পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা এবার এক বর্ণিল ও প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক উৎসবের নগরীতে রূপ নিয়েছে। বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বৃহৎ পরিসরের সঙ্গীত আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আধুনিক সুর, জনপ্রিয় ব্যান্ড এবং তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণে এসব আয়োজন রাজধানীজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। দিনব্যাপী এই সাংস্কৃতিক আয়োজন শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি নগরবাসীর মধ্যে সম্প্রীতি ও মিলনমেলার আবহ গড়ে তুলছে।
এবারের বৈশাখী উৎসবের অন্যতম প্রধান আয়োজন হলো দুই দিনব্যাপী সঙ্গীত অনুষ্ঠান “কার্পে ডিয়েম – লাল বৈশাখী ১৪৩৩”। রাজধানীর বনানী এলাকায় কামাল আতাতুর্ক পার্কে ১৩ ও ১৪ এপ্রিল এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে অ্যাসেন এবং রিশকা কানেক্টস নামের দুটি সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ এবং প্রীতম হাসান এবারের আসরে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি দেশের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় সঙ্গীতদলও তাদের পরিবেশনা উপস্থাপন করবে। আয়োজকরা মনে করছেন, এই আয়োজন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বৈশাখ উদযাপনের নতুন মাত্রা যোগ করবে।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন হলো কোক স্টুডিও বাংলার বিশেষ বৈশাখী সঙ্গীতানুষ্ঠান, যা ১৪ এপ্রিল বিকেল তিনটায় রাজধানীর ১০০ ফুট মাদানি সড়কের ক্রীড়া প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি একটি নিয়ন্ত্রিত প্রবেশব্যবস্থার আয়োজন, যেখানে নির্দিষ্ট প্রবেশপত্রের মাধ্যমে দর্শকরা অংশ নিতে পারবেন। কনসার্ট জোনে প্রবেশের জন্য দুই ধরনের প্রবেশপত্র রয়েছে, যার মূল্য যথাক্রমে আটশ এবং আটশ পঞ্চাশ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া জনপ্রিয় ব্যান্ড চিরকুট এবারের বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একাধিক পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছে। ১৪ এপ্রিল সকালে তারা ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং একই দিনে বিকেলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করবে। পরবর্তী দিনে, ১৫ এপ্রিল ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। তাদের পরিবেশনায় “জাদুর শহর”, “আহারে জীবন”, “দুনিয়া” এবং “কানামাছি”সহ জনপ্রিয় গানগুলো শ্রোতাদের মন জয় করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
চিরকুটের কণ্ঠশিল্পী শারমিন সুলতানা সুমি জানিয়েছেন, তরুণ শ্রোতাদের ভালোবাসা তাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈশাখের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরিবেশনা তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে।
রাজধানীতে এসব বৃহৎ আয়োজনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বড় আকারের দর্শক সমাগমের কারণে প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থা সুসংগঠিত রাখতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োজিত থাকবে।
সব মিলিয়ে এবারের পহেলা বৈশাখ ঢাকাকে পরিণত করছে এক বিশাল সঙ্গীতমঞ্চে। পার্ক, সড়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণজুড়ে তরুণদের উচ্ছ্বাস, সুরের আবহ এবং উৎসবের আনন্দ মিলিয়ে নগরবাসী উপভোগ করবে এক অনন্য বৈশাখী অভিজ্ঞতা।
সঙ্গীতানুষ্ঠান সূচি (ঢাকা, পহেলা বৈশাখ)
| তারিখ | আয়োজনের নাম | স্থান | প্রধান শিল্পী বা দল | সময় |
|---|---|---|---|---|
| ১৩–১৪ এপ্রিল | কার্পে ডিয়েম – লাল বৈশাখী ১৪৩৩ | বনানী কামাল আতাতুর্ক পার্ক | হাবিব ওয়াহিদ, প্রীতম হাসান ও অন্যান্য দল | নির্ধারিত নয় |
| ১৪ এপ্রিল | কোক স্টুডিও বাংলা বৈশাখী অনুষ্ঠান | ১০০ ফুট মাদানি সড়ক, ক্রীড়া প্রাঙ্গণ | কোক স্টুডিও বাংলা শিল্পীবৃন্দ | বিকেল তিনটা |
| ১৪ এপ্রিল | বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশনা | ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় | চিরকুট | সকাল এগারোটা |
| ১৪ এপ্রিল | বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশনা | নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় | চিরকুট | বিকেল তিনটা |
| ১৫ এপ্রিল | বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশনা | ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় | চিরকুট | নির্ধারিত সময় |
