সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুন ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম

বিশ্বসঙ্গীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী কলম্বিয়ার গায়িকা, গীতিকার ও নৃত্যশিল্পী শাকিরা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক সংগীতাঙ্গনে সক্রিয়। লাতিন সংগীতকে আন্তর্জাতিক মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তবে তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতি গড়ে উঠেছে ফিফা বিশ্বকাপের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে, যেখানে তিনি একাধিক আসরে পারফরম্যান্স ও থিম সংয়ের মাধ্যমে বিশেষ উপস্থিতি রেখেছেন।
Table of Contents
শাকিরার বিশ্বকাপ যাত্রা কার্যত শুরু হয় ২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠানে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। যদিও সে বছর তিনি কোনো অফিসিয়াল থিম সং গায়েননি, তবুও তার উপস্থিতি বিশ্বকাপ মঞ্চে প্রথম বড় সম্পৃক্ততা হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে শাকিরা পরিবেশন করেন অফিসিয়াল থিম সং “Waka Waka (This Time for Africa)”, যা তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যান্ড Freshlyground-এর সঙ্গে গেয়েছিলেন। গানটি বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং ইতিহাসের অন্যতম সফল ক্রীড়া সংগীত হিসেবে বিবেচিত হয়। উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে তার পরিবেশনা বিশ্বকাপ মঞ্চে তাকে একটি স্থায়ী পরিচিতি এনে দেয়।
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে শাকিরা আবারও অংশ নেন এবং “La La La” শিরোনামের গানটি পরিবেশন করেন, যা ওই আসরের অন্যতম আলোচিত সংগীত ছিল। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে তিনি অফিসিয়াল থিম সংয়ের অংশ না হলেও বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম ও পারফরম্যান্সে যুক্ত ছিলেন।
| বিশ্বকাপ বছর | আয়োজক দেশ | ভূমিকা | উল্লেখযোগ্য গান/পারফরম্যান্স |
|---|---|---|---|
| ২০০৬ | জার্মানি | ফাইনাল পারফরম্যান্স | — |
| ২০১০ | দক্ষিণ আফ্রিকা | অফিসিয়াল থিম সং | Waka Waka (This Time for Africa) |
| ২০১৪ | ব্রাজিল | অফিসিয়াল গান | La La La |
| ২০১৮ | রাশিয়া | প্রমোশনাল অংশগ্রহণ | — |
শাকিরার বিশ্বকাপসংগীতের বৈশিষ্ট্য হলো বহুসাংস্কৃতিক উপাদানের সমন্বয়। তার গানে লাতিন ও আফ্রিকান সুরের মিশ্রণ, বৈশ্বিক ঐক্যের বার্তা এবং ক্রীড়ার উদ্দীপনা একত্রে উপস্থাপিত হয়। বিশেষ করে “Waka Waka” বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বেশি বিক্রিত এবং বহুল দর্শিত গান হিসেবে পরিচিত।
১৯৭৭ সালে কলম্বিয়ার বারানকিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন শাকিরা ইসাবেল মেবারাক রিপোল। অল্প বয়স থেকেই তিনি গান লেখা ও সুর তৈরির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তার প্রথম দুটি অ্যালবাম বাণিজ্যিকভাবে সফল না হলেও তিনি সংগীতচর্চা অব্যাহত রাখেন। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত “Pies Descalzos” অ্যালবাম তাকে লাতিন আমেরিকায় পরিচিতি এনে দেয়।
পরবর্তীতে ২০০১ সালে “Whenever, Wherever” গানটির মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি লাভ করেন। ২০০৬ সালে “Hips Don’t Lie” তার অন্যতম সফল বৈশ্বিক সংগীতে পরিণত হয়। এই সময় থেকেই তিনি লাতিন সংগীতকে বৈশ্বিক পপ ধারায় সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।
শাকিরা বর্তমানে বৈশ্বিক সংগীত অঙ্গনের একটি প্রতিষ্ঠিত নাম। ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরেও তিনি নতুন সংগীত ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আলোচনায় রয়েছেন। তার সাম্প্রতিক গান “Dai Dai”, যা নাইজেরীয় শিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে পরিবেশিত, এই আসরের অফিসিয়াল থিম সং হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। গানটিতে আফ্রোবিটস ও লাতিন পপের সংমিশ্রণ রয়েছে এবং এতে বিশ্বকাপের বৈশ্বিক ঐক্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
শাকিরার বিশ্বকাপ-সম্পৃক্ততা কেবল সংগীত পরিবেশনায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি তাকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া-সংস্কৃতির একটি পরিচিত মুখে পরিণত করেছে। তার ধারাবাহিক উপস্থিতি বিশ্বকাপের সংগীত ঐতিহ্যে একটি স্বতন্ত্র মাত্রা যোগ করেছে।
মন্তব্য