নতুন সঙ্গীত সংকলন ‘বেশি জোস’ নিয়ে আসছেন নাফীজ

বাংলাদেশি সঙ্গীতশিল্পী ও গীতিকার নাফীজ আল আমিন ‘বেশি জোস’ শিরোনামে একটি নতুন বর্ধিত ক্রীড়ন বা চার গানের একটি সঙ্গীত সংকলন প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। এই বিশেষ প্রকল্পটিতে দীর্ঘ বছরের গান রচনার অভিজ্ঞতা এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুণী সঙ্গীতশিল্পীদের সাথে যৌথ কাজের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব ঘরোয়া স্টুডিও বা গৃহ-রেকর্ডিং কক্ষে এই সংকলনের সমস্ত গান ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের একটি বিশেষত্ব হলো, গানে ব্যবহৃত শাব্দিক ড্রামস বা অ্যাকোস্টিক ড্রামসসহ সমস্ত বাদ্যযন্ত্রের সুর এই গৃহ-রেকর্ডিং কক্ষেই ধারণ করা হয়েছে। সঙ্গীতশিল্পী নাফীজের মতে, এই কাজটি সম্পন্ন করতে টানা তিন মাসের নিবিড় ও কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়েছে, যদিও এর কিছু গানের সুর ও সুরের কাঠামো ২০০৪ সালের পুরোনো।

গুণী সঙ্গীতশিল্পীদের যৌথ অংশগ্রহণ

এই নতুন সঙ্গীত সংকলনটিতে দেশী ও আন্তর্জাতিক স্তরের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী একসাথে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত দল ‘ওয়ারফেজ’ এবং ‘পাওয়ারসার্জ’-এর সমীর হাফিজ, ‘ওনড’ দলের প্রীতম, ‘কনক্লুশন’ দলের মাহেয়ান এবং আসিফ রানান এই প্রকল্পে তাদের অবদান রেখেছেন। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরের শিল্পীদের মধ্যে আর্জেন্টিনার সঙ্গীতশিল্পী মার্কো এবং আমেরিকার ডেথ মেটাল বা চরম ধাতু ঘরানার সঙ্গীত দল ‘অবিচুয়ারি’-এর কেন অ্যান্ড্রিউজ এই সংকলনে অংশ নিয়েছেন।

সংকলনের গানগুলোর বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের তথ্য নিচে একটি সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

সঙ্গীত সংকলনের নামগানের সংখ্যাগীতিকারসহযোগী সঙ্গীতশিল্পীবৃন্দরেকর্ডিংয়ের স্থান
বেশি জোস৪টি গাননাফীজ আল আমিন এবং আশফাক পল্লবসমীর হাফিজ, প্রীতম, মাহেয়ান, মার্কো, কেন অ্যান্ড্রিউজ ও আসিফ রানাননিজস্ব গৃহ-রেকর্ডিং কক্ষ

গানের ধরন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত চারটি গানের মধ্যে তিনটি গানের কথা ও লিরিক লিখেছেন নাফীজ আল আমিন নিজেই। তবে ‘সময়কে ছাড়িয়ে’ শিরোনামের একটি বিশেষ গানের কথা রচনা করেছেন আশফাক পল্লব। এই প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে সঙ্গীতশিল্পী নাফীজ উল্লেখ করেছেন যে, এই সংকলনটি নির্দিষ্ট কোনো একটি মাত্র ধারার সঙ্গীত অনুসরণ করে তৈরি করা হয়নি। বরং এতে একাধিক ভিন্ন ভিন্ন ঘরানা ও শৈলীর সঙ্গীতের এক চমৎকার মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে।

নিজের কাজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্যক্ত করে এই শিল্পী জানান, এই কাজটি সম্পন্ন করতে তাকে দীর্ঘ তিন মাস অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবে এর কিছু সুরের সৃষ্টি হয়েছিল ২০০৪ সালে। এই সংকলনে বিভিন্ন শৈলীর গানের মিশ্রণ রয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতে তিনি আরও নতুন নতুন গান শ্রোতাদের উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। চূড়ান্ত পর্যায়ে এই প্রকল্পটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সঙ্গীত অ্যালবামে রূপ দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। এছাড়াও এই নতুন গানগুলোর প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন দেশে ও রাজ্যে সরাসরি মঞ্চ পারফরম্যান্স বা লাইভ কনসার্টে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। একই সাথে বিভিন্ন বহুসাংস্কৃতিক উৎসব এবং সঙ্গীতানুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দর্শকদের সামনে এই গানগুলো পরিবেশন করার ব্যাপারেও তিনি আশাবাদী।