সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৪৩ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চালানো লাঠিচার্জে অন্তত ২০ জন মাদরাসাছাত্র আহত হয়েছেন। রক্তক্ষয়ী এই উত্তেজনার মুখে একপর্যায়ে জেলা পুলিশের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ পণ্ড হয়ে যায়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকায় অবস্থিত পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ, মাদরাসা শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সফর ও আগমনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে এক আড়ম্বরপূর্ণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে জেলা পুলিশ প্রশাসন। অনুষ্ঠানের প্রথমভাগে প্রধান অতিথি ডিআইজি উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। তবে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে চলে যাওয়ার পরও মঞ্চে উচ্চস্বরে গান বাজানো অব্যাহত রাখা হয়। পুলিশ লাইন্সের ঠিক পাশেই অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসা। পরদিন বুধবার সকালে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নির্ধারিত থাকায় গভীর রাতে সাউন্ড বক্সের এই বিকট শব্দে তাদের পড়াশোনা ও ঘুম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সমস্যার কথা জানাতে প্রথমে কয়েকজন মাদরাসাছাত্র পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দ মাত্রা কিছুটা কমানোর জন্য বিনয়ের সাথে অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধে সাময়িকভাবে সাউন্ড কমানো হলেও কিছুক্ষণ পর আবারো উচ্চস্বরে মাইক ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো শুরু হয়। এর প্রতিবাদে এবং পুনরায় অনুরোধ জানাতে শতাধিক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় দফায় পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় গেটে দায়িত্বরত ও প্রাঙ্গণে থাকা পুলিশ সদস্যদের সাথে শিক্ষার্থীদের তীব্র তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চরম উত্তেজনায় রূপ নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটায় একে একে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন।
এই ঘটনার পর শহরের ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং স্থানীয় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়া ঠেকাতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় জেলা পুলিশ। গভীর রাতেই জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানের সাথে জরুরি বৈঠকে বসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ। এই রুদ্ধদ্বার মধ্যস্থতা বৈঠকে জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মাদরাসা ও স্থানীয় ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— ভবিষ্যতে আবাসিক এলাকা সংলগ্ন পুলিশ লাইন্সে এই ধরণের কোনো উচ্চশব্দের গানবাজনার আয়োজন না করা, লাঠিচার্জে আহত সকল শিক্ষার্থীর সুষ্ঠু সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ঘটনা তদন্ত করে দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। দাবি না মানলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। বৈঠক শেষে পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ সার্বিক ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তাদের উত্থাপিত সকল দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই সাথে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ঘটনাটি খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য