প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের ঈদ উদযাপনকে আরও প্রাণবন্ত ও আবেগঘন করে তুলতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে ব্যাপক সঙ্গীত সফর ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত এসব সংগীতানুষ্ঠান প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে দেশীয় সুর ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর সংযোগ তৈরি করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ ধরনের আয়োজন এখন কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্ক যুক্তরাষ্ট্রে চার মাসব্যাপী একটি বৃহৎ সঙ্গীত সফরে অংশ নিচ্ছে। আগামী পনেরো জুন থেকে শুরু হয়ে দশ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে তাদের একাধিক সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের মতে, প্রবাসে নিয়মিত মঞ্চে পরিবেশনা এখন শিল্পীদের পেশাগত স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
একই সময়ে নগর বাউল, আর্টসেল এবং অ্যাশেজ ব্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপজুড়ে সফর করছে। অ্যাশেজ ইতোমধ্যে ইউরোপে পৌঁছে রোম, ভেনিস ও প্যারিসে সংগীত পরিবেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার প্রথম অনুষ্ঠান নির্ধারিত হয়েছে ষোল জুন। অন্যদিকে নগর বাউল ও আর্টসেলও বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিকভাবে পরিবেশনায় অংশ নেবে।
জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জেমস জুলাই মাসে ইউরোপ সফর শুরু করবেন। লন্ডন থেকে শুরু করে পর্তুগাল ও লিসবনে তার একাধিক সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে লিসবনের আয়োজনটি প্রবাসী বাঙালিদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সফর শেষে তিনি অস্ট্রেলিয়াতেও একাধিক মঞ্চে গান পরিবেশন করবেন।
তরুণ সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে তার উত্তর আমেরিকা সফর শুরু করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও কানাডায় ধারাবাহিকভাবে সংগীত পরিবেশন করবেন। একই সময়ে সানিয়া সুলতানা লিজা বাইশ জুন থেকে ইউরোপ সফর শুরু করবেন, যা প্যারিস থেকে শুরু হয়ে বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও স্পেন পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।
কামরুজ্জামান রাব্বি ও সাগর বাউল লন্ডনে একটি বিশেষ ঈদ সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। জাকিয়া সুলতানা কর্নিয়া কানাডায় একাধিক মঞ্চে পরিবেশনা করছেন। অন্যদিকে প্রীতিক হাসান যুক্তরাষ্ট্রে উন্মুক্ত মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করছেন।
অস্ট্রেলিয়ায় রুনা লায়লা আগস্ট মাসে সিডনি ও মেলবোর্নে দুটি বড় সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রবাসীদের মধ্যে টিকিটের চাহিদা ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ইমরান মাহমুদুল যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক সংগীতানুষ্ঠান এবং একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এছাড়া ব্যান্ড শিরোনামহীন অস্ট্রেলিয়ার নববর্ষ উৎসবে পরিবেশনা করবে এবং শুভযাত্রা ব্যান্ড কানাডায় তিন মাসব্যাপী সঙ্গীত সফরে রয়েছে।
এসব আন্তর্জাতিক সংগীত আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের আবেগ, স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করছে। একই সঙ্গে এসব সফর বাংলাদেশের সংগীতকে বৈশ্বিক পরিসরে আরও বিস্তৃত ও পরিচিত করে তুলছে।
প্রধান শিল্পী ও সঙ্গীত সফর সূচি
| শিল্পী বা ব্যান্ড | গন্তব্য অঞ্চল | সময়কাল | বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|---|
| আর্ক | যুক্তরাষ্ট্র | পনেরো জুন থেকে দশ সেপ্টেম্বর | চার মাসব্যাপী বৃহৎ সফর |
| নগর বাউল, আর্টসেল, অ্যাশেজ | যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ | জুন থেকে সেপ্টেম্বর | একযোগে আন্তর্জাতিক পরিবেশনা |
| জেমস | যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া | জুলাই থেকে আগস্ট | ইউরোপ থেকে শুরু |
| সানিয়া সুলতানা লিজা | ইউরোপের বিভিন্ন দেশ | বাইশ জুন থেকে জুলাই | ঈদ কেন্দ্রিক সফর |
| রুনা লায়লা | অস্ট্রেলিয়া | আগস্ট | সিডনি ও মেলবোর্নে সংগীতানুষ্ঠান |
| প্রীতম হাসান | যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা | ধারাবাহিক | উত্তর আমেরিকা সফর |
প্রবাসে এ ধরনের ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক আয়োজন শুধু বিনোদনের ক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করছে না, বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংগীতের প্রতি আগ্রহও বাড়িয়ে তুলছে।
