সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই আগস্ট ২০২৬, ১১:৩২ পিএম

ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার শিকার হওয়া শিশু রামিসার মর্মান্তিক ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো দেশকে। জনমনে জমে থাকা পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, স্বজনদের অবর্ণনীয় বেদনা এবং বিচারপ্রত্যাশী মানুষের জোরালো আকুতি থেকে জন্ম নিয়েছে এক নতুন সুর। বিষয়টিকে সংগীতে রূপ দিয়েছেন গীতিকার ও সুরকার মাহবুবুল খালিদ। তার রচিত ও সুর করা প্রতিবাদী গানটির শিরোনাম ‘রামিসাদের বিচার’। গত ১৫ আগস্ট শনিবার গীতিকারের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম “খালিদ সংগীত”-এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে গানটি আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়।
গানটির মধ্য দিয়ে কেবল রামিসার হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারই দাবি করা হয়নি, বরং অতীতের বেশ কিছু আলোচিত ও বর্বরোচিত ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। গানের কথায় উঠে এসেছে তনু, নুসরাত এবং মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি কিংবা বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণে কীভাবে দেশের মানুষ বারবার থমকে দাঁড়ায়, সেই বাস্তবচিত্রই তুলে ধরেছেন গীতিকার। ‘রামিসা এসে যোগ দিল হঠাৎ আছিয়ার সনে/ তনু হত্যার বিচার হয়নি এখনো/ নুসরাত আছে লাইনে’—এমন হৃদয়স্পর্শী ও ধারালো চয়নে বাঁধাই করা হয়েছে গানটি।
সংগীতায়োজনে মাহবুবুল খালিদের পাশাপাশি মূল কণ্ঠে সুর মিলিয়েছেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী টুটুল, জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘সারেগামাপা’ খ্যাত অবন্তি সিঁথি এবং ‘সেরাকণ্ঠ’ খ্যাত গায়ক রাফসান। গানের আবহ ও ভাবাবেগকে জোরালো করতে কোরাস অংশে কণ্ঠ দেন সংগীতা, নিতু, সুরভী রোমান ও রুশো। আধুনিক এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির চমকপ্রদ ব্যবহারে তৈরি হয়েছে গানটির মিউজিক ভিডিও, যার পরিচালনা করেছেন সাইফুর রহমান সুজন। পর্দায় অংশ নিতে দেখা গেছে মাহবুবুল খালিদ, রাফসান, টুটুল, ইনাইনা ও ইচ্ছাকে। এআই-এর প্রয়োগের ফলে ভিডিওটির দৃশ্যধারণে একটি বিশেষ করুণ ও ভীতিকর আবহ স্পষ্ট হয়েছে।
নিজের নতুন এই সৃষ্টি নিয়ে সংগীতাঙ্গনের ভাবনার কথা তুলে ধরেন মাহবুবুল খালিদ। তিনি জানান, নির্যাতিত ও শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর হওয়াকে তিনি শিল্পী হিসেবে প্রধান দায়িত্ব মনে করেন। রামিসার খবরটি শোনার পরই ক্ষোভ ও বেদনা থেকে তিনি গানটি রচনা করেন। পরে সুর সংযোজনের সময় অনুধাবন করেন, একক কণ্ঠের চেয়ে একাধিক শিল্পীর মেলবন্ধন গানটির বার্তাকে দেশের মানুষের কাছে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দিতে পারবে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে ভিজ্যুয়াল আবেদন ধরে রাখার চেষ্টা হয়েছে। গানটির মূল সুর যদি সমাজের একজন মানুষের বিবেককেও নতুন করে জাগ্রত করে, তবেই এই আয়োজন সার্থক হবে বলে জানান তিনি।
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে গান তৈরি করার ইতিহাস মাহবুবুল খালিদের জন্য বেশ পুরনো। ইতিপূর্বেও বিভিন্ন মানবিক সংকট, অসংগতি ও সচেতনতামূলক প্রেক্ষাপটে তিনি নিয়মিত কলম ধরেছেন। মিরপুরের নির্যাতিত শিশু গৃহকর্মীকে কেন্দ্র করে লেখা ‘আদুরি’, সীমান্তে নির্মম হত্যার শিকার ফেলানীকে নিয়ে রচিত ‘ফেলানীরে করল গুলি’ দেশের মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল। এ ছাড়া মাগুরার শিশুর ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে তার লেখা ‘মাগুরার ফুল’ গানটি সুধীমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয় এবং তাকে সম্মানজনক বাইফা অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করে। ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট, দেশাত্মবোধক ভাবনা, ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব এবং ক্রীড়াজগত নিয়েও তার নিয়মিত সংগীতচর্চা অব্যাহত রয়েছে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য