিকে কেবল ‘সহায়ক স্বর’ হিসেবে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ব্যবহার করা হয়।
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী এই রাগের মূল কাঠামো ও প্রযুক্তিগত পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো:
রাগের সেই মিতব্যয়ী ও সুনিপুণ চলনটি স্বরলিপির মাধ্যমে বোঝার জন্য এর নিখুঁত রূপ নিচে দেওয়া হলো:
(নোট: এখানে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী ‘হ্ম’ দিয়ে তীব্র মধ্যমকে নির্দেশ করা হয়েছে।)
তথ্যসূত্র
এই রাগের ঐতিহাসিক ও শাস্ত্রীয় শুদ্ধতা বজায় রাখতে প্রামাণ্য দুটি উৎসের সহায়তা নেওয়া হয়েছে:
১. ‘উচ্চাঙ্গ ক্রিয়াত্মক সঙ্গীত’ – শক্তিপদ ভট্টাচার্য (নাথ ব্রাদার্স; ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭)।
২. ‘হিন্দুস্থানী সংগীত পদ্ধতি’ (দশম খণ্ড) – পণ্ডিত বিষ্ণুনারায়ণ ভাতখণ্ডে (বঙ্গানুবাদ: অসীমকুমার চট্টোপাধ্যায়; কার্তিক ১৩৯৮)।
রাগ মালশ্রী আমাদের শেখায় যে, জটিলতা ছাড়াই সুরের আসল মাধুর্যকে ছোঁয়া সম্ভব। সন্ধ্যার শান্ত পরিবেশে এই রাগের আলাপে যে গভীরতা তৈরি হয়, তা যেকোনো সঙ্গীতপ্রেমী মানুষের মনকে এক লহমায় শান্ত করে দেয়।
মন্তব্য