সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জানুয়ারি ২০২৩, ১১:১২ পিএম

হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে যে কয়েকটি রাগ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, আবেগঘন এবং শ্রোতার মনে এক অলৌকিক শান্তি এনে দেয়, তার মধ্যে অন্যতম একটি শীর্ষস্থানীয় রাগ হলো ‘রাগ ভীমপলাশ্রী’। দুপুরের ক্লান্তি শেষে বিকেলের শান্ত আলোয় এই রাগের বিস্তার শ্রোতা ও শিল্পী উভয়কেই এক অন্য জগতে নিয়ে যায়।
Table of Contents
উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আসরে রাগ ভীমপলাশ্রী তার অসম্ভব মিষ্টি চলন এবং গভীর আবেদনের জন্য অত্যন্ত সুপরিচিত। এই রাগটি মূলত দুটি প্রাচীন রাগ—‘ভীম’ এবং ‘পলাশ্রী’-এর এক অপূর্ব ও সুনিপুণ মিশ্রণে তৈরি হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চর্চার ফলে এই দুটি রাগের মিশ্রণ এখন এতটাই একাত্ম হয়ে গেছে যে, একে একটি স্বতন্ত্র রাগ হিসেবেই গণ্য করা হয়।
এই রাগটি মূলত ‘ভীমপলাশ্রী’ নামেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত হলেও, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং প্রাচীন কিছু গ্রন্থে একে কিছুটা ভিন্ন নামেও ডাকা হয়। যেমন:
ভীমপলাশ্রী একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাগ। এর বিশেষত্ব লুকিয়ে আছে এর স্বর বিন্যাসের চাতুর্যে। এই রাগের আরোহণে মাত্র ৫টি স্বর ব্যবহৃত হয়, কিন্তু অবরোহণের সময় এটি সম্পূর্ণ রূপ ধারণ করে। বিকেলের অলস ও শান্ত পরিবেশে যখন এই রাগের ‘কোমল গান্ধার’ ও ‘কোমল নিষাদ’-এর ওপর আন্দোলন করা হয়, তখন চারপাশের বাতাসে এক ধরণের মিষ্টি আকুলতা ও আধ্যাত্মিক ভাব ছড়িয়ে পড়ে। এটি মূলত করুণ ও শান্ত রসের রাগ।
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের চিরাচরিত নিয়ম ও ব্যাকরণ অনুযায়ী রাগ ভীমপলাশ্রীর মূল কাঠামোটি নিচে তুলে করা হলো:
ভীমপলাশ্রী রাগের স্বর বিন্যাসের সাথে মিল থাকা বা এর সমপ্রকৃতির কিছু রাগের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
রাগ ভীমপলাশ্রী কেবল ব্যাকরণের ফ্রেমে বাঁধা কোনো সুর নয়, এটি মানুষের মনের গভীর অনুভূতির এক জীবন্ত রূপ। বিকেলের শান্ত আলোয় যখন এই রাগের আলাপ বা কোনো চমৎকার বন্দিশ বেজে ওঠে, তখন তা শ্রোতার সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে এক অদ্ভুত মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। ক্ল্যাসিক্যাল সঙ্গীতের গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের আধুনিক বাংলা গান এবং চলচ্চিত্রের বহু জনপ্রিয় গানেও এই রাগের প্রভাব দারুণভাবে লক্ষ্য করা যায়। সুরের এই মিষ্টি ধারা শত শত বছর ধরে আমাদের সঙ্গীত ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে আসছে।

তথ্যসূত্র (Sources)
১. ‘সঙ্গীত পরিচিতি’ (উত্তরভাগ) – শ্রীনীলরতন বন্দ্যোপাধ্যায়।
২. ‘উচ্চাঙ্গ ক্রিয়াত্মক সঙ্গীত’ – শক্তিপদ ভট্টাচার্য।
৩. ‘ক্রমিক পুস্তক মালিকা’ – পণ্ডিত বিষ্ণুনারায়ণ ভাতখণ্ডে।
৪. ‘রাগ বিন্যাস’ – শ্রীশচীন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য্য।
মন্তব্য