সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই অক্টোবর ২০২২, ১২:২৯ পিএম
ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের ইতিহাসে চিরসবুজ ও কালজয়ী গানগুলোর তালিকা করলে ওপরের সারিতে স্থান পাবে ‘লাগ যা গালে’। এই অসাধারণ গানটি ১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সাইকোলজিক্যাল মিস্ট্রি থ্রিলার ঘরানার হিন্দি চলচ্চিত্র ‘ওহ কৌন থি’-র অন্তর্ভুক্ত। গানটির সুর সৃষ্টি করেছেন প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক মদন মোহন কোহলি এবং এর পেছনে কলম ধরেছিলেন প্রথিতযশা কবি ও গীতিকার রাজা মেহেদি আলী খান। উপমহাদেশের নাইটিঙ্গেল খ্যাত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের জাদুকরী কণ্ঠে গানটি এক অনন্য উচ্চতা লাভ করে।
এই কালজয়ী গানটি সৃষ্টির পেছনে একটি অত্যন্ত চমৎকার ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। শুরুতে যখন মদন মোহন এই গানের সুরটি তৈরি করে চলচ্চিত্রের পরিচালক রাজ খোসলাকে শুনিয়েছিলেন, তখন রাজ খোসলা সুরটি পছন্দ করেননি এবং এটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সুরকারের মনে গানটির আবেদন নিয়ে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস থাকায় তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিনেতা মনোজ কুমারের দ্বারস্থ হন। মনোজ কুমার সুরটি শুনেই এর গভীরতা ও সৌন্দর্য অনুধাবন করতে পারেন এবং পরিচালকের সাথে কথা বলে গানটি চলচ্চিত্রে রাখার ব্যবস্থা করেন। মুক্তির পর গানটি বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সেরা রোমান্টিক গান হিসেবে স্থায়ী আসন করে নেয়।
Table of Contents
লাগ যা গালে কি ফির এ হাসি রাত হো না হো
শায়দ ফির ইস জনম মে মুলাকাত হো না হো
লাগ যা গালে কি ফির এ হাসি রাত হো না হো
শায়দ ফির ইস জনম মে মুলাকাত হো না হো
হামকো মিলি হ্যায় আজ ইয়ে ঘড়িয়া নাসিব সে
জি ভর কে দেখ লিজিয়ে হামকো কারিব সে
ফির আপকে নাসিব মে ইয়ে barat হো না হো
শায়দ ফির ইস জনম মে মুলাকাত হো না হো
পাস আইয়ে কে হাম নেহি আয়েঙ্গে বার বার
বাহে গালে মে ডালকে হাম রো লে জার জার
আঁখো সে ফির ইয়ে পেয়ার কি বরসাত হো না হো
শায়দ ফির ইস জনম মে মুলাকাত হো না হো
লাগ যা গালে কি ফির এ হাসি রাত হো না হো
শায়দ ফির ইস জনম মে মুলাকাত হো না হো
আমাকে জড়িয়ে ধরো, কারণ এই সুন্দর রাত হয়তো আর কখনো নাও আসতে পারে।
আমাকে জড়িয়ে ধরো, কারণ এই সুন্দর রাত হয়তো আর কখনো নাও আসতে পারে।
হয়তো এই জীবনে আমাদের আর কখনো দেখা নাও হতে পারে।
আমাকে জড়িয়ে ধরো, কারণ এই সুন্দর রাত হয়তো আর কখনো নাও আসতে পারে। হয়তো এই জীবনে আমাদের আর কখনো দেখা নাও হতে পারে।
অনেক ভাগ্যবলে আজ আমরা এই মূল্যবান মুহূর্তগুলো পেয়েছি।
মন ভরে আমাকে একটু কাছ থেকে দেখে নিন।
আপনার ভাগ্যে এমন মুহূর্ত আর কখনো আসবে কি না, তা কে জানে?
হয়তো এই জীবনে আমাদের আর কখনো দেখা নাও হতে পারে।
একটু কাছে এসো, কারণ আমরা তো আর বারবার আসব না।
একে অপরকে জড়িয়ে ধরে চলো আমরা প্রাণভরে কেঁদে নিই।
চোখ থেকে ভালোবাসার এই অশ্রুধারা আর কখনো ঝরবে কি না, তা কে জানে?
হয়তো এই জীবনে আমাদের আর কখনো দেখা নাও হতে পারে।
আমাকে জড়িয়ে ধরো, কারণ এই সুন্দর রাত হয়তো আর কখনো নাও আসতে পারে। হয়তো এই জীবনে আমাদের আর কখনো দেখা নাও হতে পারে।
Lag jaa gale ke phir yeh haseen raat ho na ho
Shayad phir is janam mein mulaqat ho na ho
Lag jaa gale ke phir yeh haseen raat ho na ho
Shayad phir is janam mein mulaqat ho na ho
Humko mili hain aaj yeh ghadiyaan naseeb se
Jee bhar ke dekh lijiye humko qareeb se
Phir aapke naseeb mein yeh baat ho na ho
Shayad phir is janam mein mulaqat ho na ho
Paas aaiye ke hum nahin aayenge baar baar
Bahein gale mein daal ke hum ro lein zaar zaar
Aankhon se phir yeh pyaar ki barsaat ho na ho
Shayad phir is janam mein mulaqat ho na ho
Lag jaa gale ke phir yeh haseen raat ho na ho
Shayad phir is janam mein mulaqat ho na ho
গানটির সুর মূলত ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের রাগ পাহাড়ির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। রাগ পাহাড়ি অত্যন্ত মধুর এবং লোকসংগীতের কাছাকাছি একটি রাগ, যা মনের গভীর অনুভূতিগুলোকে খুব সহজে প্রকাশ করতে পারে। সংগীত পরিচালক মদন মোহনের নিখুঁত কম্পোজিশন এবং ওয়েস্টার্ন কর্ডের সাথে ভারতীয় বাঁশি ও ভায়োলিনের ফিউশন এই রাগ-ভিত্তিক গানটিকে একটি আধুনিক ও চিরন্তন রূপ দিয়েছে।
গানের মূল ভাব গড়ে উঠেছে তীব্র প্রেম, আসন্ন বিরহের আশঙ্কা এবং একাকীত্বের বেদনাকে কেন্দ্র করে। দুজন প্রেমিকের মিলনের মুহূর্ত এবং একই সাথে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার বা আর কখনো দেখা না হওয়ার যে এক অলিখিত ভয়, তা গানের প্রতিটি ছত্রে ফুটে উঠেছে। বর্তমান সুন্দর মুহূর্তটিকে সম্পূর্ণভাবে আঁকড়ে ধরার আকুলতাই এই গানের মূল উপজীব্য।
এই গানের প্রধান বিশেষত্ব হলো এর পরিমিত মিউজিকেশন এবং লতা মঙ্গেশকরের গায়কী। গানের শুরুতে কোনো ভারী বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার না করে সরাসরি লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠ দিয়ে সুর শুরু হয়, যা শ্রোতাকে শুরুতেই এক অন্য জগতে নিয়ে যায়। ভায়োলিনের করুণ সুর এবং গানের অন্তরায় লতা মঙ্গেশকরের সূক্ষ্ম ইমোশনাল ভাইব্রেশন বা কম্পন গানটিকে কেবল একটি রোমান্টিক গান হিসেবে নয়, বরং বিরহের এক মহাকাব্যিক দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
উৎস (Sources)
এই নিবন্ধের তথ্যসমূহ ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রামাণ্য ইতিহাস, লতা মঙ্গেশকরের অফিশিয়াল আর্কাইভ, সংগীত পরিচালক মদন মোহনের স্মারক ওয়েবসাইট এবং ‘ওহ কৌন থি’ চলচ্চিত্রের মূল ক্রেডিট লাইন থেকে যাচাই ও সংগ্রহ করা হয়েছে।
মন্তব্য