সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই আগস্ট ২০২৬, ১২:০ পিএম

দুবাইয়ে সংগীতশিল্পী লাকি আলীর কনসার্টে উপস্থিত হয়ে তার পরিবেশনায় মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় ভারতীয় র্যাপার ইয়ো ইয়ো হানি সিং। গত ১৬ আগস্ট দুবাইয়ের কোকা-কোলা এরিনায় অনুষ্ঠিত কনসার্টে সামনের সারিতে বসে লাকি আলীর গান উপভোগ করেন তিনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনসার্টের একটি ভিডিও প্রকাশ করে লাকি আলীকে ‘কিংবদন্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন হানি সিং।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে লাকি আলী নিজের স্বতন্ত্র কণ্ঠ, সুর এবং পরিবেশনাশৈলীর মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। দুবাইয়ের কনসার্টেও তার বহুল পরিচিত গানগুলো পরিবেশিত হয়। দর্শকেরা গানের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে পুরো আয়োজন উপভোগ করেন। কয়েক দশক ধরে জনপ্রিয় থাকা এসব গান নতুন করে মঞ্চে শুনতে পেয়ে শ্রোতাদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।
কনসার্ট চলাকালে হানি সিংকে সামনের সারিতে বসে লাকি আলীর পরিবেশনা উপভোগ করতে দেখা যায়। তিনি নিজের মুঠোফোনে মঞ্চের বিভিন্ন মুহূর্ত ধারণ করেন। পরে সেই আয়োজনের একটি ভিডিও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় প্রকাশ করেন। ভিডিওটির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় লাকি আলীর দীর্ঘ সংগীতজীবন ও স্বতন্ত্র সংগীতচর্চার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
হানি সিংয়ের এই প্রকাশ্য প্রশংসা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দুই শিল্পীর সংগীতের ধরন ও প্রজন্মের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। লাকি আলী মূলত স্বতন্ত্র ধারার গান, নিজস্ব সুর এবং সহজ-সরল পরিবেশনার জন্য পরিচিত। অন্যদিকে হানি সিং আধুনিক র্যাপ ও জনপ্রিয় সংগীতের মাধ্যমে ভারতের নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। ফলে একজন সমসাময়িক জনপ্রিয় শিল্পীর কাছ থেকে লাকি আলীর প্রতি এমন সম্মান দুই ভিন্ন সংগীতধারার শিল্পীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধার বিষয়টি সামনে এনেছে।
লাকি আলীর সংগীতজীবনে নব্বইয়ের দশক ছিল গুরুত্বপূর্ণ সময়। ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত ‘সুনোহ’ অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ওই সময়ের প্রচলিত মূলধারার সংগীত থেকে তার গান ছিল আলাদা। তার কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্য, গানের কথার সরলতা এবং সুরের নিজস্বতা শ্রোতাদের কাছে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে।
‘ও সনম’ লাকি আলীর সবচেয়ে পরিচিত গানগুলোর একটি। গানটির জনপ্রিয়তা তাকে ভারতীয় স্বতন্ত্র সংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত করে। পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রের গানেও তার কণ্ঠ শ্রোতাদের আকৃষ্ট করে। ‘এক পল কা জিনা’, ‘না তুম জানো না হাম’ এবং ‘সফরনামা’র মতো গানও তার সংগীতজীবনের উল্লেখযোগ্য কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।
লাকি আলীর সংগীতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নিজের স্বতন্ত্র ধারা ধরে রাখা। চলচ্চিত্রনির্ভর মূলধারার সংগীতের বাইরে থেকেও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে শ্রোতাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তার গানে সুর, কণ্ঠ এবং পরিবেশনার একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা তাকে অন্য অনেক শিল্পীর চেয়ে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
অন্যদিকে, হানি সিং ভারতীয় জনপ্রিয় সংগীতে র্যাপ ও আধুনিক সংগীতধারাকে বড় পরিসরের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার সংগীতজীবনের জনপ্রিয়তা তাকে ভারতীয় বিনোদন জগতের অন্যতম পরিচিত সংগীতশিল্পীতে পরিণত করেছে।
দুবাইয়ের কনসার্টে হানি সিংয়ের উপস্থিতি তাই শুধু একজন জনপ্রিয় শিল্পীর আরেক শিল্পীর অনুষ্ঠান উপভোগের ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘদিন ধরে নিজের স্বতন্ত্র সংগীতভাষা ধরে রাখা লাকি আলীর প্রতি সমসাময়িক এক শিল্পীর প্রকাশ্য শ্রদ্ধারও বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে ঘটনাটি দেখিয়েছে, সংগীতের ধরন ও প্রজন্ম আলাদা হলেও একজন শিল্পীর সৃষ্টিশীল অবদান অন্য প্রজন্মের শিল্পীদের কাছেও সমানভাবে সম্মানিত হতে পারে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য