বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ বাপ্পা মজুমদার। সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীতপরিচালক হিসেবে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শ্রোতাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। দীর্ঘ এই পথচলায় তৈরি করেছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। পেয়েছেন শ্রোতাদের ভালোবাসা ও স্বীকৃতি। তবে আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে নানা অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম এবং জীবনের অনেক অজানা অধ্যায়।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে জীবিকার প্রয়োজনে হোটেলে গিটার বাজাতেন বাপ্পা। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে প্রথমবার গিটার বাজিয়ে জীবনের প্রথম পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন তিনি। সংগীতজীবনের সেই শুরুর দিনগুলো থেকে আজকের প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে পৌঁছানোর যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে নিজের মেধা ও নিষ্ঠায় সংগীতাঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন এই শিল্পী।
বাপ্পা মজুমদারের সংগীতজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ব্যান্ড দল ‘দলছুট’। প্রয়াত সংগীতশিল্পী সঞ্জীব চৌধুরীর সঙ্গে মিলে দলটি গঠন করেছিলেন তিনি। ব্যতিক্রমী গানের কথা, সুর ও পরিবেশনার মাধ্যমে অল্প সময়েই শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি পায় দলছুট। আগামী নভেম্বর মাসে ব্যান্ডটির পথচলার ৩০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ এই সময়ে দলের গান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে নিজস্ব একটি জায়গা তৈরি করেছে।
অডিও অ্যালবামের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানেও কাজ করেছেন বাপ্পা। প্রায় দুই দশক আগে সিনেমার গানের সঙ্গে যুক্ত হলেও এ মাধ্যমে তাঁর কাজের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এর পেছনের কারণও সম্প্রতি খোলামেলা জানিয়েছেন তিনি। বাপ্পার মতে, চলচ্চিত্রে গান করার ক্ষেত্রে শুধু সংগীতের দক্ষতা থাকলেই হয় না, প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সিনেমার গানের জন্য ‘যোগাযোগ’ থাকতে হয়। এ বিষয়ে আমি ভীষণ কাঁচা। যোগাযোগ না রাখতে পারলে সিনেমার গানে কাজ করার সম্ভাবনা কমে যায়।”
সম্প্রতি রুম্মান রশিদ খানের উপস্থাপনায় ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’ শীর্ষক পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন বাপ্পা মজুমদার। সেখানে নিজের সংগীতজীবনের নানা অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের এমন কিছু গল্পও তুলে ধরেছেন, যেগুলো অনেকের কাছেই অজানা। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সংগ্রাম, প্রথম পারিশ্রমিক পাওয়া এবং সংগীতাঙ্গনে দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতারা বাপ্পার পরিচিত সংগীতশিল্পী সত্তার বাইরেও তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে সংগীতজীবনের শুরুর দিনগুলো এবং চলচ্চিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর বক্তব্য অনুষ্ঠানটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’ অনুষ্ঠানটি আজ রাত ৯টায় মাছরাঙা টেলিভিশন ও রেডিও দিনরাত ৯৩.৬ এফএমে একযোগে প্রচারিত হবে।














