সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই আগস্ট ২০২৬, ১০:০ পিএম

প্রিয় তারকার একটু সান্নিধ্য কিংবা একনজর দেখার জন্য ভক্তদের নানারকম আবেগঘন কাণ্ডকারখানার গল্প নতুন কিছু নয়। কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রিয় তারকার বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে প্রহর গোনেন, কেউ বা একটি অটোগ্রাফ কিংবা সেলফির আশায় এক শহর থেকে অন্য শহরে ছুটতে থাকেন। তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহের তরুণ গণেশ শেখ যা করছেন, তা সত্যি বিরল ও এক অনন্য উদাহরণ। প্রিয় শিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে কেবল একটিবার দেখা করা এবং একটি স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ছবি তোলার অধরা ইচ্ছা বুকে চেপে সাইকেলেই ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছেন তিনি। তাঁর গন্তব্য—মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে অবস্থিত গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের বাসভবন।
মালদহের বামনগোলা থানার অন্তর্গত জামতলা এলাকার বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী এই তরুণ। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে তিনি ‘বালুরঘাট পাকুয়া’ নামে পরিচিত। বাবা বিজয় শেখ ও মা মৌসুমী শেখের সাত সন্তানের মধ্যে গণেশ দ্বিতীয়। সংসারের অভাব-অনটন আর জীবনসংগ্রামের চাপে প্রথাগত শিক্ষার আলো বেশিদূর পাননি তিনি; চতুর্থ শ্রেণিতেই ইতি টানতে হয়েছিল স্কুলের পাঠে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব থাকলেও সুরের প্রতি তাঁর টান এবং প্লেব্যাক সম্রাট অরিজিৎ সিংয়ের প্রতি ভালোবাসা ছিল বাঁধভাঙা।
সেই বহুদিনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এক রবিবার ভোর চারটেয় সাধারণ একটি সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে একাই বেরিয়ে পড়েন গণেশ। যাত্রা শুরুর আগে সাইকেলের হ্যান্ডেলে পরম যত্নে বেঁধে নেন ভারতের জাতীয় পতাকা। সামনে ঝুলিয়ে দেন বড় আকারের একটি পোস্টার, যেখানে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা—‘এক সফর, এক স্বপ্ন, এক মুলাকাত—২০০ কিমি সাইকেল যাত্রা। অরিজিৎ সিং স্যারের সঙ্গে দেখা করার জন্য।’ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সোমবার বেলা ১১টা নাগাদ তিনি এসে পৌঁছান ফারাক্কার বিডিও দপ্তরের সামনে। ফারাক্কা থেকে জিয়াগঞ্জের সোজা সড়কপথ প্রায় ৮৯ কিলোমিটার হলেও, পথের নানান বাঁক ও এলাকা ঘুরতে গিয়ে তাঁর এই অভিযানের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার।
গণেশ জানান, একদম ছোটবেলা থেকেই তিনি অরিজিৎ সিংয়ের অনন্য কণ্ঠের প্রেমে পড়েছেন। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মাঝেও তাঁর সঙ্গী ছিল প্রিয় শিল্পীর সুর। তাই দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল অন্তত একবারের জন্য হলেও দূর থেকে নয়, সরাসরি সামনে দাঁড়িয়ে প্রিয় মানুষকে দেখবেন। তবে টানা এত পথ সাইকেল চালানো মোটেও সহজ ছিল না। পায়ে তীব্র যন্ত্রণা, কড়া পড়ে যাওয়া পেশির কষ্ট আর প্রখর রোদের তাপ শরীরকে ক্লান্ত করে ফেলছিল বারবার। তবুও অদম্য মানসিক শক্তির কাছে হার মেনেছে সব শারীরিক কষ্ট। গণেশের কাছে খবর ছিল, অরিজিৎ সিং মঙ্গলবার খুব ভোরে মুম্বাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। ফলে সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ ছিল না; সোমবার রাতের মধ্যেই জিয়াগঞ্জে পৌঁছানো ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, তারকাদের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য গণেশের এমন সাইকেল অভিযান এটাই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে দীর্ঘ পথ সাইকেল চালিয়ে ভারতীয় অলরাউন্ডার ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে দেখা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেই সফল অভিজ্ঞতাই তাঁকে এবার অরিজিতের দুয়ারে যাওয়ার সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে। তাছাড়া জিয়াগঞ্জে পৌঁছানোর পর তিনি একা থাকবেন না; তাঁর এক বন্ধু বিশেষ এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে ওড়িশা থেকে এসে জিয়াগঞ্জে অপেক্ষা করছেন।
ক্লান্তি আর শারীরিক যন্ত্রণাকে তোয়াক্কা না করে একবুক আশা ও ভালোবাসাকে সঙ্গী করে সামনের দিকে এগিয়ে চলছেন তরুণ গণেশ। প্রিয় শিল্পীর ঘরের দরজায় পৌঁছানোর পর তাঁর দেখা মিলবে কি না—সেই সংশয় ও অনিশ্চয়তা থাকলেও হাল ছাড়তে নারাজ এই তরুণ। ভক্ত ও শিল্পীর এই অনন্য সম্পর্কের কথা ইতিমধ্যেই মালদহ ও মুর্শিদাবাদ অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে। দীর্ঘ ২০০ কিলোমিটার পথের লড়াই শেষে
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য