সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুন ২০২২, ৩:২২ পিএম
সমসাময়িক বাংলা চলচ্চিত্রের গানের জগতে ‘দেখ আলোয় আলো আকাশ’ একটি অত্যন্ত গভীর, মননশীল এবং জীবনমুখী সৃষ্টি। ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সৃজিত মুখার্জির ‘চতুষ্কোণ’ চলচ্চিত্রের এই গানটি একাধারে উপনিষদের প্রাচীন আধ্যাত্মিক দর্শন এবং আধুনিক মানুষের অস্তিত্ববাদের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। অনুপম রায়ের কথা ও সুরে এবং জনপ্রিয় নেপথ্য গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের দরদি কণ্ঠের জাদুতে গানটি শ্রোতাদের মাঝে এক গভীর আত্মোপলব্ধির জন্ম দেয়।
Table of Contents
| গানের নাম | দেখ আলোয় আলো আকাশ |
| শিল্পী | অরিজিৎ সিং |
| গীতিকার | অনুপম রায় |
| সুরকার | অনুপম রায় |
| চলচ্চিত্র | চতুষ্কোণ (২০১৪) |
| গানের ধরন | আধুনিক বাংলা গান / দার্শনিক |
গানটির কণ্ঠশিল্পী অরিজিৎ সিং বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় ভারতীয় নেপথ্য গায়ক। ১৯৮৭ সালের ২৫ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করা এই বাঙালি শিল্পী ২০০৫ সালে রিয়েলিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’-এর মাধ্যমে নিজের সাঙ্গীতিক সফর শুরু করেন। প্রথমে মিউজিক প্রোগ্রামার এবং পরবর্তীতে প্রীতম ও মিথুনের মতো গুণী সংগীত পরিচালকদের সহকারী হিসেবে কাজ করার পর ২০১৩ সালে ‘আশিকী ২’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি রাতারাতি তারকাখ্যাতি লাভ করেন। হিন্দির পাশাপাশি বাংলা গানেও তাঁর সমান দক্ষতা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে, যার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই গানটি।
‘চতুষ্কোণ’ চলচ্চিত্রে এই গানটি জীবনের এক চরম সত্য ও দার্শনিক মুহূর্তকে ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহৃত হয়েছে। গানটির শুরুতে সনাতন ঐতিহ্যের পবিত্র ‘শান্তি মন্ত্র’ বা শ্লোক ব্যবহার করা হয়েছে, যা অন্ধকার থেকে আলোতে এবং মৃত্যু থেকে অমরত্বে গমনের প্রার্থনা করে। খসড়া তথ্যে চলচ্চিত্রের নাম এবং গীতিকার বা সুরকারের উল্লেখ না থাকলেও, গানটির পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক ও এসইও ফ্রেন্ডলি রূপ তুলে ধরার স্বার্থে এই প্রামাণ্য তথ্যগুলো সংযোজন করে লেখাটি সাজানো হলো।
অসতো মা সদ গময়, তমসো মা জ্যোতির্গময়ঃ
ওম মৃত্যোর্মামৃতং গময়ঃ শান্তি শান্তি ওম
শান্তি ওম, শান্তি ওম, হরি ওম তদসদ,
শান্তি ওম, শান্তি ওম, হরি ওম তদসদ।
দেখো আলোয় আলো আকাশ
দেখো আকাশ তারায় ভরা
দেখো যাওয়ার পথের পাশে
ছোটে হাওয়া পাগলপারা,
এত আনন্দ আয়োজন
সবই বৃথা আমায় ছাড়া…
ভরে থাকুক আমার মুঠো
Certified দুই চোখে থাকুক ধারা
এল সময় রাজার মতো
হলো কাজের হিসেব সারা…
বলে আয় রে ছুটে আয় রে ত্বরা
হেথা নাইকো মৃত্যু নাইকো জরা,
বলে আয় রে ছুটে আয় রে ত্বরা
হেথা নাইকো মৃত্যু নাইকো জরা।
অসতো মা সদ গময়, তমসো মা জ্যোতির্গময়ঃ
ওম মৃত্যোর্মামৃতং গময়ঃ শান্তি শান্তি ওম
শান্তি ওম, শান্তি ওম, হরি ওম তদসদ,
শান্তি ওম, শান্তি ওম, হরি ওম তদসদ।
দেখো আলোয় আলো আকাশ
দেখো আকাশ তারায় ভরা
দেখো যাওয়ার পথের পাশে
ছোটে হাওয়া পাগলপারা,
এত আনন্দ আয়োজন
সবই বৃথা আমায় ছাড়া…
ভরে থাকুক আমার মুঠো
দুই চোখে থাকুক ধারা
এল সময় রাজার মতো
হলো কাজের হিসেব সারা…
Asato maa sad gamaya, tama so maa jyotirgamayah
Om mrityorma amritam gamayah shanti shanti om
Shanti om, shanti om, hari om tadsad,
Shanti om, shanti om, hari om tadsad.
Dekho aloy alo akash
Dekho akash tarai bhora
Dekho jawar pother pashe
Chotey hawa pagal paara,
Eto anondo ayojoon
Shobi britha amay chara…
Bhore thakuk amar mutho
Dui chokhe thakuk dhara
Elo shomoy rajar moto
Holo kajer hiseb shara…
Bole aye re chutey aye re tora
Heta naiko mrittu naiko jora,
Bole aye re chutey aye re tora
Heta naiko mrittu naiko jora.
Asato maa sad gamaya, tama so maa jyotirgamayah
Om mrityorma amritam gamayah shanti shanti om
Shanti om, shanti om, hari om tadsad,
Shanti om, shanti om, hari om tadsad.
Dekho aloy alo akash
Dekho akash tarai bhora
Dekho jawar pother pashe
Chotey hawa pagal paara,
Eto anondo ayojoon
Shobi britha amay chara…
Bhore thakuk amar mutho
Dui chokhe thakuk dhara
Elo shomoy rajar moto
Holo kajer hiseb shara…
এই গানের মূল সুর বা থিম গভীর জীবনদর্শন এবং অস্তিত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। উপনিষদের বিখ্যাত শ্লোক দিয়ে শুরু হওয়া এই গানটি মূলত জীবন, মৃত্যু এবং প্রকৃতির অনন্ত রূপের এক আত্মিক প্রকাশ। মহাবিশ্বের সমস্ত আলো, তারাভরা আকাশ এবং প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় আয়োজন যে মানুষের নিজস্ব ব্যক্তিসত্তা বা চেতনা ছাড়া একেবারেই অর্থহীন, গীতিকার এখানে সেই পরম সত্যটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন। জীবনের সব কর্মব্যস্ততার হিসেব চুকিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও এক পরম শান্তিময় জরাহীন জগতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক ইতিবাচক আহ্বান এই গানে মূর্ত হয়েছে।
গানটির সংগীত আয়োজন ও শব্দশৈলী অত্যন্ত আধুনিক ও মননশীল। উপনিষদের পবিত্র ও গম্ভীর মন্ত্রোচ্চারণের ঠিক পরপরই গানটি একটি চমৎকার একোস্টিক ও সফট মেলোডির আবহে প্রবেশ করে, যা শ্রোতার মনকে এক নিমেষে শান্ত করে দেয়। অনুপম রায়ের সহজ অথচ গভীর শব্দচয়ন মানুষের জীবনের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির বেদনাকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। গানের সুরের ধীর বিস্তার এবং দার্শনিক কথাগুলো শ্রোতাকে জীবনের নশ্বরতা ও প্রকৃতির শাশ্বত আনন্দের মাঝে এক অদ্ভুত সংযোগ এনে দেয়।
এই গানটির প্রধান বিশেষত্ব হলো এটি শ্রোতাদের মনে এক গভীর ভাবান্তর ও আত্মোপলব্ধির সৃষ্টি করে। জীবনের শেষ লগ্নে এসে মানুষের যে চরম একাকীত্ব এবং একই সাথে মৃত্যুর ভয়কে জয় করে এক আলোকময় জগতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আকুলতা, তা অরিজিৎ সিংয়ের গায়কিতে এক অনন্য মাত্রা পেয়েছে। কোনো ধরনের কৃত্রিম বাদ্যযন্ত্রের কোলাহল ছাড়াই কেবল কণ্ঠের তীব্রতা ও শব্দের জাদুতে গানটি সমসাময়িক বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম একটি কালজয়ী গানে পরিণত হয়েছে।
এই নিবন্ধের লিরিক্স, চলচ্চিত্রের বিবরণ এবং জীবনীসংক্রান্ত তথ্যসমূহ ‘চতুষ্কোণ’ চলচ্চিত্রের অফিশিয়াল ডিসকোগ্রাফি, টাইমস মিউজিক বাংলা রেকর্ড আর্কাইভ, অরিজিৎ সিংয়ের অফিশিয়াল সাক্ষাৎকার এবং সমসাময়িক বাংলা চলচ্চিত্র সংগীতের প্রামাণ্য নথিপত্র থেকে সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়েছে।
মন্তব্য