সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জানুয়ারি ২০২৩, ৫:২১ পিএম

হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সুবিশাল আঙিনায় ভৈরব অঙ্গের রাগগুলো সাধারণত ভোরবেলার আলো, আধ্যাত্মিকতা এবং শান্ত স্নিগ্ধতার প্রতীক। কিন্তু এই ভৈরব পরিবারের মধ্যেই এমন কিছু দুর্লভ এবং অনন্য রাগ রয়েছে, যা তাদের অদ্ভুত স্বর বিন্যাসের কারণে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অনুভূতির জন্ম দেয়। তেমনই এক অত্যন্ত প্রাচীন, বীরত্বপূর্ণ এবং কিছুটা অপ্রচলিত রাগের নাম ‘রাগ বঙ্গাল ভৈরব’।
Table of Contents
উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের প্রাচীন গ্রন্থগুলোতে যে রাগগুলোর নাম অত্যন্ত সম্মানের সাথে উচ্চারিত হয়, রাগ বঙ্গাল ভৈরব তার মধ্যে অন্যতম। নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর প্রাচীন শিকড়—অনেকের মতে প্রাচীন ‘বঙ্গ’ বা বাংলা অঞ্চলের লোকসুরের সাথে শাস্ত্রীয় ভৈরব রাগের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে এই রাগের উৎপত্তি।
ভৈরব অঙ্গের সাধারণ রাগগুলো যেখানে শান্ত, করুণ কিংবা ভক্তি রসে ভরপুর থাকে, সেখানে রাগ বঙ্গাল ভৈরব তার চলনের কারণে এক অনন্য ব্যতিক্রম। এই রাগে ভক্তি রসের পাশাপাশি একটি বীর রস বা তেজোদ্দীপ্ত ভাব ফুটে ওঠে। সকালের উদীয়মান সূর্যের তেজ আর নতুন দিনের আহ্বান যেন এই রাগের স্বরলিপির মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী এই রাগের মূল পরিচিতি ও গাণিতিক কাঠামো নিচে তুলে ধরা হলো:
রাগ বঙ্গাল ভৈরব তার বিশেষ বক্র গতি এবং তীব্র অথচ মধুর স্বরপ্রয়োগের জন্য পরিচিত। এর সুরের গতিপ্রকৃতি মূলত নিচে দেওয়া স্বরবিন্যাসের মাধ্যমে চেনা যায়:
(নোট: এখানে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী ‘ঋ’ দিয়ে কোমল ঋষভ এবং ‘দ’ দিয়ে কোমল ধৈবতকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা ভোরের রাগের গম্ভীরতাকে প্রকাশ করে।)
রাগ বঙ্গাল ভৈরব বর্তমানের সঙ্গীত জলসাগুলোতে খুব একটা বেশি শোনা যায় না। তবে অপ্রচলিত হলেও এর ভেতরের প্রাচীন ঐতিহ্য এবং বীর ও ভক্তি রসের চমৎকার মিশ্রণ একে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের গবেষক ও গুণী শিল্পীদের কাছে এক পরম সম্পদ করে তুলেছে। ভোরের আলোয় এই রাগের আলাপ শুনলে মন এক অদ্ভুত সতেজতা ও আত্মবিশ্বাসে ভরে ওঠে।
মন্তব্য