সন্তোষ সেনগুপ্ত ছিলেন একজন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতি শিল্পী। তিনি আধুনিক বাংলা গান ও অতুলপ্রসাদ সেনের গানও রেকর্ড করেছিলেন।
Table of Contents
সন্তোষ সেনগুপ্ত । রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুল গীতি শিল্পী
প্রাথমিক জীবন
সন্তোষ সেনগুপ্ত ১৯০৯ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে (অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মুন্সীগঞ্জ জেলা) জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
সংগীত জীবন
অধুনা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে মঞ্জু সাহেবের কাছে ঠুংরি গানে তালিমের মাধ্যমে তার সংগীত জীবন শুরু হয়। পরে তিনি কাজী নজরুল ইসলাম, হিমাংশু দত্ত, কমল দাশগুপ্ত প্রমুখ অনেক বিশিষ্ট শিল্পীর কাছে গান শেখেন।
সন্তোষ সেনগুপ্ত কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক হন। আকাশবাণীর সংগীত শিক্ষার আসরে কিছুদিন রবীন্দ্রসংগীত শেখান। এইচ. এম. ভি. ও কলম্বিয়া রেকর্ড কোম্পানিতে প্রযোজক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৪০ সালে প্রকাশিত তার রবীন্দ্রসংগীতের রেকর্ডের “কেন বাজাও কাঁকন” গানটি খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল।
তার পরিচালনায় গ্রামাফোন ডিস্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রাঙ্গদা, চণ্ডালিকা, শাপমোচন, শ্যামা ও বাল্মীকি প্রতিভা নৃত্যনাট্য ও গীতিনাট্যগুলি প্রকাশিত হয়। তার প্রকাশিত আধুনিক গানের রেকর্ডের মধ্যে জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা ও অতুলপ্রসাদীর মধ্যে আমি তোমার তীরে তরণী আমার উল্লেখযোগ্য।

রবীন্দ্রসংগীত রেকর্ড
সন্তোষ সেনগুপ্তের রবীন্দ্রসংগীত রেকর্ডগুলি হল:
- বাকি আমি রাখব না ও মোর পথিকেরে বুঝি এনেছ (১৯৩৮)
- কেন বাজাও কাঁকন ও আজ কি তাহার বারতা পেল রে (১৯৪০)
- আমার জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া ও দিয়ে গেনু বসন্তের এই গানখানি (১৯৪৩)
- আমার লতার প্রথম মুকুল (১৯৪৪)
- বেদনায় ভরে গিয়েছে পেয়ালা ও একদা কী জানি কোন পুণ্যের ফলে (১৯৪৫)
- এসো এসো আমার ঘরে ও তোমার পতাকা যারে দাও (১৯৪৮)
- ভালবেসে যদি সুখ নাহি (১৯৪৯)
- অল্প লইয়া থাকি তাই (১৯৫০)
- আমি চিনি গো চিনি তোমারে ও ওগো শেফালিবনের মনের কামনা (১৯৫১)
- জীবনে যত পূজা হল না সারা ও খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি (১৯৫৩)
- মন মোর মেঘের সঙ্গী (১৯৫৩)
- জানি জানি হল যাবার আয়োজন (১৯৫৫)
মৃত্যু
১৯৮৪ সালের ২০ জুন কলকাতায় সন্তোষ সেনগুপ্ত প্রয়াত হন।

