সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই জুলাই ২০২৩, ১:২৭ পিএম

বেহালা কেবল একটি কাঠের বাক্স নয়, বরং এটি সুরের এক অদ্ভুত জাদুকরী যন্ত্র। অনেক সময় আমরা মনে করি, শুধু আঙুল চালালেই বুঝি সুর বের হয়! কিন্তু সত্যিটা হলো, বেহালার প্রতিটি ছোট ছোট অংশ মিলে তবেই একটি মিষ্টি সুর তৈরি হয়। আপনি যদি বেহালা শেখার স্বপ্ন দেখেন, তবে সবার আগে যন্ত্রটির ‘শরীর’ বা গঠনটা চিনে নেওয়া খুব জরুরি। চলুন, একদম সহজ ভাষায় এর অন্দরমহলটা ঘুরে আসি।
একটি বেহালা দেখলে হয়তো প্রথমেই আপনার চোখ পড়বে এর সুন্দর নকশায়। কিন্তু এর প্রতিটি অংশের কাজ শুনলে অবাক হবেন:
স্ক্রল (Scroll): বেহালার একদম মাথার দিকে দেখুন, সুন্দর পেঁচানো একটি নকশা আছে। একে বলা হয় স্ক্রল। এটি মূলত যন্ত্রটির সৌন্দর্য বাড়ায়।
পেগস (Pegs): স্ক্রলের ঠিক নিচেই থাকে চারটা খিল বা পেগস। এগুলো দিয়ে আমরা তারের টান কমিয়ে বা বাড়িয়ে সুর বেঁধে বা টিউন করি।
ফিঙ্গারবোর্ড (Fingerboard): বেহালার বডির ওপর যে কালো রঙের লম্বা কাঠের অংশটি থাকে, সেটিই হলো ফিঙ্গারবোর্ড। এখানেই আপনার আঙুলগুলো নাচানাচি করবে এবং সুর তৈরি হবে।
ব্রিজ (Bridge): মাঝখানের ওই ছোট্ট কাঠের স্ট্যান্ডটিকে বলা হয় ব্রিজ। এটিই আসল কাজ করে—তারের কম্পনকে বেহালার ভেতরে পাঠিয়ে মিষ্টি সুর হিসেবে বের করে আনে।
এফ-হোল (f-hole): বেহালার বডিতে ‘f’ আকৃতির যে দুটি ছিদ্র দেখবেন, সেগুলোর নাম এফ-হোল। এগুলো না থাকলে সুরের সেই গভীরতা পাওয়া যেত না।
টেইলপিস (Tailpiece): তারগুলো শেষ পর্যন্ত যে জায়গায় এসে আটকানো থাকে, সেটাই টেইলপিস।
অনেকেই শুরুতে বেহালা বাজাতে গিয়ে হাত শক্ত করে ফেলেন। কিন্তু মনে রাখবেন, বেহালা বাজানোর মূলমন্ত্র হলো রিল্যাক্স থাকা। আপনার বাম হাতটি যদি ফিঙ্গারবোর্ডে হালকাভাবে রাখতে পারেন, তবেই আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আনন্দের সাথে সুর তুলতে পারবেন।
এছাড়া ধনুক বা ‘বো’-এর দিকেও নজর দেওয়া চাই। এতে থাকা চিকন তারগুলো (যাকে হেয়ার বলা হয়) এবং ধরার জায়গা বা ‘ফ্রগ’—এই সবকিছু মিলে তবেই সুরের ছন্দ তৈরি হয়। এগুলো ঠিকঠাক ব্যবহার করতে শিখলেই দেখবেন বেহালা আপনার বন্ধুর মতো কথা বলছে!
বেহালা আপনার প্রতি কত যত্নবান, তা নির্ভর করে আপনি যন্ত্রটিকে কতটা চিনছেন তার ওপর। এর প্রতিটি অংশ সম্পর্কে জানলে আপনার শেখার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস—দুটোই দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। ধৈর্য ধরে শিখুন, কারণ প্রতিটি মহান সুরের শুরু হয় একদম সাধারণ কিছু বিষয় থেকে।
মন্তব্য