সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৩৪ এএম

বিতর্কিত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে আবারও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা এবং প্রায় ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নোবেল, তাঁর মা এবং স্ত্রীসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ এই আদেশ দেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর আদালত এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
Table of Contents
মামলার বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ নামক এক নারী অভিযোগ করেছেন যে, মাইনুল আহসান নোবেল তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে এবং পারিবারিক সমস্যার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় নোবেল মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা গ্রহণ করেছেন। পরবর্তীকালে বিয়ের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে নোবেল ও তাঁর পরিবার ওই অর্থ আত্মসাৎ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম জানান, গত বছরের ১৩ আগস্ট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। আদালত তখন বিষয়টি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআইয়ের সাব-ইন্সপেক্টর নুরুজ্জামান গত ৭ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন, যেখানে আসামীদের বিরুদ্ধে আনা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামীরা হলেন:
| ক্রমিক | আসামী | সম্পর্কের ধরণ/ভূমিকা |
| ১ | মাইনুল আহসান নোবেল | প্রধান আসামী (প্রেম ও বিয়ের প্রলোভনদানকারী) |
| ২ | নাজমা হোসেন | নোবেলের মা (সহযোগিতার অভিযোগ) |
| ৩ | ইসরাত জাহান প্রিয়া | নোবেলের স্ত্রী (সহযোগিতার অভিযোগ) |
| ৪ | মুনেম শাহ সৌমিক | নোবেলের ব্যক্তিগত সহকারী |
| ৫ | মাসুদ রানা | নোবেলের পরিচিত/সহযোগী |
এটিই নোবেলের বিরুদ্ধে প্রথম কোনো ফৌজদারি মামলা নয়। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে ‘ধর্ষণ ও মারধর’ অভিযোগে ডেমরা থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় ওই মামলার বাদীকে বিয়ে করার শর্তে তিনি মুক্তি পান। ২৪ জুন জামিনে বের হয়ে আসার পর আবারও তাঁর বিরুদ্ধে এই নতুন অর্থ আত্মসাতের মামলাটি সামনে এল।
আদালতের এই আদেশের পর গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে নোবেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর এক সহকারী শুরুতে বিষয়টিকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন। পরে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে জানানো হয় যে, নোবেল বর্তমানে গানের মহড়ায় ব্যস্ত আছেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলতে হলে আগে থেকে সময় নির্ধারণ করতে হবে।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন এবং আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এখন দেখার বিষয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরবর্তী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। গায়ক নোবেলের এমন আচরণ তাঁর ভক্ত ও সুধী সমাজে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মন্তব্য