সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই আগস্ট ২০২৬, ৫:১৭ পিএম

ইতালির রাজধানী রোমে নগরবাউল জেমসের কনসার্টকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে হোটেলের কক্ষের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে একটি কক্ষের মেঝে ও রান্নাঘরে ব্যবহৃত সামগ্রী, প্লাস্টিক, খাবারের উচ্ছিষ্ট এবং অপরিষ্কার থালা-বাসন দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। তবে জেমসের সফরসঙ্গীদের দাবি, ছবিতে দেখা কক্ষটি শিল্পীর থাকার কক্ষ নয়। ফলে ওই কক্ষের অবস্থার দায় সরাসরি জেমসের ওপর চাপানো ঠিক হবে না।
জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন জানান, ১৬ আগস্ট রোমে অনুষ্ঠিত কনসার্টে অংশ নিতে শিল্পী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা একটি হোটেল অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করেন। তাঁদের জন্য মোট চারটি কক্ষ বরাদ্দ ছিল। জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে। মুখপাত্র নিজে ছিলেন ২৪৬ নম্বর কক্ষে। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেটিকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ছড়িয়েছে, সেই ৫৪৯ নম্বর কক্ষে ছিলেন দলের অন্য একজন সংগীতশিল্পী।
কনসার্ট শেষ হওয়ার পর দলটি হোটেল ত্যাগ করে। এর কিছু সময় পর ৫৪৯ নম্বর কক্ষের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিগুলোতে মেঝেতে ব্যবহৃত পানির বোতল, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। খাবারের টেবিলে ব্যবহৃত প্লেট, পলিথিনের ব্যাগ ও খাবারের উচ্ছিষ্টও ছিল। রান্নাঘরের সিঙ্কে ব্যবহৃত থালা-বাসন জমে থাকার পাশাপাশি কাঁচা ডিম পড়ে থাকার ছবিও আলোচনায় আসে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ ও আয়োজক প্রতিনিধিদের কথোপকথনের কিছু অংশও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পায়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, কক্ষটির অবস্থা স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতার কাজের তুলনায় বেশি সময় ও শ্রমসাপেক্ষ ছিল। কক্ষ ছাড়ার আগে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হয়নি—এমন অভিযোগও সামনে আসে। ভবিষ্যতে একই হোটেলে অবস্থানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার জন্য ২০০ ইউরো দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে জেমসের মুখপাত্র এই অভিযোগের সঙ্গে শিল্পীকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দলের সদস্যদের জন্য আলাদা কক্ষ বরাদ্দ ছিল এবং অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ৫৪৯ নম্বর কক্ষটি জেমস ব্যবহার করেননি। তাই অন্য একজনের ব্যবহৃত কক্ষের অবস্থা থেকে শিল্পীর ব্যক্তিগত আচরণ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
হোটেল ত্যাগের বিষয়েও জেমসের দলের বক্তব্য ভিন্ন। রবিনের দাবি, তাঁরা কারও অগোচরে বা গোপনে হোটেল ছেড়ে যাননি। বরং প্রকাশ্যেই হোটেল থেকে বের হয়ে ভেনিসের উদ্দেশে রওনা দেন। দলের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বাদ্যযন্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছিল। এত মানুষ ও সরঞ্জাম নিয়ে গোপনে চলে যাওয়ার অভিযোগকে তিনি বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
রোমের কনসার্ট ঘিরে অবশ্য শুধু হোটেলের পরিচ্ছন্নতার প্রশ্নই ওঠেনি। অনুষ্ঠানটির অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। ইতালির আয়োজক হোসাইন আহমেদ দাবি করেছেন, কনসার্টের অগ্রিম অর্থ এবং টিকিট বিক্রির টাকা নিয়ে হিসাবের জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এ নিয়ে আয়োজক পক্ষের সঙ্গে জেমসের সফরসঙ্গীদের মতবিরোধের কথাও তিনি জানিয়েছেন। পরিস্থিতির একপর্যায়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে ডাকার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
অর্থসংক্রান্ত অভিযোগও অস্বীকার করেছেন রবিন। তাঁর ভাষ্য, অন্যান্য অনুষ্ঠানের মতো রোমের কনসার্টের জন্যও আয়োজকদের সঙ্গে লিখিত চুক্তি করা হয়েছিল। চুক্তিতে উল্লেখ থাকা অর্থনৈতিক শর্ত নিয়ে কোনো বিরোধ তৈরি হলে নথিপত্রের ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধানের সুযোগ রয়েছে। কারও পক্ষ থেকে অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার পথও খোলা রয়েছে বলে তিনি জানান।
জেমসের দল বর্তমানে ইতালির ভেনিসে অবস্থান করছে বলেও জানিয়েছেন তাঁর মুখপাত্র। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জেমস বা তাঁর সফরসঙ্গীদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। রোমের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আয়োজক পক্ষের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিযোগগুলোর প্রকৃত ভিত্তি কী। হোটেলের ৫৪৯ নম্বর কক্ষটি কে ব্যবহার করেছিলেন, কক্ষ ছাড়ার সময় সেটির অবস্থা ঠিক কেমন ছিল, অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন কেন হয়েছিল এবং ২০০ ইউরোর দাবির পেছনে হোটেলের নীতিমালা বা কোনো লিখিত শর্ত ছিল কি না—এসব বিষয় নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
একইভাবে কনসার্টের অগ্রিম অর্থ, টিকিট বিক্রির আয় এবং আয়োজক ও শিল্পীপক্ষের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির শর্তও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থ লেনদেনের রসিদ, চুক্তিপত্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাশাপাশি যাচাই করা গেলে বিরোধের প্রকৃতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি কিংবা কথোপকথনের খণ্ডিত অংশ কোনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সবসময় তুলে ধরে না। এই ঘটনায়ও দুই পক্ষের বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ফলে যাচাই ছাড়া কোনো পক্ষকে দায়ী করা যেমন ঠিক হবে না, তেমনি অভিযোগকে একেবারে অমূলক বলেও ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
রোমের কনসার্ট নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করতে হলে হোটেল কর্তৃপক্ষ, আয়োজক এবং জেমসের দলের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথি ও অর্থনৈতিক হিসাব সামনে আসা জরুরি। সেসব তথ্য যাচাই হওয়ার পরই বোঝা যাবে, হোটেলের কক্ষ নিয়ে অভিযোগের দায় কার এবং কনসার্টের অর্থনৈতিক বিরোধের পেছনে প্রকৃত কারণ কী।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য