ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান লিরিক্স [ Fagun Haway Haway Lyrics ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [ Rabindranath Tagore ]

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রকৃতি পর্যায়’-এর বসন্তের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রাণবন্ত সৃষ্টি “ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান” (গানটির অন্তরায় “তোমার অশোকে কিংশুকে” অংশটি বিশেষভাবে পরিচিত)। প্রকৃতির রূপ, বর্ণ ও দখিনা সমীরণে নিজের সমস্ত বাঁধন এবং অহংকারকে মুক্ত করে একাত্ম হওয়ার এই চিরন্তন গানটি বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী লোপামুদ্রা মিত্রের উন্মুক্ত ও বলিষ্ঠ কণ্ঠে এক অনন্য আধুনিক গতিময়তা লাভ করেছে। ঋতুরাজের আগমন কীভাবে মানুষের অন্তরের সব দুঃখ-বেদনাকে ধুয়েমুছে অকারণ আনন্দের রঙে ভরিয়ে তোলে, তারই এক অপূর্ব নান্দনিক প্রকাশ এই গান।

গানের বিস্তারিত তথ্য

তথ্যবিবরণবিস্তারিত তথ্য
মূল গানের শিরোনামফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান
গীতিকার ও সুরকাররবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পর্যায় ও শ্রেণিপ্রকৃতি পর্যায় (বসন্ত)
রাগ ও তালমিশ্র খাম্বাজ / কাহারবা
বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পীলোপামুদ্রা মিত্র
মূল উপজীব্যবসন্তের রূপ, প্রকৃতির সাথে আত্মিক মিলন, বাঁধনহীন মুক্তি ও আনন্দ
প্রতীক ও চিত্রকল্পঅশোক, কিংশুক, ঝাউয়ের দোল, রজনীগন্ধা, প্রজাপতি ও পূর্ণিমা

 

ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান লিরিক্স

ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান
তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান,
আমার আপনহারা প্রাণ,
আমার বাঁধন ছেঁড়া প্রাণ
তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান,
ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান।

তোমার অশোকে কিংশুকে,
তোমার অশোকে কিংশুকে
অলক্ষ্য রঙ লাগল আমার অকারণের সুখে।
তোমার ঝাউয়ের দোলে..
মর্মরিয়া ওঠে আমার দুঃখরাতের গান,
তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান
ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান।

পূর্ণিমা সন্ধ্যায়, তোমার রজনীগন্ধায়
রূপসাগরের পাড়ের পানে উদাসী মন ধায়,
পূর্ণিমা সন্ধ্যায়, তোমার রজনীগন্ধায়
রূপসাগরের পাড়ের পানে উদাসী মন ধায়,
তোমার প্রজাপতির পাখা,
তোমার প্রজাপতির পাখা
আমার আকাশ চাওয়া মুগ্ধ চোখের
রঙিন স্বপন মাখা,
তোমার চাঁদের আলোয়..
মিলায় আমার দুঃখ-সুখের সকল অবসান।

তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান
ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান,
আমার আপনহারা প্রাণ,
আমার বাঁধন ছেঁড়া প্রাণ
তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান
ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান।

 

Fagun Haway Haway Lyrics

Fagun hawae hawae korechi je dan

Tomar hawae hawae korechi je dan

Amar aponhara pran

Amar bandhon chera pran

Fagun hawae hawae korechi je dan

Tomar hawae hawae korechi je dan

Tomar ashoke kingshuke

Alokhyo rong laglo amar akaroner sukhe

Tomar ashoke kingshuke

Alokhyo rong laglo amar akaroner sukhe

Tomar jhau er dole

Mormoriya othe amar dukkho rater gan

Fagun hawae hawae korechi je dan

Tomar hawae korechi je dan

Hawae hawae, hawae hawae

Hawae hawae, hawae hawae

Purnima sondhay tomar rojoni gandhae

Rup sagorer parer pane udas e mon dhae

Purnima sondhay tomar rojoni gandhae

Rup sagorer parer pane udas e mon dhae

Tomar projapotir pakha

Amar akash chawa mukto chokher rongin swapon makha

Tomar projapotit pakha

Amar akash chawa mukto chokher rongin swapon makha

Tomar chander aloe milae amar dukkho sukher sokol obosan

Fagun hawae hawae korechi je dan

Tomar hawae hawae korechi je dan

Tomar aponhara pran

Tomar bandhon chera pran

Fagun hawae hawae korechi je dan

Tomar hawae hawae korechi je dan

Fagun hawae hawae korechi je dan

Tomar hawae hawae korechi je dan

Fagun hawae hawae korechi je dan

Tomar hawae hawae korechi je dan

Fagun hawae hawae…

 

গানের মূল ভাব

“ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান” গানটির মূল নির্যাস হলো প্রকৃতির অসীম সৌন্দর্যে ব্যক্তিমানুষের সংকীর্ণ আমিত্ব বিসর্জন। রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতিভাবনায় বসন্ত কেবল ঋতু পরিবর্তন নয়; এটি আত্মিক পুনর্জন্ম ও মুক্তির বার্তা। ফাগুনের উন্মাতাল সমীরণে মানুষ তার ঘরকুনো জড়তা ও সমস্ত সামাজিক বাঁধন ছিন্ন করে এক অনির্দেশ্য আনন্দের সাগরে ঝাঁপ দেয়।
এখানে আনন্দ কোনো বিশেষ জাগতিক প্রাপ্তি থেকে আসে না, তা আসে প্রকৃতির রক্তিম অশোক-কিংশুক আর রজনীগন্ধার স্নিগ্ধ সুবাস থেকে—যাকে কবি আখ্যা দিয়েছেন ‘অকারণের সুখ’। চাঁদের অমল আলো ও প্রজাপতির রঙিন ডানার দোলায় মানুষের ক্ষুদ্র পার্থিব দুঃখ-সুখ চিরতরে বিলীন হয়ে যায়।

চরণ ও ভাব বিশ্লেষণ

১. বসন্ত সমীরণে বাঁধনহীন সমর্পণ

  • “ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান / আমার আপনহারা প্রাণ, আমার বাঁধন-ছেড়া প্রাণ…”
    গানটির শুরুতেই সমস্ত অহংকার ও বন্ধন মুক্ত করে দেওয়ার ঘোষণা। বসন্তের মুক্ত হাওয়ায় প্রাণ নিজেকে হারিয়ে ফেলে এবং সেই হারানোর মাঝেই এক পরম স্বাধীনতার আস্বাদন লাভ করে।

২. অশোক-কিংশুক ও অকারণ আনন্দ

  • “তোমার অশোকে কিংশুকে অলক্ষ্য রঙ লাগল আমার অকারণের সুখে / তোমার ঝাউয়ের দোলে মর্মরিয়া ওঠে আমার দুঃখরাতের গান…”
    অশোক ও পলাশ-কিংশুকের লাল রঙ কেবল বাইরে নয়, কবির অন্তরের অকারণ আনন্দেও রঙিন ছাপ ফেলে। ঝাউবনের পাতার মর্মরধ্বনি কবির অতীতের দুঃখভারাক্রান্ত রাতের স্মৃতিকে এক স্নিগ্ধ সংগীতে রূপান্তরিত করে।

৩. রজনীগন্ধা ও রূপসাগরের সন্ধান

  • “পূর্ণিমাসন্ধ্যায় তোমার রজনীগন্ধায় রূপসাগরের পারের পানে উদাসী মন ধায়…”
    পূর্ণিমার জ্যোৎস্নায় রজনীগন্ধার সুবাস জাগতিক সীমানা ছাড়িয়ে মনকে রূপের অতীত অরূপের পানে ধাবিত করে। প্রকৃতির দৃশ্যমান সৌন্দর্য থেকে মন অনন্তের দিকে পাড়ি জমায়।

৪. প্রজাপতির রঙিন স্বপন ও পূর্ণ সমাপ্তি

  • “তোমার প্রজাপতির পাখা আমার আকাশ-চাওয়া মুগ্ধ চোখের রঙিন স্বপন মাখা / তোমার চাঁদের আলোয় মিলায় আমার দুঃখসুখের সকল অবসান…”
    প্রজাপতির ডানার রঙের সাথে আকাশমুখী দৃষ্টির রঙিন স্বপ্ন একাকার হয়ে যায়। সবশেষে চাঁদের আলোয় পার্থিব ক্ষুদ্র দুঃখ ও ক্ষণস্থায়ী সুখের সমাপ্তি ঘটে এক পরম শান্তিময় পূর্ণতায়।

সাহিত্যিক ও সংগীততাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য

  • রবীন্দ্রভাবনার ‘অকারণের সুখ’: কোনো বস্তুগত কারণ ছাড়াই প্রকৃতির সৌন্দর্যের স্পর্শে অন্তরে যে স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দের সৃষ্টি হয়, গানটিতে সেই রোমান্টিক দর্শনের পূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে।
  • চিত্রধর্মী রূপকসম্ভার: অশোক, কিংশুক, রজনীগন্ধা, ঝাউগাছ ও প্রজাপতি—বসন্তের এই অনুষঙ্গগুলো পুরো দৃশ্যপটকে বর্ণময় ও সজীব করে তোলে।
  • লোপামুদ্রা মিত্রের গায়কী: রবীন্দ্রসংগীতের ধ্রুপদী ভাবগাম্ভীর্য অক্ষুণ্ণ রেখেও লোপামুদ্রা মিত্র তাঁর উদাত্ত ও উন্মুক্ত কণ্ঠের মাধ্যমে গানটিতে এক প্রবল প্রাণচঞ্চলতা সঞ্চার করেছেন, যা গানটিকে মঞ্চ পরিবেশনায় অনন্য মাত্রা দেয়।

শিল্পী পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতা

  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১): নোবেলজয়ী এই সাহিত্যস্রষ্টা প্রকৃতির ঋতুবৈচিত্র্যকে মানুষের আত্মিক অনুভূতির সাথে যেভাবে যুক্ত করেছেন, তা বিশ্বসাহিত্যে বিরল।
  • লোপামুদ্রা মিত্র: আধুনিক বাংলা গান ও রবীন্দ্রসংগীতে নিজের স্বতন্ত্র গায়কী দিয়ে খ্যাতি অর্জনকারী এই শিল্পী আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের সুষম প্রয়োগে রবীন্দ্রগানকে তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছেন। বসন্তোৎসব ও ফাল্গুনের সাংস্কৃতিক আয়োজনে তাঁর কণ্ঠে এই গানটি আবহমান বাঙালির এক পরম সঙ্গী।

উৎস ও তথ্যসূত্র

  1. গীতবিতান (প্রকৃতি পর্যায় – বসন্ত), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  2. লোপামুদ্রা মিত্র অফিসিয়াল রবীন্দ্রসংগীত প্রকাশনা ও অডিও আর্কাইভ।
  3. রবীন্দ্রসংগীত পরিক্রমা ও ঋতুভাবনা সমীক্ষা, বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ।

 

 

 

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

জনপ্রিয় খবর

জনপ্রিয় বিভাগ

সম্পাদক ও প্রকাশক : সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর।

আমাদের সম্পর্কে

সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN হলো সংগীতপ্রেমীদের জন্য একটি অনলাইন জ্ঞান ও তথ্যভান্ডার। এখানে থাকছে গানের কথা ও বাণী, শিল্পী ও সংগীত ব্যক্তিত্বের তথ্য, গানের ধরন, সংগীত শিক্ষা, ইতিহাস, রিভিউ এবং সংগীতজগতের সাম্প্রতিক নানা বিষয়। সংগীতকে জানা, শেখা ও ভালোবাসার একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

ইমেইল করুন:

Press Release: pr@bn.musicgoln.com

Complaint: complaint@bn.musicgoln.com

Contact: +8801775895618

© ২০২৬ সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।