সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

‘আওয়ারাপন ২’ ছবির গায়ক ও সুরকার অখিল সচদেবা কিংবদন্তি গজলশিল্পী জগজিৎ সিংয়ের মঞ্চ পরিবেশনার অসাধারণ দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, মঞ্চে শ্রোতাদের আবেগ, মনোযোগ ও প্রতিক্রিয়াকে যেভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন জগজিৎ সিং, সেই ক্ষমতা ছিল অত্যন্ত বিরল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সংগীতজীবন, মঞ্চ পরিবেশনা এবং শিল্পী-শ্রোতার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন অখিল। সেখানেই নিজের মঞ্চ অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে জগজিৎ সিংয়ের পরিবেশনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। অখিলের বক্তব্য, জগজিৎ সিং শুধু গান গাইতেন না; তাঁর কণ্ঠ, অঙ্গভঙ্গি এবং মঞ্চে উপস্থিতির মাধ্যমে পুরো পরিবেশকে নিজের সংগীতের আবহে নিয়ে আসতে পারতেন।
অখিল বলেন, জগজিৎ সিংয়ের মঞ্চে শ্রোতাদের ওপর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। তিনি হাত মুঠো করলে দর্শকদের মধ্যে নীরবতা নেমে আসত, আবার হাত খুলে দিলে মুহূর্তের মধ্যেই চারপাশ করতালিতে মুখর হয়ে উঠত। অখিলের কাছে এই বিষয়টি একজন শিল্পীর সঙ্গে শ্রোতাদের গভীর যোগাযোগের অন্যতম উদাহরণ। তাঁর মতে, শুধু ভালো গান গাওয়া নয়, শ্রোতার আবেগকে বুঝে সেই আবেগের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পারাটাও একজন সফল মঞ্চশিল্পীর বড় গুণ।
অখিল নিজেও দীর্ঘদিন ধরে মঞ্চে গান পরিবেশন করছেন। চলচ্চিত্রের জন্য গান গাওয়ার পাশাপাশি সরাসরি শ্রোতাদের সামনে পরিবেশনাকে তিনি নিজের সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, সংগীতের আবেগ কোনও নির্দিষ্ট ভাষার মধ্যে আটকে থাকে না। একজন শিল্পী আন্তরিকতা ও অনুভূতি দিয়ে গান পরিবেশন করলে তা ভাষার সীমা পেরিয়ে শ্রোতার মনে পৌঁছাতে পারে।
নিজের সংগীতযাত্রার প্রসঙ্গে অখিল জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। এই দীর্ঘ সময়ে মঞ্চে সরাসরি গান পরিবেশনের অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পীসত্তাকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর কাছে সাফল্যের অন্যতম বড় মাপকাঠি হলো, নিজের সংগীতের মাধ্যমে অন্য শিল্পী কিংবা নতুন প্রজন্মের কাউকে অনুপ্রাণিত করতে পারা এবং শ্রোতার মনে আবেগ তৈরি করা।
বর্তমানে ‘আওয়ারাপন ২’ ছবির সংগীতের কারণে আলোচনায় রয়েছেন অখিল। ছবিটির ‘পিয়া ঘর আয়া—হোমকামিং’ গানটির সঙ্গে তিনি যুক্ত। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আওয়ারাপন’-এর পরবর্তী কিস্তি হিসেবে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। এতে ইমরান হাশমিকে আবারও শিবম পণ্ডিত চরিত্রে দেখা গেছে।
প্রথম মুক্তির সময় ‘আওয়ারাপন’ প্রত্যাশিত বড় সাফল্য না পেলেও পরবর্তী সময়ে ছবিটির গান ও অভিনয় দর্শকদের মধ্যে আলাদা জনপ্রিয়তা তৈরি করে। বিশেষ করে ছবিটির সংগীত দীর্ঘদিন শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নেয়। সেই জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় নতুন কিস্তির গান নিয়েও সংগীতপ্রেমীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
জগজিৎ সিংকে নিয়ে অখিলের মন্তব্য তাই কেবল একজন কিংবদন্তি শিল্পীর প্রশংসা নয়; একই সঙ্গে মঞ্চ সংগীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও সামনে এনেছে। একজন শিল্পীর কণ্ঠ যতই শক্তিশালী হোক, সরাসরি পরিবেশনের সময় শ্রোতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা আলাদা দক্ষতার বিষয়। জগজিৎ সিং তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনে সেই দক্ষতারই অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছিলেন।
অখিলের বক্তব্যে স্পষ্ট, নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও জগজিৎ সিংয়ের মতো কিংবদন্তিদের পরিবেশনা থেকে এখনও অনুপ্রেরণা নেন। তাঁর সংগীতের পাশাপাশি মঞ্চে শ্রোতাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির ক্ষমতাও পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের কাছে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হয়ে রয়েছে।
মন্তব্য