সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুন ২০২৬, ৫:০ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপ কেবলমাত্র মাঠের খেলার প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী সংস্কৃতি, আবেগ ও সংগীতের এক বিশাল মিলনমেলা। প্রতি আসরে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে একটি আনুষ্ঠানিক গান প্রকাশ করা হয়, যা কোটি কোটি দর্শক-সমর্থকের মধ্যে উচ্ছ্বাস, আনন্দ ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। সময়ের সঙ্গে এসব গান শুধু ক্রীড়া আয়োজনের অংশই নয়, বরং বৈশ্বিক জনপ্রিয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম ইএসপিএন সম্প্রতি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা গানগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে বিভিন্ন সময়ের স্মরণীয় ও জনপ্রিয় গান স্থান পেয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে শাকিরার ‘ওয়াকা ওয়াকা’, যা ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপকে বিশ্বজুড়ে এক সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ দিয়েছিল। আফ্রিকান ছন্দ, ঐক্যের বার্তা এবং প্রাণবন্ত পরিবেশনার কারণে গানটি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
অন্যদিকে রিকি মার্টিনের ‘কাপ অব লাইফ’ ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে আজও ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এক অবিস্মরণীয় সংগীত হিসেবে বিবেচিত। এর শক্তিশালী সুর, উদ্দীপনাময় কোরাস এবং মঞ্চে প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে ফুটবল উন্মাদনা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
তালিকায় আরও রয়েছে বিভিন্ন সময়ের বৈচিত্র্যময় গান, যেগুলো বিভিন্ন দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতিকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছে। কিছু গান বৈশ্বিকভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও কিছু গান তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রভাব ফেলেছে। তবে প্রতিটি গানই নিজ নিজ সময়ের ফুটবল সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
| ক্রম | গান | শিল্পী | বছর | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ১০ | লিভ ইট আপ | নিকি জ্যাম, উইল স্মিথ, এরা ইস্ত্রেফি | ২০১৮ | রাশিয়া বিশ্বকাপ, তুলনামূলক কম সাড়া |
| ৯ | হাইয়া হাইয়া | ত্রিনিদাদ কার্ডোনা, ডাভিদো, আইশা | ২০২২ | কাতার বিশ্বকাপ, মিশ্র প্রতিক্রিয়া |
| ৮ | আন ইস্তাতে ইতালিয়ানো | এদোয়ার্দো বেনেত্তো, জিয়ান্না নান্নিনি | ১৯৯০ | উদ্দীপনাময় ক্লাসিক সংগীত |
| ৭ | দ্য টাইম অব আওয়ার লাইভস | ডিভো, টনি ব্র্যাক্সটন | ২০০৬ | ধীরগতির আবেগঘন পরিবেশনা |
| ৬ | বুম | আনাস্তাসিয়া | ২০০২ | ভিডিও জনপ্রিয় হলেও গান সীমিত সাড়া |
| ৫ | ডাই ডাই | শাকিরা, বার্না বয় | ২০২৬ | সাম্প্রতিক গান, মাঝারি প্রতিক্রিয়া |
| ৪ | উই আর ওয়ান | পিটবুল, জেনিফার লোপেজ | ২০১৪ | বহুভাষিক ও উৎসবমুখর পরিবেশনা |
| ৩ | গ্লোরি ল্যান্ড | ড্যারিয়েল হল, সাউন্ডস অব ব্ল্যাকনেস | ১৯৯৪ | ঐতিহ্য ও আবেগে ভরপুর গান |
| ২ | কাপ অব লাইফ | রিকি মার্টিন | ১৯৯৮ | বিশ্বজুড়ে অমর জনপ্রিয়তা |
| ১ | ওয়াকা ওয়াকা | শাকিরা | ২০১০ | সর্বকালের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ গান |
বিশ্বকাপ সংগীতের ইতিহাসে প্রতিটি গানই তার সময়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটকে ধারণ করে। বিশেষ করে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ শুধু একটি গান নয়, এটি আফ্রিকার সংস্কৃতি, ঐক্য এবং ফুটবল উদযাপনের এক বৈশ্বিক প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর কোরিওগ্রাফি, ছন্দ ও দৃশ্যায়ন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
অন্যদিকে ‘কাপ অব লাইফ’ বিশ্বকাপ সংগীতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এর শক্তিশালী সুর ও উদ্দীপনাময় পরিবেশনা আজও বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনে ব্যবহৃত হয় এবং দর্শকদের মধ্যে একই রকম উচ্ছ্বাস তৈরি করে।
তালিকার নিচের দিকের গানগুলো, যেমন ‘লিভ ইট আপ’ বা ‘হাইয়া হাইয়া’, তুলনামূলকভাবে কম প্রভাব ফেললেও আধুনিক বিশ্বকাপ সংগীতের ধারাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব গান বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের একত্রিত করে বৈশ্বিক ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিশ্বকাপের গানগুলো কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং এটি ফুটবলের আবেগ, সংস্কৃতি এবং বিশ্বজনীন ঐক্যের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
মন্তব্য