রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতবিতান’-এর প্রকৃতি পর্যায়ের (শীত উপ-পর্যায়) অন্যতম উজ্জ্বল ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ একটি গান “শীতের হাওয়ার লাগল নাচন”। সাধারণ দৃষ্টিতে শীত রিক্ততা, পাতাঝরা এবং শুষ্কতার প্রতীক হলেও রবীন্দ্রনাথের ভাবনায় শীত এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন দর্শনে। পুরনো পাতা ঝরিয়ে নিজেকে রিক্ত বা ‘কাঙাল’ করার পরেই যে আমলকীর শাখায় ফলের সৌন্দর্য উন্মোচিত হয়—এই রূপকের মধ্য দিয়ে কবি জাগতিক মোহ ত্যাগ করে অন্তরের সারসত্যকে আবিষ্কার করার দর্শনকে অপূর্ব কাব্যিক ছন্দে রূপ দিয়েছেন।
শীতের হাওয়া
শীতের হাওয়ার লাগল নাচন আম্লকির এই ডালে ডালে
পাতাগুলি শির্শিরিয়ে ঝরিয়ে দিল তালে তালে॥
উড়িয়ে দেবার মাতন এসে কাঙাল তারে করল শেষে,
তখন তাহার ফলের বাহার রইল না আর অন্তরালে॥
শূন্য করে ভরে দেওয়া যাহার খেলা
তারি লাগি রইনু বসে সকল বেলা।
শীতের পরশ থেকে থেকে
যায় বুঝি ওই ডেকে ডেকে,
সব খোওয়াবার সময় আমার হবে কখন কোন্ সকালে॥
সব ধরনের প্রচলিত ও অপ্রচলিত বাংলা গানের কথা সংগ্রহ করে সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য প্রকাশে কাজ করছে ‘লিরিক ডেস্ক’। আপনার কাঙ্ক্ষিত গানটি আমাদের ওয়েবসাইটে না পেলে জানান; আমরা তা সংগ্রহ করে দ্রুত আপলোড করে দেব।













