সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:৭ এএম

চলতি বছরের ভারতীয় চলচ্চিত্রের সব রেকর্ড ওলটপালট করে দেওয়া সিনেমা ‘কানতারা: আ লিজেন্ড চ্যাপ্টার ১’-এর অভাবনীয় সাফল্যের পর বিনোদন জগতের স্পটলাইট এখন রুক্মিণী বসন্তের ওপর। ঋষভ শেঠির বিপরীতে এই সিনেমায় তাঁর অভিনয় কেবল প্রশংসিতই হয়নি, বরং বক্স অফিসে ৯০০ কোটি রুপির অধিক আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করে তাঁকে রাতারাতি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত করেছে। তবে কেবল ‘কানতারা’ নয়, এই তরুণ অভিনেত্রী এখন ভারতের সবচেয়ে বড় বড় প্রজেক্টগুলোতে যুক্ত হয়ে একের পর এক চমক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
লন্ডনের প্রখ্যাত ‘রয়্যাল একাডেমি অব ড্রামাটিক আর্ট’ (রাডা) থেকে অভিনয়ের উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়া রুক্মিণী শুরু থেকেই চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সচেতন। তাঁর মতে, তিনি এমন সব নারী চরিত্রে অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন যারা নিছক পুতুল নয়, বরং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এবং গল্পের মোড় ঘোরাতে পারে। ‘কানতারা’র প্রিকুয়েলে তাঁর অভিনীত ‘কঙ্কাবতী’ চরিত্রটি ছিল অত্যন্ত জটিল এবং রহস্যময়, যা অভিনয়ের গভীরতা দিয়ে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন।
রুক্মিণী বসন্তের বর্তমান ও আসন্ন কাজগুলোর একটি সামগ্রিক চিত্র নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
| ক্যাটাগরি | বিস্তারিত তথ্য ও বিবরণ |
| সবশেষ ব্লকবাস্টার | কানতারা: আ লিজেন্ড চ্যাপ্টার ১ (আয় ৯০০+ কোটি রুপি) |
| আসন্ন মহাপ্রজেক্ট ১ | ‘টক্সিক’ (যশ-এর বিপরীতে প্রধান নারী চরিত্র) |
| আসন্ন মহাপ্রজেক্ট ২ | প্রশান্ত নীলের পরবর্তী সিনেমা (জুনিয়র এনটিআর-এর বিপরীতে) |
| অভিনয় শিক্ষা | রয়্যাল একাডেমি অব ড্রামাটিক আর্ট (RADA), লন্ডন |
| অভিনয় শৈলী | ক্যানভাস ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সূক্ষ্ম ও প্রখর অভিনয় |
| পারিবারিক ঐতিহ্য | বাবা সেনাবাহিনীতে ছিলেন এবং মা একজন নৃত্যশিল্পী |
রুক্মিণী মনে করেন, বড় ক্যানভাসের ছবিতে অভিনয় করা একটি বিশেষ ব্যাকরণ মেনে চলার মতো। তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “সপ্ত সাগরদাচে এলো’ সিনেমায় আমার অভিনয় ছিল নীরবতা ও সংবেদনশীলতা নির্ভর। কিন্তু ‘কানতারা’র জগৎ এত বিশাল যে সেখানে অভিনয়কে নির্দিষ্ট মাত্রায় তুলে ধরতে হয় যাতে তা প্রেক্ষাপটের সাথে মানানসই হয়।” তাঁর এই পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার পেছনে বাবার সামরিক জীবন ও মায়ের শিল্পমনা পরিবেশের বড় প্রভাব রয়েছে। প্রবল প্রতিকূল আবহাওয়ায় পাহাড়ের ঢালে শুটিং করার সময়ও তিনি কখনও পিছু হটেননি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এই অভিনেত্রী বর্তমানে দারুণ রোমাঞ্চিত। ‘কেজিএফ’ খ্যাত মহাতারকা যশের বিপরীতে ‘টক্সিক’ সিনেমায় কাজ করা তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় মাইলফলক। পরিচালক গীতু মোহনদাসের সাথে কাজ করতে গিয়ে তিনি অনেক নতুন কারিগরি বিষয় শিখছেন বলে জানান। এছাড়া পরিচালক প্রশান্ত নীল ও সুপারস্টার জুনিয়র এনটিআর-এর মতো মহাতারকাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তারই প্রমাণ। প্যান-ইন্ডিয়া চলচ্চিত্রের বর্তমান বাজার নিয়ে তিনি মনে করেন, শিল্পীদের জন্য এখন ভাষার সীমানা পেরিয়ে সারা ভারতের দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর শ্রেষ্ঠ সময়।
মন্তব্য