সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৩, ২:১৫ পিএম

বেহালার সুরের জগৎ থেকে এবার চলুন আমরা ঘুরে আসি আমাদের মাটির খুব কাছের, অত্যন্ত সুমধুর আরেকটি বাদ্যযন্ত্রের দুনিয়া থেকে—তা হলো বাঁশি! বাঁশির মিষ্টি আওয়াজ কার না মন ভালো করে দেয়? আমাদের অনেকেরই ইচ্ছে থাকে এই সুন্দর যন্ত্রটি বাজানো শেখার, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করব তা বুঝতে পারি না।
আপনার এই ইচ্ছাকে সত্যি করতে গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্কে বাঁশি শেখার একদম সহজ পদ্ধতি নিয়ে হাজির হয়েছেন তরুণ ও গুণী বাঁশিবাদক মুস্তাকীম আবীর। আজ আমরা এই সিরিজের “পর্ব ০১: বাঁশির পরিচিতি” ক্লাসটি নিয়ে আড্ডা দেব। চলুন, একদম সহজ ভাষায় জেনে নিই বাঁশি শেখার প্রথম ধাপে আমাদের কী কী জানা প্রয়োজন:
Table of Contents
বাঁশি দেখতে খুব সাধারণ একটি কাঠের টুকরো মনে হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে সুরের এক বিশাল মহাসমুদ্র। মুস্তাকীম আবীর এই প্রথম ক্লাসে বাঁশি শেখার একদম গোড়ার কিছু বিষয় খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
একটি বাঁশিতে সাধারণত কয়টি ফুটো বা ছিদ্র থাকে, তা নিয়ে নতুনদের মনে অনেক কৌতূহল থাকে। আবীর ভাই খুব সহজ করে দেখিয়েছেন:
ফুঁ দেওয়ার ছিদ্র (Blowing Hole): বাঁশির একদম মাথার দিকে যে বড় ছিদ্রটি থাকে, সেখান দিয়েই মূলত ফুঁ দিয়ে বাতাস প্রবেশ করানো হয়।
সুরের ছিদ্র (Tuning Holes): সাধারণত আঙুল দিয়ে চেপে সুর তোলার জন্য বাঁশিতে ৬টি প্রধান ছিদ্র থাকে। তবে কিছু কিছু বাঁশিতে ৭টি ছিদ্রও দেখা যায়, যা শাস্ত্রীয় সংগীতে নিখুঁতভাবে সব রকম সুর তোলার জন্য সাহায্য করে।
অনেকেই বুঝতে পারেন না যে শুরুতে বাজার থেকে কোন স্কেলের বাঁশি কিনবেন। আবীর ভাইয়ের মতে, নতুনদের জন্য খুব বেশি বড় বা খুব ছোট বাঁশি কেনা উচিত নয়।
শুরু করার জন্য ‘সি ন্যাচারাল’ (C Natural) বা ‘ই ন্যাচারাল’ (E Natural) স্কেলের মাঝারি আকারের বাঁশিগুলো সবচেয়ে ভালো। এগুলো ধরতেও সুবিধা হয় এবং আঙুলগুলো ছিদ্রের ওপর সহজে পৌঁছায়।
বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে প্রথম আওয়াজ বের করাটাই হলো সবচেয়ে ম্যাজিক্যাল পার্ট। এর জন্য ঠোঁটের ভঙ্গিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঠোঁট দুটিকে হালকা একটু চ্যাপ্টা করে, বাঁশির ফুঁ দেওয়ার ছিদ্রটির ঠিক ওপরে আলতো করে ধরে বাতাস দিতে হয়। প্রথম প্রথম হয়তো শুধু বাতাস বের হবে, কোনো শব্দ আসবে না। কিন্তু হাল ছাড়বেন না! একটু এদিক-ওদিক ঘুরিয়ে চেষ্টা করলেই হুট করে একদিন দেখবেন দারুণ একটা মিষ্টি আওয়াজ বের হয়ে এসেছে।
আপনার জন্য ছোট্ট একটি পরামর্শ:
বাঁশি শেখাটা একটা সাধনা। প্রথম দিনই সুর তুলতে না পারলে একদম মন খারাপ করবেন না। প্রতিদিন নিয়ম করে শুধু বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে পরিষ্কার আওয়াজ বের করার চেষ্টা করুন। আওয়াজটা যখন একদম নিখুঁত হবে, তখন আঙুল চালানোর কাজটা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে।
সহজ উপায়ে এবং নিয়মিত বাঁশি শিক্ষার এমন চমৎকার সব টিউটোরিয়াল পেতে গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্ক চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখতে একদম ভুলবেন না!
মন্তব্য