সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৪২ পিএম

অস্ত্রোপচারের মতো উদ্বেগপূর্ণ চিকিৎসা পরিস্থিতিতেও সংগীতকে নিজের সঙ্গী করে রাখলেন ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সোনু নিগম। চিকিৎসা চলার সময়ই কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী মোহাম্মদ রফির কালজয়ী গান ‘সুহানি রাত ঢল চুকি’ গেয়ে উপস্থিত চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের চমকে দেন তিনি। হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ভক্তরা যেমন শিল্পীর সংগীতপ্রেমের প্রশংসা করছেন, তেমনই তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য শুভকামনাও জানাচ্ছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্যেই বেশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গানটি গাইছেন সোনু নিগম। পরিস্থিতি ছিল শারীরিকভাবে অস্বস্তিকর ও উদ্বেগের, কিন্তু তাঁর কণ্ঠে সেই চাপের স্পষ্ট ছাপ দেখা যায়নি। বরং পরিচিত সুরে গান গেয়ে তিনি যেন মুহূর্তটির ভার কিছুটা হালকা করে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। উপস্থিত চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীরাও তাঁর এই আচরণে বিস্মিত হন।
ভিডিওটি প্রকাশের সময় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সোনু নিগম লিখেছেন, ‘যন্ত্রণার মধ্যেও গান।’ ছোট্ট এই বার্তাটি মুহূর্তটির আবেগকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। একজন শিল্পীর কাছে সংগীত যে কেবল পেশা নয়, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও মানসিক শক্তিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এই ঘটনাটি তারই একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সাধারণত অস্ত্রোপচার বা জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়ার আগে ও সময়ে রোগীদের মধ্যে ভয়, উদ্বেগ কিংবা অস্বস্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। চিকিৎসার ধরন ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে পরিস্থিতিও ভিন্ন হতে পারে। সোনু নিগম অবশ্য সেই মুহূর্তে নিজের সবচেয়ে পরিচিত জগৎ, অর্থাৎ সংগীতের দিকেই ফিরে গেছেন। তাঁর আচরণে চিকিৎসাকক্ষের পরিবেশও কিছু সময়ের জন্য অন্যরকম হয়ে ওঠে।
সোনু নিগমের সংগীতজীবনে মোহাম্মদ রফির প্রভাব দীর্ঘদিনের। রফি ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম শ্রদ্ধেয় কণ্ঠশিল্পী। তাঁর বহুমাত্রিক কণ্ঠ, আবেগপূর্ণ পরিবেশনা এবং অসংখ্য জনপ্রিয় গান পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। সোনু নিগমও বিভিন্ন সময়ে রফির গান পরিবেশন করেছেন এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। ফলে চিকিৎসার মতো ব্যক্তিগত ও কঠিন একটি মুহূর্তে রফির গান বেছে নেওয়ার বিষয়টি তাঁর সংগীত-অনুরাগের সঙ্গে বেশ স্বাভাবিকভাবেই মিলে যায়।
‘সুহানি রাত ঢল চুকি’ গানটির সঙ্গেও রয়েছে দীর্ঘ সংগীতঐতিহ্য। ১৯৪৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দুলারি’ চলচ্চিত্রে গানটি ব্যবহৃত হয়। মোহাম্মদ রফির কণ্ঠে পরিবেশিত এই গান হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতের স্মরণীয় গানগুলোর একটি হিসেবে বহু বছর ধরে শ্রোতাদের কাছে পরিচিত। গানের সুর ও কথায় রাতের আবহ, অপেক্ষা এবং আবেগের যে মিশ্রণ রয়েছে, তা গানটিকে সময় পেরিয়েও জনপ্রিয় রেখেছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সোনু নিগমের স্নায়ুতে চাপজনিত একটি সমস্যার চিকিৎসার বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ধরনের শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যথা, ঝিনঝিনি, অবশভাব কিংবা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে সোনুর নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার পূর্ণ বিবরণ বা অস্ত্রোপচারের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো অনুমান করা সমীচীন নয়। প্রকাশিত ভিডিও থেকে শুধু এটুকুই বোঝা যায়, চিকিৎসার সময়ও তিনি নিজেকে মানসিকভাবে স্থির রাখার চেষ্টা করেছেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তদের প্রতিক্রিয়াতেও সেই আবেগের প্রতিফলন দেখা যায়। অনেকেই সোনু নিগমের মানসিক দৃঢ়তা এবং সংগীতের প্রতি তাঁর অটুট ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও গান গাওয়ার ক্ষমতাকে অনেকে তাঁর শিল্পীসত্তার অনন্য প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
তবে এই ঘটনাকে চিকিৎসাগত কোনো সাধারণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। চিকিৎসার সময় গান গাওয়া, কথা বলা কিংবা অন্য কোনো কর্মকাণ্ড রোগীর জন্য উপযোগী কি না, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ধরনটির ওপর। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সোনু নিগমের ক্ষেত্রে ঘটনাটির আরেকটি তাৎপর্য তাঁর সঙ্গে রফির দীর্ঘ সংগীতসম্পর্ক। জীবনের কঠিন একটি মুহূর্তেও তিনি যে গানটি বেছে নিয়েছেন, সেটি তাঁর সংগীতের অন্যতম প্রিয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কয়েক মুহূর্তের সেই পরিবেশনা শুধু একটি ভাইরাল দৃশ্য নয়; তাঁর শিল্পীজীবন, সংগীতের প্রতি ভালোবাসা এবং ব্যক্তিগত আবেগ—তিনটিকেই একসঙ্গে সামনে এনেছে।
হাসপাতালের চিকিৎসাকক্ষ থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিও শেষ পর্যন্ত সোনু নিগমের ভক্তদের কাছে আশাবাদের একটি দৃশ্য হয়ে উঠেছে। শারীরিক কষ্টের মধ্যেও গানকে আঁকড়ে ধরে থাকা শিল্পীর এই মুহূর্ত অনেকের মনে নতুন করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি করেছে। এখন ভক্তদের একটাই প্রত্যাশা—চিকিৎসা শেষে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরুন সোনু নিগম এবং তাঁর কণ্ঠে নতুন গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য