ভারতের জনপ্রিয় পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী দিলজিৎ দোসাঞ্জের আসন্ন কনসার্টে চারটি গান পরিবেশনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন। গানের কথায় মদ্যপান, মাদক গ্রহণ ও সহিংসতার প্রসঙ্গ থাকায় শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। এই তালিকায় রয়েছে তাঁর বহুল জনপ্রিয় গান ‘পাতিয়ালা পেগ’।
আগামী ১৫ নভেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে দিলজিতের। তবে কনসার্টের আগেই জেলা শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা আয়োজক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপককে চিঠি পাঠিয়ে নির্দিষ্ট চারটি গান পরিবেশন না করার নির্দেশ দিয়েছেন। গত শনিবার (৭ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অন্য তিনটি গান হলো ‘৫ তারা ঠেকে’, ‘জেব ভিচো ফিম’ এবং ‘জাট ফায়ার কারদা’। প্রশাসনের বক্তব্য, গানগুলোর কথায় মদ্যপান, মাদক ও সহিংসতার বিষয় উঠে এসেছে। এসব বিষয় শিশুদের মানসিক বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
চণ্ডীগড়ের বাসিন্দা চিকিৎসক পণ্ডিতরাও ধরেনাভারের করা একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, দিলজিতের কনসার্টে যেন গান চারটি পরিবেশনের সুযোগ না থাকে। এমনকি গানগুলোর মূল কথা পরিবর্তন করে পরিবেশন করার ক্ষেত্রেও আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, লিরিক পরিবর্তন করলেও গানগুলোর পরিবেশনা অনুমোদন করা উচিত নয়।
প্রশাসনের পাঠানো চিঠিতে শিশুদের উপস্থিতির বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুরাও কনসার্টে প্রবেশের সুযোগ পাবে। ফলে বিভিন্ন বয়সী দর্শকের সামনে গানগুলো পরিবেশিত হলে শিশুদের মধ্যে মদ্যপান, মাদক কিংবা সহিংসতার প্রতি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিশুদের জন্য উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের ২২ জুলাই পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের একটি নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই নির্দেশনায় পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও চণ্ডীগড়ের পুলিশকে মদ্যপান, মাদক গ্রহণ এবং সহিংসতাকে মহিমান্বিত করে এমন গান পরিবেশন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশনাটি সরাসরি সংগীতানুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে কনসার্টের মতো বড় আয়োজনে গান পরিবেশনের বিষয়টি নিয়েও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগকারী চিকিৎসকের আপত্তি শুধু গানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কনসার্ট চলাকালে শিশুদের মঞ্চে নিয়ে আসার বিষয়েও বিধিনিষেধ আরোপের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দিলজিতের বুকে থাকা দুটি ক্রস করা রুপালি বুলেট বেল্ট কিংবা ধাতব কার্তুজের মতো দেখতে সাজসজ্জা ব্যবহার বন্ধের বিষয়টিও কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছেন।
দিলজিৎ দোসাঞ্জ বর্তমানে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী। সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি। পাঞ্জাবি সংগীতকে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁর কনসার্ট আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাঁর গানের জনপ্রিয়তা ব্যাপক।
জনপ্রিয় এই শিল্পীর কনসার্টে শিশুদের প্রবেশের সুযোগ থাকায় আয়োজকদের দায়িত্ব ও পরিবেশনার বিষয়বস্তু নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে শিল্পীর নিজস্ব পরিবেশনার স্বাধীনতা, অন্যদিকে শিশুদের জন্য উপযোগী সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা—দুটি বিষয়ই সামনে এসেছে।
ইন্দোরের আসন্ন কনসার্টে চারটি গান বাদ দেওয়ার নির্দেশ কার্যকর হলে দিলজিতের পরিবেশনার তালিকায় পরিবর্তন আসবে। তবে বাকি গানগুলো পরিবেশনে কোনো বিধিনিষেধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত জানানো হয়নি। একইভাবে অভিযোগকারীর উত্থাপিত মঞ্চসজ্জা ও শিশুদের মঞ্চে আনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আলাদা কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। ফলে ১৫ নভেম্বরের অনুষ্ঠান ঘিরে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকেই নজর থাকবে সংগীতপ্রেমীদের।















