সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন প্রাঙ্গণে জেমসের সংগীত পরিবেশনা শুরু হয়। প্রিয় শিল্পীকে সরাসরি দেখার পাশাপাশি তার গান উপভোগ করতে কনসার্টস্থলে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। অনুষ্ঠান শুরুর পর থেকেই দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে জেমসের এই প্রত্যাবর্তন ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ এক দশক বিরতি দিয়ে আবারও একই ক্যাম্পাসে তার সংগীত পরিবেশনা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
কনসার্ট চলাকালে জেমসের জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশিত হলে শিক্ষার্থীরা তার সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতে শুরু করেন। কেউ গানের তালে হাততালি দেন, কেউ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, আবার অনেকে মোবাইল ফোনে পরিবেশনার মুহূর্তগুলো ধারণ করেন। প্রিয় শিল্পীর গান সরাসরি শোনার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তা পুরো আয়োজনজুড়েই ছিল দৃশ্যমান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি জেমসের গান শুনে আসছেন। নিজের ক্যাম্পাসে প্রিয় শিল্পীকে সরাসরি গান গাইতে দেখা এবং তার সঙ্গে কণ্ঠ মেলানোর অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এই আয়োজন তাদের জন্য দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও জানান তিনি।
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার কাদের প্লাবন বলেন, জেমসের মতো জনপ্রিয় শিল্পীর গান সরাসরি উপভোগ করতে পেরে তারা আনন্দিত। পুরো কনসার্টজুড়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন প্রতিবছর হওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি।
এদিকে কনসার্ট চলাকালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দীন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও নগরবাউল জেমসকে আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপাচার্যের এই আশ্বাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক আয়োজনে দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ছিল ‘তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ—ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নগরবাউল জেমসের কনসার্ট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করারও একটি উপলক্ষ। এবারের আয়োজনে জেমসের অংশগ্রহণ সেই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ১০ বছর পর তার ফিরে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করেছে স্মরণীয় এক সংগীতসন্ধ্যা।













![তত্ত্ব ভুলিতে পারি না তারে ভোলা যায় না [ Vulite Pari Na Tare vola Jay Na ]](https://bn.musicgoln.com/wp-content/uploads/2024/01/vulite-pari-na-tare-vola-jay-na-1024x576.webp)

