সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই মার্চ ২০২৬, ৬:৪২ পিএম

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের জাদুকরী কণ্ঠে কোটি শ্রোতার হৃদয় জয় করেছেন অলকা ইয়াগনিক। যে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি অসংখ্য কালজয়ী গান গেয়েছেন, আজ সেই মাইক্রোফোন থেকেই দূরে থাকতে হচ্ছে তাকে। এক বিরল ও জটিল স্নায়বিক রোগের কারণে বর্তমানে গান গাইতে পারছেন না ভারতীয় উপমহাদেশের এই প্রবাদপ্রতিম কণ্ঠশিল্পী। তার এই অসুস্থতার সংবাদে ভক্তদের মনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
Table of Contents
২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো অলকা ইয়াগনিক তার অসুস্থতার খবরটি প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, একটি দীর্ঘ বিমান ভ্রমণ শেষে অবতরণের পর তিনি হঠাৎ অনুভব করেন যে তার শ্রবণশক্তি কাজ করছে না। চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হওয়ার পর জানা যায়, তিনি ‘সেন্সরিনিউরাল হেয়ারিং লস’ (Sensorineural Hearing Loss) নামক এক জটিল সমস্যায় আক্রান্ত। একটি আকস্মিক ভাইরাল সংক্রমণের ফলে তার শ্রবণ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বর্তমানে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছেন। গায়িকা এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, সুরকারদের কাছ থেকে নিয়মিত কাজের প্রস্তাব আসা সত্ত্বেও তিনি তা গ্রহণ করতে পারছেন না। তার ভাষায়, “প্রস্তাব আসছে ঠিকই, কিন্তু শারীরিক অবস্থার কারণে আমি কাজ করতে পারছি না।”
নব্বইয়ের দশকের প্লেব্যাক জগতের একচ্ছত্র অধিপতি ছিলেন অলকা ইয়াগনিক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি সাতবার ফিল্মফেয়ার এবং দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। ২০২৪ সালের শুরুতে ভারত সরকার তাকে দেশের অন্যতম শীর্ষ সম্মান ‘পদ্মভূষণ’-এ ভূষিত করেছে। তবে এমন সম্মানজনক মুহূর্তেও নিজের শারীরিক অবস্থার কারণে খুব একটা উল্লাস করতে দেখা যায়নি তাকে। তিনি অত্যন্ত সংযতভাবে এই সম্মান গ্রহণ করেছেন।
নিচে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের কিছু বিশেষ তথ্য তুলে ধরা হলো:
অলকা ইয়াগনিক শুধু নিজের কষ্টের কথাই বলেননি, বরং নিজের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, উচ্চ শব্দে গান শোনা এবং দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার করা কানের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তার মতে, আধুনিক জীবনযাত্রায় শ্রবণশক্তির যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
অলকা ইয়াগনিকের শেষ কাজ ছিল ইমতিয়াজ আলী পরিচালিত ও এ আর রহমানের সংগীতায়োজনে ‘অমর সিং চামকিলা’ সিনেমায়। সেখানে ‘নারম কালজা’ গানটি গেয়ে তিনি আবারো প্রমাণ করেছিলেন যে তার কণ্ঠে বয়সের কোনো ছাপ পড়েনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এরপর আর স্টুডিওতে ফিরতে পারেননি তিনি।
বর্তমানে তিনি নিভৃতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন। সংগীতাঙ্গনের সহকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রোতা—সকলেই এখন তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। অলকা ইয়াগনিকের মতো একজন শিল্পী কেবল ভারতের নন, বরং পুরো বিশ্বের বাংলা ও হিন্দি ভাষাভাষী মানুষের সম্পদ। তার এই কণ্ঠের সাময়িক নীরবতা সংগীতাঙ্গনে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে, তা কাটিয়ে তিনি দ্রুত আবার সুরের ভুবনে ফিরবেন, এটাই সবার প্রত্যাশা।
মন্তব্য