সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম

নব্বইয়ের দশকে নিজস্ব মেলোডি ও বৈপ্লবিক গায়কি দিয়ে ভারতীয় স্বাধীন সংগীতকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন লাকি আলী। দীর্ঘ সংগীতজীবনে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে জয়গা করে নেওয়া ৬৭ বছর বয়সী এই প্রখ্যাত সুরসাধক সম্প্রতি এক লাইভ কনসার্টে উপস্থিত শ্রোতা-দর্শকদের গভীর আবেগে ভাসিয়েছেন। লাইভ গান পরিবেশনার মাঝে হঠাৎ জীবনের নশ্বরতা এবং মৃত্যুর সার্বজনীনতা নিয়ে তাঁর প্রকাশ করা আধ্যাত্মিক ভাবনা মুহূর্তের মধ্যে পুরো মিলনায়তনকে নিস্তব্ধ করে দেয়।
কনসার্ট চলাকালে দর্শকসারি থেকে ভেসে আসা অবিরাম ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাসের জবাবে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লাকি আলী। আবেগ সামলে নিয়ে তিনি বলেন, জীবনের বহমান পথচলায় মৃত্যু প্রতিটি মানুষের জন্য এক অনিবার্য ও ধ্রুব সত্য। তিনি নিজেও এই পরম বাস্তবতাকে সহজভাবে মেনে নিয়েছেন এবং আত্মিকভাবে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছেন। নিজের অভ্যাসের কথা জানিয়ে তিনি উপস্থিত সবাইকে বলেন, দেশের ভেতর হোক কিংবা বিদেশের মাটিতে, যখনই তিনি কোনো সফরে বের হন, ব্যাগপত্রে সর্বদা ইহরামের কাপড় সাথে রাখেন। এই কাপড়টিকেই তিনি নিজের কাফনের কাপড় হিসেবে গণ্য করেন। তিনি আরও ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, পৃথিবীর যে প্রান্তেই তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ হোক না কেন, বাড়তি কোনো আনুষ্ঠানিকতা না করে তাঁকে যেন সরাসরি সেখানেই মাটি দেওয়া হয়।
উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা প্রিয় শিল্পীর মুখে জীবন ও মৃত্যুর এমন স্পষ্ট ও গভীর দর্শন শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে যান। মুহূর্তের নীরবতা ভেঙে এক অনুরাগী ব্যাকুল হয়ে চিৎকার করে বলে ওঠেন, ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে, তিনি কখনও লাকি আলীকে ছেড়ে যাননি এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর সাথেই থাকবেন। হৃদয়স্পর্শী এই স্মারক মুহূর্তটির ভিডিও পরবর্তীতে লাকি আলী নিজেই তাঁর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভক্তদের জন্য শেয়ার করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেতেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। লাখো অনুরাগী কমেন্ট বক্সে শিল্পীর শারীরিক সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করে তাঁর জীবন দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
কিংবদন্তি অভিনেতা মেহমুদের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও লাকি আলী কখনো তারকা বাবার পরিচয়ের সুফল নিয়ে সংগীত জগতে নিজের পথ সুগম করতে চাননি। আশির দশকের শেষ ও নব্বইয়ের সূচনালগ্নে যখন গোটা ভারতীয় উপমহাদেশীয় সংগীত জগতে বলিপাড়ার আধিপত্য ছিল, ঠিক তখনই মেলোডিয়াস পপ সুরের আমেজ নিয়ে সামনে আসেন তিনি। ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুনো’-র বিখ্যাত গান ‘ও সানাম’ রাতারাতি তাঁকে সংগীতাঙ্গনের শীর্ষ তারকায় পরিণত করে।
নিজের স্বাধীন মিউজিক অ্যালবামের পাশাপাশি একাধিক বিখ্যাত হিন্দি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেও আন্তর্জাতিক সাফল্য কুড়িয়েছেন লাকি আলী। ‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’, ‘ইউভা’, ‘বাচনা অ্যায় হাসিনো’, ‘আনজানা আনজানি’ এবং ‘তামাশা’-র মতো একাধিক হিট সিনেমার গানগুলো আজও তরুণ প্রজন্মকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। বাণিজ্যকেন্দ্রিক মিউজিকের চেয়ে অন্তরের শান্তিকে প্রাধান্য দিয়ে ২০১৫ সালের পর থেকে বলিউডের মূলধারার গান থেকে কিছুটা দূরে সরে আসেন তিনি। বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যানার বা প্রডাকশনের অধীনে না থেকে নিজের স্বাধীন সুর সৃষ্টি এবং দেশ-বিদেশে লাইভ কনসার্টেই নিজেকে মগ্ন রাখেন এই সুরসাধক।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য