ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে [ Jhilmil Jhilmil kore re Moyuroponkh nay ]

ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় – গানটি লিখেছেন বাংলাদেশী কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীত শিক্ষক উস্তাদ শাহ্‌ আব্দুল করিম 

 

 

ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় [ Jhilmil Jhilmil kore re Moyuroponkh nay ]

কোন মিস্তরি নাও বানাইলো এমন দেখা যায়
ঝিলমিল-ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়।
কোন মিস্তরি নাও বানাইলো এমন দেখা যায়
ঝিলমিল-ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়।

চন্দ্র-সুর্য বান্ধা আছে নায়েরই আগায়
দূরবীনে দেখিয়া পথ মাঝি-মাল্লায় বায়
ঝিলমিল-ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়

কোন মিস্তরি নাও বানাইলো এমন দেখা যায়
ঝিলমিল-ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়।

রঙ-বেরঙের কতো নৌকা ভবের তলায় আয়
রঙ-বেরঙের সারি গাইয়া ভাটি বাইয়া যায়
ঝিলমিল-ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়
কোন মিস্তরি নাও বানাইলো এমন দেখা যায়
ঝিলমিল-ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়।

জারি গায়, ভাটি বায় করতাল বাজায়
মতন মাঝি বড়ই পাজি কতো নাও ডুবায়
ঝিলমিল-ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়
কোন মিস্তরি নাও বানাইলো এমন দেখা যায়
ঝিলমিল-ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়।

হারা-জিতা-ছুবের বেলা কার পানে কে চায়?
মদন মাঝি হাল ধরিয়ো ঈমানের বৈঠায়
ঝিলমিল-ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়
কোন মিস্তরি নাও বানাইলো এমন দেখা যায়
ঝিলমিল-ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়।

বাউল আব্দুল করিম বলে বুঝে উঠা দায়
কোথা হতে আসে নৌকা কোথায় চলে যায়
ঝিলমিল-ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়

কোন মিস্তরি নাও বানাইলো এমন দেখা যায়
ঝিলমিল-ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়।
কোন মিস্তরি নাও বানাইলো এমন দেখা যায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়।
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়।

শাহ আবদুল করিমঃ

ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় গীতিকার শাহ আবদুল করিম  একজন বাংলাদেশী কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীত শিক্ষক। তিনি বাউল সঙ্গীতকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। কর্মজীবনে তিনি পাঁচশো-এর উপরে সংগীত রচনা করেছেন। বাংলা সঙ্গীতে তাঁকে “বাউল সম্রাট” হিসাবে সম্বোধন করা হয়। শাহ আবদুল করিম ইব্রাহিম আলী ও নাইওরজানের ঘরে ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খুব ছোটবেলায় তার গুরু বাউল শাহ ইব্রাহিম মাস্তান বকশ থেকে সঙ্গীতের প্রাথমিক শিক্ষা নেন।

স্বশিক্ষিত বাউল শাহ আব্দুল করিম এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক গান লিখেছেন এবং সুরারোপ করেছেন। বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে তার ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধুমাত্র ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগে বেশ কয়েকজন শিল্পী বাউল শাহ আব্দুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন।
বাউল শাহ আবদুল করিমের এ পর্যন্ত ৭টি গানের বই প্রকাশিত হয়েছে। তার মৃত্যুর কিছুদিন আগে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে তার রচনাসমগ্র (অমনিবাস)-এর মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে।
২০০৯ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম মৃত্যু বরণ করেন।

Leave a Comment