সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই নভেম্বর ২০২৫, ৫:২৮ পিএম

চীনের সংগীত জগতে নতুন ইতিহাস রচনা করলেন তরুণ গায়ক জি ইউ। তাঁর একক গান “কোয়াগমায়ার” পেয়েছে বিলবোর্ড চায়না ও টেনসেন্ট মিউজিকের যৌথ প্রকল্প ‘স্টার পাওয়ার মান্থলি সিলেকশন’-এর প্রথম বিজয়ীর খেতাব (সেপ্টেম্বর সংস্করণে)।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছেন গীতিকার লি শি জুয়ে, যিনি বিলবোর্ড চায়নার সঙ্গে কথা বলে গানটির সৃষ্টির নেপথ্য কাহিনি তুলে ধরেন।
জি ইউয়ের এই গানটি শ্রোতাদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে—রেট্রো সুরের সঙ্গে আধুনিক সংবেদন মিশে এক অনন্য আবেগ তৈরি করেছে “কোয়াগমায়ার”। গানটি এক ধরনের মানসিক ফাঁদে আটকে থাকা অনুভূতির প্রতীক, যেখানে মানুষ মুক্তি চাইলেও আবার ডুবে যায় নিজেরই ভেতরে।
Table of Contents
লি শি জুয়ে জানান, “কোয়াগমায়ার” মূলত এক আবেগঘন অবস্থার প্রতিফলন। এটি এমন এক মুহূর্তের গল্প, যখন কেউ রাতের নিস্তব্ধতায় নিজের দুঃখে ডুবে থাকে, চোখে জল আসে, কিন্তু তবুও টিকে থাকার শক্তি খুঁজে নেয়।
তিনি বলেন, “প্রত্যেকের জীবনে একবার না একবার ‘কোয়াগমায়ার মোমেন্ট’ আসে—যখন মনে হয় সব শেষ। কিন্তু আসলে সেই নিচু জায়গাটাই একদিন নতুন কিছু জন্ম দেয়।”
গানটির সাফল্যের পেছনে রয়েছে এর সহজ অথচ গভীর লিরিক্স এবং মনে রাখার মতো সুর। যেমন একটি লাইন—
“চোখের জল ঠোঁটে এসে লবণাক্ত হয়”—
এই সরল বাক্যই শ্রোতার মনে বাস্তব ব্যথার অনুভব জাগায়।
লি শি জুয়ের মতে, জি ইউ তাঁর নরম অথচ দৃঢ় কণ্ঠে গানটিকে নতুন প্রাণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “জি ইউয়ের কণ্ঠে যে সংযত বেদনা শোনা যায়, সেটাই গানটিকে জীবন্ত করে তুলেছে।”
যারা নিজের জীবনের “কোয়াগমায়ার”-এর মধ্যে আছেন, তাদের জন্য লি শি জুয়ের পরামর্শ—
“ঝড়কে থামাতে চেও না, সময়কেই কাজ করতে দাও। একদিন তুমি যখন এই কাদা থেকে উঠবে, তখন তুমি আগের সেই মানুষ থাকবে না—আরও শক্ত, আরও পরিণত হয়ে উঠবে।”
লি শি জুয়ে জানান, তিনি সঙ্গীত রচনায় কোনো কঠোর নিয়ম মানেন না। কখনো সুর আগে আসে, কখনো কথা। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রথম অনুভূতি—যেটা থেকেই গান জন্ম নেয়। “কোয়াগমায়ার”-এর ক্ষেত্রেও আগে এসেছিল সেই কাদা-মাখা মানসিক চিত্র, সেখান থেকেই গড়ে ওঠে সুর ও কথা।
পরিশেষে, “কোয়াগমায়ার” শুধু একটি গান নয়; এটি আত্মসমর্পণ, সংগ্রাম ও আত্ম-উদ্ধারের গল্প। জি ইউয়ের কণ্ঠে এটি হয়ে উঠেছে এমন এক সংগীত যা শ্রোতাকে নিজের ভেতরের গভীর জায়গায় নিয়ে যায় — যেখানে দুঃখ আছে, কিন্তু সেখান থেকেই জন্ম নেয় নতুন আলো।
মন্তব্য